প্রধানমন্ত্রী মোদি বললেন- বাংলায় টিএমসি একের পর এক ফাউল করে চলেছে

Main দেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: ফেব্রু ৭, ২০২১ @ ২৩:৫৩

এসপিটি নিউজ, হলদিয়া, ৬ ফেব্রুয়ারি: আজ পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় এক জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনায় সরবব হন। প্রধানমন্ত্রী বলেন- বাংলায় টিএমসি একের পর এক ফাউল করে চলেছে। একই সঙ্গে তারা পর্দার আড়ালে রাজনীতির ম্যাচ ফিক্সিং-এর খেলা শুরু করেছে বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে। একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও তোপ দাগতে ছাড়েননি।বলেন- ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে তিনি সরব হন না। তাদের উপর তিনি রাগ দেখান না। কিন্তু ভারতমাতার স্লোগান শুনলেই তিনি ক্রুদ্ধ হন। একই সংগে তিনি জানিয়ে দেন যে দেশ পুরো শক্তি নিয়ে এইসমস্থ ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে লড়বে।

াজ হলদিয়ার জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী মদি যে বিষয়গুলি তুলে তৃণমূল কংগ্রেস সহ বাগ্লার সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তা হল-

এখানে উন্নয়নের রাজনীতি হয়নি

“বিগত ১০ বছরে এখানকার সরকার কটা ফ্যাক্টরি উদ্বোধন করেছে? ওই বড় স্টিল প্ল্যান্টের কী হল? যা এখানকার অরাজকতার কারণে শুরুই হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের এই পরিস্থিতির আজ সবচেয়ে বড় কারণ হল এখানকার রাজনীতি। স্বাধীনতার পর যখন পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নকে নয়া দিশা দেখানোর প্রয়োজন ছিল তখন এখানে উন্নয়নের রাজনীতি হয়নি।”

তারা নৃশংসতার শিকার হয়ে গেল

“প্রথমে কংগ্রেসের শাসন চলেছে। দুর্নীতির আঁখড়া হয়েছে।পরে বাম শাসন দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। তারা দুর্নীতির সঙ্গে অত্যাচারকে জুড়ে দিয়েছিল। এখন তারা দুইজনেই একসঙ্গে এগোতে শুরু করেছে। উন্নয়নের পর তারা ব্রেক কষে দিয়েছে। ২০১১ সালে পুরো দেশের নজর বাংলার পর ছিল। বামেদের হিংসা আর দুর্নীতির চর্চা হয়। ওই সময় মমতা দিদি বাংলায় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ওনার এই প্রতিশ্রুতিতে গোটা দেশের নজর ছিল। লোক ভরসা করেছিল। মমতাদিদির দিকে চেয়েছিল। কিন্তু দশ বছর তাদের নৃশংসতা জুটেছে। মমতার অপেক্ষায় ছিল তারা নৃশংসতার শিকার হয়ে গেল।”

পরিবর্তন নয় দুর্নীতির পুনর্জীবন

“মমতা সরকারের প্রথম বছরেই এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে বাংলায় যা মিলেছে তা পরিবর্তন নয় এ তো বামেদের পুনর্জীবন। ও তো সুদ সমেত বামেদের পুবর্জীবন অর্থাৎ দুর্নীতির পুনর্জীবন। অপরাধ ও অপরাধীদের পুনর্জীবন। হিংসার পুনর্জীবন। লোকতন্ত্রের উপর হামলার পুনর্জীবন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে গরিব মানুষের সমস্যা আরও বেড়ে গেছে।”

ভারত মাতার স্লোগান দিলে উনি খেপে যান

“পুরনো শিল্পে তালা পড়ে যায়। নয়া শিল্প করার জন্য উৎসাহ দেখা যায়নি। কৃষকদের সুবিধা প্রদান করা হয়নি। সামনের দিনগুলিতে খুন-খারাবি হয়। যখন সরকারি চাকরি পার্টির লোক করে। তাহলে বাংলার যুবকদের চাকরি কিভাবে হবে।আপনারা দিদির কাছে নিজেদের অধিকারের কথা বলতে যাবেন দেখবেন উনি ক্রুদ্ধ হচ্ছেন। মেজাজ হারাচ্ছেন। এখানে ভারত মাতার স্লোগান দিলে উনি খেপে যান। কিন্তু দেশের বিরুদ্ধে গলা চড়ালে দিদির কিন্তু তখন রাগ হয় না।”

এইসব ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে দিদির মুখে একটাও কথা শুনেছেন কি?

“আপনারা টিভিতে দেখে থাকবেন যে ভারতকে বদনাম করার জন্য কত রকমের ষড়যন্ত্র সামনে আসছে। কত ধরনের ষড়যন্ত্রের জাল খুলছে। এখন তো এটাই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে কিভাবে ভারতের বদনাম করা যাবে কিভাবে ভারতের ছবিকে নষ্ট করা হবে যেখানে ষড়যন্ত্রকারীদের সংখ্যা এত বেশি যে তারা ভারতের উপর হামলা করার কথা বলতে শুরু করেছে। এরা ভারতীয় যোগের উপর হামলা করছে যেখানে ঋষি অরবিন্দ ও স্বামী বিবেকানন্দ ভারতকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছিল সেই যোগের উপর হামলা করা হচ্ছে। আপনারা এইসব ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে দিদির মুখে একটাও কথা শুনেছেন কি?”

দেশ এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে পুরো শক্তি নিয়ে জবাব দেবে

“আমি ষড়যন্ত্রকারীদের বলতে চাই- দেশ এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে পুরো শক্তি নিয়ে জবাব দেবে। আজ এদের ভারত মাতার নামে আওয়াজ তোলার সাহস নেই। সাহস এই কারণে নেই যে তারা গত কয়েক বছরে রাজনীতিকে অপরাধমুখী করে তুলেছে। দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক করে তোলা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে।”

গরিব মানুষ কি শুধু ভোটের জন্য

“আপনাদের স্মরণে থাকতে পারে যে মরিচঝাঁপি নৃশংসতা দেশ ভুলে যায়নি। নন্দীগ্রামে যারা গুলি চালিয়েছিল যারা গরিবের উপর আক্রমণ করেছিল হত্যা করেছিল আপনারা তাদের কেন পার্টিতে শামিল করছেন? বাংলা আজ জানতে চায় যে এখানকার গরিব মানুষ কি শুধু ভোটের জন্য?”

পিসি-ভাইপোকে হটানোর সিদ্ধান্ত আপনারা নিয়ে ফেলেছেন

“বাংলায় টিএমসি একের পর এক ফাউল করে চলেছে। মিস গভর্নর্সের ফাউল, বিরোধীদের উপর আক্রমণ ও হিংসার ফাউল, বাংলার মানুষের পয়সা লুঠ করার ফাউল, আস্থার উপর হয়ে চলার হামলার ফাউল। বাংলার মানুষ সব দেখছে। এজন্য বাংলায় তৃণমূলকে রামকার্ড দেখাতে চলেছে। এখন সময় বদলাতে চলেছে। পিসি-ভাইপোকে হটানোর সিদ্ধান্ত আপনারা নিয়ে ফেলেছেন। টিএমসি-র ওই সব সাথী যারা পিসি-ভাইপো বিষয়ে হয়রান হয়েছে তারাও আজ বাংলার সেবা করার জন্য ছটফট করছে।”

বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল রাজনীতির পিছনে ম্যাচ ফিক্সিং করছে

“আমি আশা করবো বাংলার প্রশাসন সংবিধান অনুযায়ী সঠিক কাজ করবে। তোলাবাজদের ভয় করার কোনও কারণ নেই। বিজেপি কার্যকর্তদের বলিদান এটাই প্রমাণ করছে যে এবার পরিবর্তন হবেই। আমাদের লরাই টিএমসি-র বিরুদ্ধে তো বটেই তবে এদের পিছনে লুকিয়ে থাকা এদের ব্যাপারে সাবধান থাকবেন। আপনারা জানেন খেলার আগে ম্যাচ ফিক্সিং হয়। এখন বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল রাজনীতির পিছনে ম্যাচ ফিক্সিং করছে। দিল্লিতে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল এক ঘরে বন্ধ দরজার পিছনে বসে। এক সঙ্গে বসে রণনীতি বানায়। কেরলে বাম-কংগ্রেস জোট বেঁধে ঠিক করে নিয়েছে যে পাঁচ বছর তুমি লূঠ করো আর পাঁচ বছর আমি লুঠবো। তাই বাম-কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার অর্থ হল পর্দার পিছনে যে খালা চলছে তার শিকার হয়ে যাওয়া।

Published on: ফেব্রু ৭, ২০২১ @ ২৩:৫৩


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

− 2 = 2