ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী সেহগালের আজ ১০৭তম জন্মদিন, ডাক্তারি পেশা ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন আইএনএ’তে

Main দেশ
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Published on: অক্টো ২৪, ২০২১ @ ২০:৫৪
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২৪ অক্টোবর:  একজন লড়াকু মহিলা হিসাবে দেশ আজও তাঁকে স্মরণ করবে। উচ্চ শিক্ষিতা এই মহিলা নিজের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের রানি ঝাঁসি রেজিমেন্টে। তিনি হলেন ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী সেহগল। এই নামেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত হলেও তাঁর পূর্বর্বর্তী নাম ছিল লক্ষ্মী স্বামীনাথন। আজ তাঁর ১০৭তম জন্মদিবস উদযাপিত হচ্ছে। কলকাতা বিমানবন্দর বিশেষভাবে এই মহীয়সী নারীর জন্মদিন উদযাপিত করেছে।

কলকাতা বিমানবন্দর তাদের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে লিখেছে-“আজাদীকা অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে, কলকাতা বিমানবন্দরে বিপ্লবী ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী সেহগালকে আজ তার জন্মবার্ষিকীতে অভিবাদন জানিয়েছে। ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনীর একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সর্বদা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।“

লক্ষ্মী সেহগালের পরিচয়

১৯১৪ সালের ২৪ অক্টোবর অবিভক্ত ভারতের মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) লক্ষ্মী স্বামীনাথন জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা এস. স্বামীনাথন মাদ্রাজ হাইকোর্টে অপরাধ আইন চর্চা করতেন। তার মা এ.ভি. অম্মুকুট্টি যিনি পরবর্তীতে অম্মু স্বামীনাথনরূপে পরিচিত, তিনি একজন সমাজকর্মী ছিলেন। পাশাপাশি কেরালার পালঘাট এলাকার আনাক্কারায় ঐতিহ্যবাহী বদক্কাথ পরিবার থেকে স্বাধীনতা কর্মী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

সেহগাল চিকিৎসাশাস্ত্রে আগ্রহী হন এবং ১৯৩৮ সালে তিনি মাস্রাজ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন।এক বছর পর গাইনোকোলজি    এবং অবস্টেট্রিক্স বিষয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেন । চেন্নাইয়ের ত্রিপলিক্যান এলাকার সরকারি কস্তুর্বা গান্ধী হাসপাতালে ডাক্তার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

আজাদ হিন্দ ফৌজে যোগদান

১৯৪০ সালে পি.কে.এন. রাও নামীয় একজন পাইলটের সাথে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে এবং সিঙ্গাপুরে চলে যান।পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে মার্চে লাহোরে পুনরায় কর্ণেল প্রেম সেহগালের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিবাহ-পরবর্তী সময়কাল তারা কানপুরে স্থায়ীভাবে আবাস গড়েন। সেখানে তিনি চিকিৎসা চর্চা শুরু করেন। সেইসময় তিনি ভারত ভাগের প্রেক্ষাপটে আগত ব্যাপক সংখ্যক শরণার্থীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।পরে তিনি তার লোভনীয় কর্মজীবন ত্যাগ করে ১৯৪৩ সালের ১৬ জুলাই আজাদ হিন্দ ফৌজের রানি ঝাঁসি রেজিমেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সেসময় এশিয়ায় সর্বপ্রথম এ ধরনের নারীবাহিনী ছিল এবং এক সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক উঠেছিল।  হয়ে । এ দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজের নারী সংগঠন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন। বিবাহ-পূর্ব সময়কালীন তার নাম ছিল লক্ষ্মী স্বামীনাথন। আজাদ হিন্দের এক সেনানায়ক প্রেম সেহগালকে বিবাহ করে তিনি লক্ষ্মী সেহগাল নামে পরিচিত হন তিনি। তাঁকে ভারতের জনগণ ক্যপ্টেন লক্ষ্মী হিসেবে চিনে থাকেন। বার্মার কারাগারে থাকার সময় র‍্যাঙ্ক হিসেবে তাকে এ পদবী দেয়া হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কে আর নারায়াণন তাকে পস্মবিভূষণে ভূষিত করেন।

নেতাজীর সঙ্গে দেখা

২৬  বছর বয়সী একজন তরুণ ডাক্তার হিসাবে, লক্ষ্মী ১৯৪০ সালে সিঙ্গাপুর চলে যান। তিন বছর পরে তিনি সুভাষ চন্দ্র বসুর সঙ্গে দেখা করবেন, এমন একটি সাক্ষাৎ যা তার জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছিল। “সিঙ্গাপুরে,” লক্ষ্মী মনে রেখেছিলেন, “কেপি কেসভা মেনন, এসসি গুহ, এন রাঘবন, এবং অন্যান্যদের মতো অনেক জাতীয়তাবাদী ভারতীয় ছিলেন, যারা কর্ম পরিষদ গঠন করেছিলেন। লক্ষ্মী বুঝেছিলেন জাপানিরা অবশ্য ভারতীয় ন্যাশনাল আর্মির প্রতি কোনো দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেবে না, বা তারা বলবে না কীভাবে আন্দোলনটি সম্প্রসারিত হবে, কীভাবে তারা বার্মায় যাবে, বা কীভাবে লড়াই হবে। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বিরক্ত হয়ে গেছে।”

লক্ষ্মী, যিনি এতদিন পর্যন্ত আইএনএ-র প্রান্তে ছিলেন, তিনি শুনেছিলেন যে নেতাজী সংস্থায় মহিলাদের খসড়া করতে আগ্রহী। তিনি সিঙ্গাপুরে আসার পর তিনি তার সাথে সাক্ষাতের জন্য অনুরোধ করেছিলেন এবং একটি মহিলা রেজিমেন্ট গঠনের আদেশ দিয়ে পাঁচ ঘন্টার সাক্ষাৎকার থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন, যাকে ঝাঁসি রেজিমেন্টের রানী বলা হত। অল-উইমেন ব্রিগেডে যোগ দেওয়ার জন্য মহিলাদের কাছ থেকে অসাধারণ সাড়া পেয়েছিলেন। ডা লক্ষ্মী স্বামীনাধন হয়ে গেলেন ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী, একটি নাম ও পরিচয় যা আজীবন তার সাথে থাকবে।

ছবিঃ কলকাতা বিমানবন্দরের সৌজন্যে

Published on: অক্টো ২৪, ২০২১ @ ২০:৫৪


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •