TAAB- এর নববর্ষ উদযাপনে ‘দেখো আমার বাংলা’ আয়োজনের প্রশংসায় পর্যটন মন্ত্রক

Main রাজ্য
শেয়ার করুন

  • বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে TAAB-এর অসাধারণ উদ্যোগ
  • বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি পর্যটনের দিক থেকে যা আছে সেটা কিন্তু অতুলনীয় – জ্যোতির্ময় বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর, ইন্ডিয়া ট্যুরিজম, কলকাতা
  • দেখো আমার বাংলা এখন দেখো আপনাদেশ-এর সাথে জুড়ে গিয়েছে। এর চেয়ে ভাল আর কি বা হতে পারে- রোশোনি সোনিয়া তিরকে, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর, ইন্ডিয়া ট্যুরিজম, কলকাতা
Published on: এপ্রি ১৭, ২০২৫ at ১০:৪১
Reporter: Aniruddh Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৬ এপ্রিল : বুধবার ১৬ এপ্রিল কলকাতায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন করল ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল বা ট্যাব। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা বাংলার হৃত গৌরব ফিরে পেতে ‘দেখো আমার বাংলা’ নামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে তারা বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে-ঐতিহ্যকে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছে ভারতের পর্যটন মন্ত্রক। মন্ত্রকের পূর্বাঞ্চল শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জ্যোতির্ময় বিশ্বাস জানিয়েছেন- বাংলার পর্যটনের এত কিছু আছে তা তুলে ধরতে ট্যাব-এর উদ্যোগ খুবই ভাল। এদিনের অনুষ্ঠানে “কানেক্ট বেঙ্গল”-এর প্রচার পুস্তিকারও উদ্বোধন হয়।

এদিন কলকাতায় ইণ্ডিয়া ট্যুরিজমের পর্যটন মন্ত্রকের পূর্বাঞ্চলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জ্যোতির্ময় বিশ্বাস বলেন- “শুভ নববর্ষ। পয়লা বৈশাখ। এই দিনটি পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, বাংলাদেশেও পালিত হয়। বাংলা নববর্ষের সূচনা গৌরারাজ শশাঙ্ক শুরু করেছিলেন। পরবর্তীকালে সম্রাট আকবর ইস্লামিক পঞ্জিকা এবং বাংলা নবর্ষকে এক্ত্রিত করে একটা কর আদায় করবার যে সঠিক পদ্ধতি ঠিক করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। এই যে খানে মূল থিম রাখা হয়েছে- ‘দেখো আমার বাংলা’। বাংলায় এত কিছু আছে – আমরা যদি দেখতে যাই যে একেবারে পাহাড় থেকে সমুদ্র পর্যন্ত এখানে দেখতে পারব, সারা বিশ্বের সব থেকে বেশি সব থেকে ভাল দার্জিলিং চা। সেটা আমাদের বাংলায় রয়েছে। ঘন জঙ্গল রয়েছে। উত্তরবঙ্গের এত মনোরম গভীর অরণ্য , অ্যাডভেঞ্চার এটা বিশ্বমানের বলা যেতেই পারে। তার পর আছে আমাদের সাহিত্যের ক্ষেত্র বলে খ্যাত –শান্তিনিকেতন , যা কিনা সারা বিশ্বের সাহিত্যের অঙ্গনে বিশেষ পরিচিত খ্যাতি আছে। এরপর দক্ষিণবঙ্গে এসে দেখতে পাই সুন্দরবন। যেখানে জলে কুমির আর ডাঙায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এমন সুন্দর জীব-বৈচিত্র্য আর কোথায় আছে বলতে পারেন?”

“ বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি পর্যটনের দিক থেকে যা আছে সেটা কিন্তু অতুলনীয়। তাকে তুলে ধরবার দায়িত্ব কিন্তু আপনাদেরও রয়েছে। আপনাদের এই অনুষ্ঠানে আমরা আসতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছি। আমরা আশা করব, ভবিষ্যতেও আপনারা পশ্চিমবঙ্গ তথা পূর্ব ভারতের পর্যটনের দিককে তুলে ধরবেন এবং আরও বেশি করে আকর্ষণ করবেন।“ বলেন জ্যোতির্ময় বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর, ইন্ডিয়া ট্যুরিজম, কলকাতা।

ইন্ডিয়া ট্যুরিজমের আর এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর রোশনি সোনিয়া তিরকে নিজের অভিব্যাক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন- বাংলা  নববর্ষের সূচনায় ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল যে ‘দেখো আমার বাংলা’ বলে বাংলাকে পর্যটনের মানচিত্রে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে তা সত্যি প্রশংসার যোগ্য। বাঙালি পর্যটকরা হলেন এলিট ট্রাভেলার। তারা সারা বিশ্বে ভ্রমণ করেন। ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। আমাদের ভারত পর্যটন মন্ত্রকের থেকেও থিম- দেখো আপনা দেশ। এর মাধ্যমেও আপনারা সারা দেশ দেখতে পারেন। দেখো আমার বাংলা এখন দেখো আপনাদেশ-এর সাথে জুড়ে গিয়েছে। এর চেয়ে ভাল আর কি বা হতে পারে।“

এদিন ট্যাব-এর উদ্যোগের প্রশংসা করে কলকাতায় ব্রিটিশ ডেপুটি হাই-কমিশনের প্রেস ও মিডিয়া হেড অমিত সেনগুপ্ত বলেন- ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল-এর এমন সুন্দর উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। ঠিকই, যে আগের নিজের রাজ্য ঘোরো। বাংলায় এত সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে যা পর্যটনের উপযুক্ত। সম্প্রতি তিনি তারাপীঠ গিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা শেয়রা করতে গিয়ে তিনি বলেন- নিজে গাড়ি চালিয়ে গিয়েছিলাম। দেখলাম রাস্তাঘাট খুবই ভাল। তবে সামনে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপস্থিত সকল ট্রাভেল এজেন্টদের সাস্টেইনেবল ট্যরিজম এবং সেই সাথে পর্যটন সহ নানা জায়গায় প্লাস্টিক বর্জনের বিষয়ে সচেতনতা গরে তোলার অনুরোধ জানান।

পর্যটন বিশেষজ্ঞ শমীক রায় এদিন বলেন- ‘দেখো মার বাংলা’ এই থিম নিয়ে এসে ট্যাব যে উদ্যোগ নিয়েছে তা খুবই প্রশংসনীয়। আমার মনে অনেকদিন ধরেই এই প্রশ্ন ঘুরেছে যে – এখানকার মানে আমাদের বাংলার ট্রাভেল এজেন্টরা রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, শ্রীলঙ্কা সহ অন্যান্য সব জায়গা বেচেন। কিন্তু আপনারা নিজেদের জায়গা তো তুলে ধরেন না। আজ ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল ‘দেখো আমার বাংলা’ নাম দিয়ে বাংলার প্রাচীন কৃষ্ট-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে তুলে ধরার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা দেখে আমার খুবই ভাল লাগছে।

ট্রাভেল এজেন্টস অ্যসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সভাপতি প্রশান্ত মাঝি বলেন- ১৫ এপ্রিল বাংলা শুভ নববর্ষ উদযাপন হয়েছে। পয়লা বৈশাখ। আজ অর্থাৎ ১৬ এপ্রিল আমরা এটি উদযাপন করছি। আমারদের থিম বা চিন্তা-ভাবনা হল- ‘দেখো আমার বাংলা’। বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে তুলে ধরার চেষ্টাগত বছর একই রকম অনুষ্ঠান করেছিলাম। এবছর আমরা লোকগান-লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরছি। একই সঙ্গে বাংলার প্রাচীন হস্তশিল্প  প্রদর্শনীরও আয়োজন করেছি। এর মাধ্যমে আমাদের বাংলার পর্যটনকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের যুগ্ম সম্পাদক উত্তম দাস বলেন- দেখো আমার বাংলা-কে সামনে রেখে আমরা ‘কানেক্ট বেঙ্গল’ নামে একটা বিটুবি ইভেন্ট করে আসছি গত তিন বছর ধরে। যেখানে ট্রাভেল কিংবা ট্যুরিজম ক্ষেত্রের ব্যবসায়ীরা নিজদের মধ্যে ব্যবসার আদান-প্রদান করে এই ক্ষেত্রটা সমৃদ্ধ করতে পারে। আমরা সেই সুযোগ করে দিয়েছি। এর পিছনে রয়েছে আমাদের বাংলার পর্যটনকে তুলে ধরা। এবার চতুর্থবার ইভেন্টটা হতে চলেছে হায়াত-এ আগামী ৯ জুলাই। আমরা এজন্য প্রচার শুরু করে দিয়েছি। আজই এর একটি প্রচারপত্রের সূচনা করা হয়েছে।

ট্যাব-এর আর এক যুগ্ম সম্পাদক স্বর্ণাভ পাল বলেন- ট্যাব-এর এই ইভেন্ট আজ আমরা এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি যেখানে বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি সকলেই জানতে পারে বুঝতে পারে। পর্যটনের ক্ষেত্রে যা একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে।

ট্যাব-এর সহ-সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন- আমাদের বাংলায় অনেক কিছু আছে। সেটাকে আমরা যদি আমাদের প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি তাহলে সেটা খুব ভাল হয়। সেই ক্ষেত্রে এঙ্গেজমেন্ট তৈরি হয়। স্ক্রিয়তা বাড়ে। যারা এর সাথে যুক্ত তারদেরও কিন্তু একটা অর্থনৈতিক উন্নতি সম্ভব হয়। পর্যটন মানেই শুধু মাত্র হোটেলিয়ার , গাড়ি মাত্র গাইড নয়। এল্কার যে মানুষরা রয়েছেন তাদেরকে জড়িয়ে নিয়ে যে পর্যটন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তাহলেই একমাত্র সম্ভব সাস্টেইনেবল পথে একটা নির্ভরযোগ্যতা তৈরি হয়। যেকারণে আপনারা দেখেছেন- কো-এক্সিস্ট মানে সবাই মিলে এক সঙ্গে বাঁচা।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ভারত পর্যটন মন্ত্রকের কলকাতা ইন্ডিয়া ট্যুরিজমের পূর্ব ভারতের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জ্যোতির্ময় বিশ্বাস ও রোশনি সোনিয়া তিরকে, মধ্যপ্রদেশ পর্যটনের কলকাতার আধিকারিক বোধিসত্ব চক্রবর্তী, প্রাক্তন আধিকারি অভিজিৎ ধর, ব্রিটিশ ডেপুটি হাই-কমিশনের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রেস ও মিডিয়া হেড অমিত সেনগুপ্ত,, এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাসের সুপ্রিয়া শিকারি,  ইউইএম-এর এইচও ডি সুমন বর্মন, অনুরাগ ব্যানার্জি,  ETAA-র কৌশিক ব্যানার্জি, HSTDNএর সোমা প্রামাণিক, TOWA-র পার্থ মুখার্জি ও বিশ্বজিৎ কর্মকার, ব্লু আই-এর সুব্রত ভৌমিক, আনন্দবাজার ট্যুরিস্ট স্পটের বাসব মুখার্জি, মহুল বাংলা ব্যান্ডের পার্থ মুখার্জি ।

এদিনের অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ ছিল মহুল বাংলা ব্যান্ডের লোকসংগীত। এছাড়াও কলা রশিকা ফাউন্ডেশনের শিল্পীরা তুলে ধরেন বাংলা তথা সারা দেশের নানা প্রান্তের লোকনৃত্যের নানা ঝলক। এছাড়াও ইমন মিউজিক অ্যকাডেমি’র খুদে শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশনাও ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

 

Published on: এপ্রি ১৭, ২০২৫ at ১০:৪১


শেয়ার করুন