
একটি হিমবাহধস কীভাবে তেরোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে একই বিপর্যয়ের শৃঙ্খলে টেনে নিল
Published on: সেপ্টে ৭, ২০২৬ at ১৫:০৩
✍️ অনিরুদ্ধ পাল । সংবাদ প্রভাকর টাইমস
এসপিটি নিউজ বিশেষ প্রতিবেদন: ২৬ আগস্ট ২০২৬। হিমালয়ের উত্তর ঢালে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ হিমবাহ ও ভূমিধসের অভিঘাত কয়েক মিনিটের মধ্যে নেমে এল ভোটেকোশী নদীর উপত্যকায়। বরফ, পাথর, কাদা ও জল মিশে তৈরি হল এক প্রবল ধ্বংসস্রোত। রসুয়াগঢ়ী, তিমুরে, সিয়াব্রুবেসি পেরিয়ে সেই স্রোত নেমে এল ত্রিশূলীর দিকে।
নদীর দুই তীরে যে বসতিগুলি বহু বছর ধরে গড়ে উঠেছিল, সেগুলি ধ্বংস হল। রাস্তা ভাঙল। সেতু ভেসে গেল। সীমান্তপথ বিচ্ছিন্ন হল। আর নদীর বুক ও তীর ঘেঁষে তৈরি হওয়া একের পর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প পরিণত হল উদ্ধারকাজের সবচেয়ে কঠিন ক্ষেত্রগুলির একটিতে।
নেপাল সরকারের ৬ সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতি-প্রতিবেদন বলছে, রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিংসহ নদীপথের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি, রাস্তা, সেতু, জলবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১২তম দিনেও উদ্ধারকাজ চলছিল। তখন পর্যন্ত ১৩,১০৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল, প্রায় ৫,০০০ মানুষ নিখোঁজ ছিলেন এবং ১,৩৪১টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু এই বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত মৃতের সংখ্যা বা ধ্বংসের হিসাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
প্রশ্নটি আরও গভীরে— যে নদী থেকে নেপাল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভবিষ্যৎ দেখতে চেয়েছিল, সেই নদীর প্রকৃতিকে কতটা বুঝে তার বুকের উপর একের পর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছিল?
আরও বড় প্রশ্ন— একটি প্রকল্প বিপদের মুখে পড়লে তার নীচে থাকা পরের প্রকল্পটির ঝুঁকি কতটা বেড়ে যায়?
এই প্রশ্নের উত্তরেই লুকিয়ে আছে “জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন” এবং “পর্বতঝুঁকি”-র সংঘাতের আসল গল্প।
হিমালয়ের নদী কেন বিদ্যুৎ উৎপাদনের এত বড় ভরসা?
নেপাল একটি পাহাড়ি দেশ। তার উত্তরভাগে বিশাল হিমালয়, অসংখ্য হিমবাহ, গভীর উপত্যকা এবং প্রবল ঢালু নদী। ফলে নদীর জল যখন উচ্চতা থেকে নীচে নামে, তখন তার গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই কারণেই নেপালের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে জলবিদ্যুৎ। কিন্তু এই সুবিধার সঙ্গে একটি স্বাভাবিক ঝুঁকিও জড়িয়ে আছে।
যে নদী বিদ্যুৎ দেয়, সেই নদীই আবার পাহাড়ের বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ বহন করে আনতে পারে। ২৬ আগস্টের বিপর্যয় এই দ্বৈত বাস্তবতাকে ভয়াবহভাবে সামনে এনে দিয়েছে।
ত্রিশূলী উপত্যকা—এক নদী, বহু প্রকল্প
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহায়তা সংস্থার নথিতে ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সমষ্টিগত প্রভাব নিয়ে বহু আগেই আলোচনা হয়েছিল।
নথি অনুযায়ী, ওই অববাহিকায় ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু ছিল এবং আরও ১৮টি প্রকল্প নির্মাণের অনুমোদন পেয়েছিল। একই নদী ব্যবস্থায় একের পর এক প্রকল্প তৈরি হলে নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ, পলি বহন, নদীর জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় মানুষের উপর সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে—এমন সতর্কতাও নথিতে ছিল। অর্থাৎ আজকের প্রশ্নটি সম্পূর্ণ নতুন নয়। ঝুঁকির ধারণা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু ২৬ আগস্ট দেখিয়ে দিল, সেই ঝুঁকি শুধু পরিবেশগত নয়।
এটি হতে পারে—
- মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি,
- কর্মীদের প্রাণহানির ঝুঁকি,
- বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি,
- সুড়ঙ্গে মানুষ আটকে পড়ার ঝুঁকি,
- সড়ক ও সেতু বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি,
- একটি প্রকল্পের ধ্বংসাবশেষ নীচের প্রকল্পকে বিপদে ফেলার ঝুঁকি।
তেরোটি প্রকল্প কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নেপাল সরকারের ৫ সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতি-প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং দুটি বিদ্যুৎ সঞ্চালনপথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৫৫ কিলোমিটার সড়ক, ৩৭টি যান চলাচলযোগ্য সেতু এবং ৬৮টি ঝুলন্ত সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে।
এটি কোনও একটি প্রকল্পের দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি সম্পূর্ণ নদী-উপত্যকা ব্যবস্থার উপর আঘাত। আর এখানেই “জলবিদ্যুৎকেন্দ্র” শব্দটির অর্থ বদলে যায়। কারণ একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প মানে শুধু একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র নয়। তার সঙ্গে থাকে— জলধারণ বা জলনিয়ন্ত্রণ কাঠামো, জলপ্রবেশের মুখ, পলি পৃথকীকরণ ব্যবস্থা, দীর্ঘ সুড়ঙ্গ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সংযোগ রাস্তা, কর্মী আবাসন, সেতু এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা। এই পুরো কাঠামোর একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্য অংশগুলিও অচল হয়ে যেতে পারে।
রসুয়াগঢ়ী থেকে ত্রিশূলী—ধ্বংসের শৃঙ্খল
রয়টার্সের ৩১ আগস্টের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলির মধ্যে ছিল—
- রসুয়াগঢ়ী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প — ১১১ মেগাওয়াট
- চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প — ২২ মেগাওয়াট
- উচ্চ ত্রিশূলী–১ — ২১৬ মেগাওয়াট
- উচ্চ ত্রিশূলী–৩এ — ৬০ মেগাওয়াট
- উচ্চ ত্রিশূলী–৩বি — ৩৭ মেগাওয়াট
- লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
- মেইলুং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
এছাড়াও ত্রিশূলী ও দেবীঘাটের মতো আরও পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থাৎ একই নদীপথের উপর ছোট-বড়, চালু ও নির্মীয়মাণ—বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকল্প পাশাপাশি অবস্থান করছিল। এই বিন্যাসই তৈরি করেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি—
একটি নদী, একাধিক প্রকল্প, একাধিক সম্ভাব্য দুর্বল জায়গা।
“ধারাবাহিক ঝুঁকি”—বিপদের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ
৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নেপালের একটি বিশ্লেষণে এই সমস্যাকে নদীপথের ধারাবাহিক ঝুঁকি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ভাবুন একটি পাহাড়ি নদীর পাশে পরপর কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। উজানে একটি প্রকল্পের কোনও অংশ ভেঙে গেল। সঙ্গে এল—
জল + পাথর + কাদা + লোহা + কংক্রিট + গাছ + যন্ত্রপাতি।
এই ধ্বংসাবশেষ নীচের প্রকল্পে পৌঁছলে সেটি আর শুধু প্রাকৃতিক বন্যার মুখোমুখি থাকে না। তখন তার সামনে থাকে প্রাকৃতিক স্রোত এবং উপরের প্রকল্পের ধ্বংসাবশেষ—দুটিই।
নেপালের এই সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থায় পরপর সাজানো প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে এই ধরনের সম্মিলিত বিপদকে পুরো অববাহিকাকে একটি একক ঝুঁকি-ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে পরিকল্পনা করা হয়নি। এটাই হয়তো এই বিপর্যয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
নদীকে আলাদা আলাদা প্রকল্পে ভাগ করা যায়, কিন্তু বিপদকে নয়
একটি প্রকল্পের নকশা করা হয় নির্দিষ্ট জায়গাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু নদীর কোনও সীমানা নেই। উজানে যে ঘটনা ঘটে, তার প্রভাব ভাটিতে পৌঁছয়। এই সাধারণ সত্যটি পাহাড়ি নদীর ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তীব্র ঢাল এবং সরু উপত্যকায় জলের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাথর ও কাদা নেমে এলে তার শক্তি অনেক বেশি হতে পারে। ২৬ আগস্টের ঘটনাই তার প্রমাণ।
উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের ধস থেকে উৎপন্ন স্রোত রসুয়াগঢ়ী পেরিয়ে নীচের দিকে এগিয়েছে এবং ত্রিশূলী উপত্যকার বহু স্থানে ভয়াবহ ক্ষতি করেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণও জানিয়েছে, ঘটনাটি ছিল একটি বৃহৎ বরফ-পাথর-জলধারার ধ্বংসস্রোত, যার প্রভাব প্রায় একশো কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।
সুড়ঙ্গ—যা নিরাপদ আশ্রয়ও, আবার মৃত্যুফাঁদও
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল পাহাড়ের ভিতরের দীর্ঘ সুড়ঙ্গ। সাধারণ সময়ে এই সুড়ঙ্গ জল পরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভয়াবহ বন্যার সময় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। যদি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ কাদা-পাথরে বন্ধ হয়ে যায়, মানুষ ভিতরে আটকে পড়তে পারেন। ২৬ আগস্টের পর সেটিই ঘটেছিল একাধিক প্রকল্পে।
রয়টার্স জানিয়েছিল, প্রায় ৯০০ জন কর্মী ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে বা নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। এই সংখ্যার গুরুত্ব বোঝার জন্য একটি ঘটনা যথেষ্ট।
নয় দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত ফিরলেন দুই কর্মী
উচ্চ ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে পড়েছিলেন দুই কর্মী। সঞ্জয় সাহ ও কবীর মহার্জন। প্রবল ধ্বংসস্রোতের পরে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ প্রায় ১৭০ মিটার পুরু কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্তরের নীচে চাপা পড়েছিল বলে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন। নয় দিন পরে তাঁদের জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এই উদ্ধার অভিযান শুধু একটি মানবিক সাফল্য নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত শিক্ষা। পাহাড়ের ভিতরের কাঠামো, সুড়ঙ্গের মানচিত্র, বিকল্প প্রবেশপথ এবং প্রকল্পের প্রকৌশল সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধারকারীদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এই ঘটনা তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
নেপাল সরকারের ৬ সেপ্টেম্বরের হিসাবেও বলা হয়েছে, উচ্চ ত্রিশূলী-১, উচ্চ ত্রিশূলী-৩এ, উচ্চ ত্রিশূলী-৩বি, চিলিমে, রসুয়াগঢ়ী ও লাংটাংসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বিশেষ সুড়ঙ্গ-উদ্ধার দল কাজ করছে।
একটি আশ্চর্য শিক্ষা—বাইরে পালানোই সবসময় নিরাপদ ছিল না
উচ্চ ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের সাবেক প্রধান বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কর্তা কুলমান ঘিসিংয়ের সঙ্গে কথোপকথনে কাঠমান্ডু পোস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিপদের সময় প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে কর্মীদের দ্রুত সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন কর্মী বাইরে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু বাইরে বেরোনোর পর তাঁদের অনেকে আকস্মিক জলস্রোতের মধ্যে পড়ে যান।
অন্যদিকে দুজন কর্মী সুড়ঙ্গের অপেক্ষাকৃত উঁচু অংশে উঠে বেঁচে থাকতে সক্ষম হন। সুড়ঙ্গের একটি অংশে বাতাস আটকে ছিল বলেই তাঁরা এতদিন বেঁচে থাকতে পেরেছিলেন। এই ঘটনা থেকে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠে আসে—
প্রবল আকস্মিক বন্যার ক্ষেত্রে কখন বাইরে বেরোনো নিরাপদ এবং কখন সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ অংশে থাকা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ—এই সিদ্ধান্ত কি প্রতিটি প্রকল্পে আগে থেকেই বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারিত আছে?
নিরাপত্তার নকশা কি পুরনো বন্যার হিসাবেই আটকে ছিল?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনই সরাসরি “না” বলা যাবে না। কারণ প্রতিটি প্রকল্পের নকশা, অনুমোদন এবং নিরাপত্তা-ব্যবস্থা আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কিন্তু ২৬ আগস্টের ঘটনা একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে— অতীতের সর্বোচ্চ বন্যার হিসাব ভবিষ্যতের সর্বোচ্চ বিপদের সমান নাও হতে পারে। কারণ এবার শুধু নদীর জল বাড়েনি। তার সঙ্গে এসেছে—
- বরফ,
- বিশাল পাথর,
- পাহাড়ি মাটি,
- গাছ,
- নির্মাণসামগ্রী,
- যানবাহন,
- সেতুর অংশ,
- ভবনের ধ্বংসাবশেষ।
অর্থাৎ এটি ছিল শুধু জলবন্যা নয়। এটি ছিল ধ্বংসাবশেষ-বাহী প্রবল পাহাড়ি স্রোত। তাই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা-নকশায় শুধু জলের উচ্চতা নয়, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের আঘাতের শক্তিও বিবেচনা করতে হবে।
হিমবাহ বদলালে জলবিদ্যুতের ঝুঁকি কি বাড়বে?
এখানেও সতর্ক বৈজ্ঞানিক অবস্থান প্রয়োজন। ২৬ আগস্টের ঘটনাকে সরাসরি শুধুমাত্র জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলা এখনও বৈজ্ঞানিকভাবে চূড়ান্ত নয়। তবে হিমবাহের পরিবর্তন, উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বরফ গলন, হিমবাহ-হ্রদের বিস্তার এবং আকস্মিক জলস্রোতের সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ রয়েছে।
কুলমান ঘিসিংও সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, হিমবাহ গলা, হিমবাহ-হ্রদের বিস্তার এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির নিরাপত্তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
অর্থাৎ প্রশ্নটি শুধু— “এই প্রকল্প আজ নিরাপদ কি না?”
এখন প্রশ্ন হওয়া উচিত— “পরবর্তী ২০, ৩০ বা ৫০ বছর পর এই প্রকল্প একই ভূপ্রকৃতিতে কতটা নিরাপদ থাকবে?”
নেপালের অর্থনীতির সামনে বড় দ্বন্দ্ব
নেপালের জন্য জলবিদ্যুৎ শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয় নয়। এটি অর্থনীতি। বিদ্যুৎ রপ্তানি। বিনিয়োগ। কর্মসংস্থান। স্থানীয় উন্নয়ন। বিদেশি মুদ্রা অর্জন। ফলে ২৬ আগস্টের পর “সব জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করে দিতে হবে”—এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মতও নয়, প্রয়োজনীয়ও নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—
কোন প্রকল্প কোথায়? কোন নদীর কোন অংশে? কোন প্রকল্পের নীচে আরেকটি প্রকল্প রয়েছে কি না? উজানে হিমবাহ বা ভূমিধসের সম্ভাবনা কতটা? প্রকল্পের কর্মীদের জন্য বিকল্প নিরাপদ পথ আছে কি? প্রবল বন্যার সময় বিদ্যুৎকেন্দ্র খালি করার পরিকল্পনা কী? সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে পড়লে উদ্ধারকারীরা কত দ্রুত পৌঁছতে পারবেন?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর ছাড়া শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো উন্নয়নের সম্পূর্ণ ছবি হতে পারে না।
তেরোটি প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত—কিন্তু পুরো জলবিদ্যুৎ খাত কি বিপদে?
এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য করা প্রয়োজন।
৭ সেপ্টেম্বরের কাঠমান্ডু পোস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বন্যায় রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিংয়ে প্রায় এক ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু দেশের সব জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ক্ষতি মূলত নির্দিষ্ট নদীপথের কয়েকটি প্রকল্পে কেন্দ্রীভূত।
অর্থাৎ— সমস্যা “জলবিদ্যুৎ” নামের প্রযুক্তিতে নয়।
সমস্যা হতে পারে ভুল জায়গায়, ভুল ঝুঁকি-মানচিত্রে, পর্যাপ্ত সম্মিলিত পরিকল্পনা ছাড়া জলবিদ্যুৎ উন্নয়ন। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আগেই কি সতর্কতা ছিল?
হ্যাঁ—অন্তত পরিবেশগত ও নদী-ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাব নিয়ে সতর্কতা ছিল। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহায়তা সংস্থার নথিতে ত্রিশূলী অববাহিকায় একাধিক প্রকল্পের ফলে—
- নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বদলানো,
- পলি পরিবহণের ধরন পরিবর্তন,
- জলজ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি,
- নদীর বাস্তুতন্ত্রের খণ্ডিত হওয়া,
- স্থানীয় মানুষের উপর সম্মিলিত চাপ
ইত্যাদি ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু ২৬ আগস্ট আরও একটি মাত্রা যোগ করেছে— প্রাকৃতিক বিপদের সঙ্গে একাধিক প্রকল্পের সম্মিলিত বিপদ। এটাই হয়তো এখন সবচেয়ে জরুরি পুনর্মূল্যায়নের জায়গা।
উন্নয়ন কি নদীর বিরুদ্ধে, নাকি নদীর সঙ্গে?
এই প্রশ্নের উত্তর সরল নয়। হিমালয়ের নদী থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া কোনও বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। কারণ নেপালের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অর্থনীতির সঙ্গে জলবিদ্যুৎ গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু নদীকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে দেখাও বিপজ্জনক। নদী একটি জীবন্ত ভূপ্রাকৃতিক ব্যবস্থা।
তার সঙ্গে যুক্ত— হিমবাহ → পাহাড় → ঢাল → নদী → পলি → সেতু → বসতি → জলবিদ্যুৎ → কৃষি → পর্যটন। একটির পরিবর্তন অন্যটির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হওয়া উচিত— একটি প্রকল্পের নয়, পুরো নদী অববাহিকার পরিকল্পনা।
তাহলে কী বদলানো দরকার?
এক. নদীভিত্তিক সমন্বিত বিপদ–মানচিত্র
প্রতিটি প্রকল্পের আলাদা মানচিত্র যথেষ্ট নয়। পুরো নদী অববাহিকাকে একসঙ্গে দেখে চিহ্নিত করতে হবে—
- হিমবাহধসের সম্ভাব্য অঞ্চল,
- ভূমিধসপ্রবণ ঢাল,
- আকস্মিক বন্যার পথ,
- ধ্বংসাবশেষের সম্ভাব্য প্রবাহপথ,
- নদীর পুরনো গতিপথ,
- অস্থায়ী হ্রদ তৈরির সম্ভাব্য স্থান,
- প্রকল্পের নীচের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।
দুই. এক প্রকল্পের বিপদ যেন পরের প্রকল্পের বিপদ না হয়ে ওঠে
উজানের একটি প্রকল্পের কোনও অংশ ভেঙে গেলে তার ধ্বংসাবশেষ নীচের প্রকল্পে কতটা পৌঁছতে পারে—এটি নতুন করে হিসাব করতে হবে। শুধু “আমার প্রকল্প নিরাপদ” বললে হবে না। প্রশ্ন হবে— আমার প্রকল্পের উপরের এবং নীচের প্রকল্পগুলিও কি নিরাপদ?
তিন. সুড়ঙ্গের জন্য নতুন উদ্ধার–নিরাপত্তা ব্যবস্থা
প্রতিটি প্রকল্পে থাকতে হবে—
- বিকল্প প্রবেশপথ,
- উঁচু নিরাপদ আশ্রয়,
- জরুরি আলো,
- বাতাসের ব্যবস্থা,
- পানীয় জলের মজুত,
- জরুরি যোগাযোগ,
- সুড়ঙ্গের পূর্ণ নকশা,
- উদ্ধারকারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ।
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— উদ্ধারকারী দল যেন বিপদের প্রথম দিনেই সুড়ঙ্গের সম্পূর্ণ নকশা হাতে পায়।
চার. কর্মীদের নিরাপত্তাকে প্রকল্পের সমান গুরুত্ব
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যন্ত্রপাতির মূল্য কোটি কোটি টাকা হতে পারে। কিন্তু কোনও যন্ত্রের মূল্য একজন মানুষের জীবনের চেয়ে বেশি নয়। ২৬ আগস্টের পর এই কথাটি নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে সুড়ঙ্গে আটকে থাকা কর্মীদের ঘটনা। নির্মাণকাজ চলাকালীন কর্মীরা কোথায় থাকবেন, কোথায় নিরাপদে সরে যাবেন, কোন পথে বেরোবেন—এসব পরিকল্পনা প্রকল্পের অনুমোদনের সময়ই বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।
পাঁচ. নদীর পাশে প্রকল্প মানেই নিষিদ্ধ নয়
এখানেও অতিরঞ্জিত সিদ্ধান্ত এড়ানো জরুরি। হিমালয়ের সব নদীর পাশে কোনও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প করা যাবে না—এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু— উচ্চ ঝুঁকির নদীখাত, সক্রিয় ধসের পথ, ধ্বংসস্রোতের সম্ভাব্য পথ এবং অতি ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীর থেকে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশকে দূরে রাখার নীতি প্রয়োজন। অর্থাৎ লক্ষ্য হবে— নদীকে ভয় পাওয়া নয়, নদীর আচরণ বুঝে উন্নয়ন করা।
ছয়. নতুন প্রকল্পের আগে পুরনো প্রকল্পের নিরাপত্তা পরীক্ষা
২৬ আগস্টের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির একটি হওয়া উচিত পুরনো প্রকল্পগুলির পুনর্মূল্যায়ন।
বিশেষ করে—
- কত বছরের বন্যার হিসাব ধরে নকশা হয়েছিল?
- এখনকার হিমবাহের পরিস্থিতি কী?
- নদীর গতিপথ বদলেছে কি?
- পাহাড়ের ঢাল আগের মতো স্থিতিশীল কি?
- প্রকল্পের প্রবেশপথ কোথায়?
- জরুরি অবস্থায় কর্মীরা কোথায় যাবেন?
- নীচের বসতিতে জল বা ধ্বংসাবশেষ পৌঁছতে কত সময় লাগবে?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর ছাড়া শুধু নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া উচিত কি না—তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
সবচেয়ে বড় শিক্ষা—জলবিদ্যুৎ নয়, উন্নয়নের ধরনকে প্রশ্ন করুন
২৬ আগস্টের বিপর্যয়কে শুধু “প্রকৃতির রোষ” বলে শেষ করে দিলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হারিয়ে যাবে। কারণ প্রকৃতি ভয়াবহ ছিল—এটি সত্য। কিন্তু মানুষ কোথায় রাস্তা বানিয়েছে, কোথায় বসতি করেছে, কোথায় সেতু বানিয়েছে, কোথায় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করেছে—সেটিও ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করে। প্রকৃতিকে থামানো সম্ভব নয়।
কিন্তু ঝুঁকির জায়গায় মানুষের উপস্থিতি কতটা থাকবে, তা অনেকাংশে মানুষের সিদ্ধান্ত।
আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
হিমালয়ের নদী কি বিদ্যুৎঘর, নাকি বিপদের ঘর? উত্তরটি হয়তো—দুটিই। নদী বিদ্যুৎ দিতে পারে। নদী অর্থনীতি গড়তে পারে। নদী কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। নদী একটি দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে। কিন্তু একই নদী— হিমবাহের বরফ, পাহাড়ের পাথর, ধসের মাটি, গাছ, কাদা, ধ্বংসাবশেষ সবকিছু একসঙ্গে বয়ে আনতে পারে। তাই আসল বিপদ নদী নয়।
আসল বিপদ হল নদীকে না বুঝে নদীর শক্তির উপর নির্ভর করে উন্নয়ন তৈরি করা।
শেষ কথা
২৬ আগস্টের ধ্বংসস্রোত শুধু ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নেয়নি। এটি নেপালের উন্নয়ন-ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। যে নদী থেকে আগামী দিনের বিদ্যুৎ আসবে, সেই নদীর আগামী দিনের বিপদকে কি উন্নয়নের হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে?
যদি উত্তর “হ্যাঁ” হয়, তবে সেই হিসাব এখন প্রকাশ্যে আসা দরকার। আর যদি উত্তর “না” হয়, তবে ২৬ আগস্টের বিপর্যয়কে শেষ সতর্কবার্তা হিসেবে নিতে হবে। কারণ আজ যে নদীর তীরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দাঁড়িয়ে আছে, আগামীকাল সেই নদীর চরিত্র বদলে যেতে পারে। হিমবাহ বদলাতে পারে। পাহাড় ভাঙতে পারে। নদীর গতিপথ বদলাতে পারে। নতুন হ্রদ তৈরি হতে পারে। অতএব— হিমালয়ে উন্নয়নের ভবিষ্যৎ শুধু কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি হবে, তার হিসাব নয়।
প্রশ্ন হবে—সেই বিদ্যুৎকেন্দ্র কতটা নিরাপদ থাকবে, কতটা মানুষকে নিরাপদ রাখবে এবং একটি অস্বাভাবিক পাহাড়ি বিপর্যয়ের সময় কতটা টিকে থাকতে পারবে।
২৬ আগস্টের পর হিমালয় যেন সেই প্রশ্নটাই রেখে গেছে।
বিদ্যুৎ চাই—অবশ্যই।
উন্নয়ন চাই—অবশ্যই।
কিন্তু তার সঙ্গে চাই— নদীকে বোঝার জ্ঞান, পাহাড়কে সম্মান করার বোধ এবং মানুষের জীবনকে সব উন্নয়নের উপরে রাখার সাহস।
তথ্য ও সূত্র
এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে নেপাল সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতি-প্রতিবেদন, নেপাল সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহায়তা সংস্থার ত্রিশূলী অববাহিকা সংক্রান্ত পরিবেশ ও সমষ্টিগত প্রভাব মূল্যায়ন, রয়টার্সের ৩১ আগস্ট ও ৪ সেপ্টেম্বরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, কাঠমান্ডু পোস্টের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন এবং নেপালের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন ব্যবহার করা হয়েছে।
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নেপাল সরকারের হিসাবে: ১৩,১০৪ জন উদ্ধার, প্রায় ৫,০০০ জন নিখোঁজ এবং ১,৩৪১টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে বিশেষ উদ্ধারদল এখনও কাজ করছে এবং উচ্চ ত্রিশূলী-১, উচ্চ ত্রিশূলী-৩এ, উচ্চ ত্রিশূলী-৩বি, চিলিমে, রসুয়াগঢ়ী ও লাংটাংসহ একাধিক প্রকল্পে অনুসন্ধান চলছে।
আর ৫ সেপ্টেম্বরের সরকারি মূল্যায়নে ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং দুটি বিদ্যুৎ সঞ্চালনপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
পরবর্তী পর্ব
পর্ব ৮ | সতর্কবার্তা কোথায় হারাল?
হিমবাহ ভাঙার শব্দ যদি পাহাড়ের ওপরে শোনা যায়, তাহলে নদীর তীরের মানুষ কেন সময়মতো জানতে পারলেন না?
হিমালয়ের হুঁশিয়ারি
ভোটেকোশী থেকে ত্রিশূলী — এক বিপর্যয়ের অন্তরালে
একটি নয় পর্বের অনুসন্ধানী ধারাবাহিক
লিখছেন অনিরুদ্ধ পাল
Published on: সেপ্টে ৭, ২০২৬ at ১৫:০৩




