নিউরোরোগীদের জন্য মিউজিক থেরাপি চালু করবে মণিপাল হাসপাতাল সল্টলেক

Main দেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

সংগীত এমন এক ভাষা, যা হৃদয়ের গভীরে পৌঁছাতে পারে। যারা উদ্বেগ, বিষন্নতা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী নিউরো সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন, তাঁদের জন্য মিউজিক থেরাপি হতে পারে এক আলোর দিশা।“

–ইন্দ্রানী সেন, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী

Published on: জুন ২১, ২০২৫ at ২১:৫২

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২১জুন : বিশ্বসংগীত দিবস উপলক্ষে মণিপাল হাসপাতাল, সল্টলেক একটি হৃদয় ছোঁয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে সংগীতের নিরাময় শক্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল হাসপাতালের ঘোষণা – নিউরোলজিক্যাল সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে মিউজিক থেরাপি।

এই বিশেষ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও সঞ্চালনা করেন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, নিউরোলজি বিভাগের ডঃ অংশু সেন। তিনি জানান, “সংগীত আমার জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমি চিকিৎসক হিসেবে দেখেছি, সংগীত কীভাবে আশা ফিরিয়ে আনতে পারে ও মনের গভীরে শান্তি এনে দিতে পারে। মিউজিক থেরাপি ওষুধের বিকল্প নয়, তবে এটি একটি সহায়ক থেরাপি, যা রোগীর আরোগ্য যাত্রায় দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী ইন্দ্রাণী সেন, যিনি বলেন, “সংগীত এমন এক ভাষা, যা হৃদয়ের গভীরে পৌঁছাতে পারে। যারা উদ্বেগ, বিষন্নতা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী নিউরো সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন, তাঁদের জন্য মিউজিক থেরাপি হতে পারে এক আলোর দিশা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ৫.৬ কোটি মানুষ বিষন্নতায় ভোগেন। এই প্রেক্ষাপটে মণিপাল হাসপাতালের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।”

সঙ্গীতজ্ঞ শমিক পাল বলেন,    “সংগীত মানসিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিউরো চিকিৎসার মধ্যে সংগীতকে অন্তর্ভুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।”

অনুষ্ঠানে নিউরোরোগী, তাঁদের পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক এবং সঙ্গীতশিল্পীরা একত্রিত হয়ে সংগীতের মাধ্যমে নিরাময়ের শক্তি নিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

মিউজিক থেরাপি –র মাধ্যমে স্ট্রোক রোগীদের ভাষা ও কথা বলার ক্ষমতা উন্নত করা, পারকিনসন্স রোগীদের হাঁটা ও ব্যালান্স উন্নত করা, এবং আলঝেইমার্স রোগীদের মধ্যে হতাশা ও উত্তেজনা কমানো সম্ভব — এমনই বলছে বৈজ্ঞানিক গবেষণা। এটি রোগীদের মানসিক দৃঢ়তা এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা ও বৃদ্ধি করে, ফলে জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।

Published on: জুন ২১, ২০২৫ at ২১:৫২


শেয়ার করুন