
“মুসলমানরা ভারতীয়দের হিন্দু নাম দিয়েছিল”—এটি কি সম্পূর্ণ সত্য?
Published on: অক্টো ১৯, ২০২৬ at ১১:০০
✍️ লিখছেন অনিরুদ্ধ পাল। সংবাদ প্রভাকর টাইমস
এসপিটি বিশেষ প্রতিবেদন: একটি শব্দের ইতিহাস কখনও কখনও একটি সভ্যতার ইতিহাসের দরজা খুলে দেয়। ‘হিন্দু’ শব্দটির ইতিহাসও তেমনই। আজ এই শব্দটি একটি বৃহৎ ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু প্রাচীনকালে শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হতো? এটি কি শুরু থেকেই কোনও ধর্মের নাম ছিল, নাকি প্রথমে একটি ভূখণ্ড ও তার অধিবাসীদের পরিচয় বোঝাত? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ইসলামের আবির্ভাবের পরেই কি ‘হিন্দু’ শব্দটির জন্ম হয়েছিল?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের প্রাচীন পারস্যে, যখন ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে পারস্য সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ গড়ে উঠছিল।
প্রথমেই একটি প্রচলিত ধারণা যাচাই করা প্রয়োজন। বলা হয়, মুসলমানরা ভারতীয়দের ‘হিন্দু’ নাম দিয়েছিল। এই বক্তব্যের মধ্যে ইতিহাসের একটি অংশের ইঙ্গিত থাকলেও, একে সম্পূর্ণ সত্য বলা যায় না। কারণ, ‘হিন্দু’ শব্দের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাচীন পারসিক রূপের প্রমাণ ইসলামের উদ্ভবের বহু শতাব্দী আগের।
এই প্রমাণ বুঝতে হলে আমাদের জানতে হবে আকেমেনীয় সাম্রাজ্যের কথা।
আকেমেনীয় সাম্রাজ্য ও ‘হিন্দুশ’
প্রাচীন পারস্যের আকেমেনীয় সাম্রাজ্য খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক থেকে পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শক্তিশালী রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই সাম্রাজ্যের অন্যতম বিখ্যাত শাসক ছিলেন প্রথম দারিয়ুস। তাঁর শাসনকালে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল, অধীনস্থ ভূখণ্ড এবং সামরিক সাফল্যের বিবরণ শিলালিপিতে উৎকীর্ণ করা হতো।
এই শিলালিপিগুলির মধ্যে প্রাচীন পারসিক ভাষায় ‘হিন্দুশ’ নামে একটি ভূখণ্ডের উল্লেখ পাওয়া যায়। গবেষকেরা সাধারণভাবে এই নামটিকে সিন্ধু নদ ও তার আশপাশের অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন। প্রথম দারিয়ুসের শাসনামলের শিলালিপিতে এই নামের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রমাণ করে যে ‘হিন্দু’ শব্দের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি নাম ইসলামের জন্মের অনেক আগেই ব্যবহৃত হতো।
তবে এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখতে হবে। শিলালিপিতে ‘হিন্দুশ’ নামে ভূখণ্ডের উল্লেখ পাওয়া মানেই এই নয় যে সেই সময়ের মানুষ আজকের অর্থে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ‘হিন্দু’ নামে চিনতেন। প্রাচীন পারসিক শিলালিপির এই উল্লেখ মূলত একটি ভৌগোলিক ও সাম্রাজ্যিক পরিচয়ের প্রমাণ। এর অর্থকে পরবর্তী যুগের ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে এক করে দেখা ইতিহাসসম্মত হবে না।
অর্থাৎ, শব্দটির প্রাচীন অস্তিত্বের প্রমাণ রয়েছে; কিন্তু সেই শব্দের অর্থ যে সব যুগে একই ছিল, তা নয়।
‘সিন্ধু’ থেকে ‘হিন্দু’—শব্দের যাত্রা
‘হিন্দু’ শব্দের ইতিহাস বুঝতে হলে ‘সিন্ধু’ শব্দটির দিকে তাকাতে হয়। সিন্ধু ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর নাম। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে এই নদী ও তার পার্শ্ববর্তী ভূখণ্ডের উল্লেখ রয়েছে।
ভাষার ইতিহাসে দেখা যায়, একটি ভাষার শব্দ অন্য ভাষায় প্রবেশ করার সময় তার উচ্চারণ ও রূপ বদলে যেতে পারে। প্রাচীন ভারতীয় ‘সিন্ধু’ শব্দটি প্রাচীন ইরানি ভাষার ব্যবহারে ‘হিন্দু’ বা ‘হিন্দুশ’ রূপের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ভাষাবিদেরা ব্যাখ্যা করেন। ইরানি ভাষাগোষ্ঠীর কিছু ভাষাগত পরিবর্তনের ফলে ‘স’ ধ্বনি ‘হ’ ধ্বনিতে রূপান্তরিত হওয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে।
এইভাবে সিন্ধু নদ ও তার আশপাশের অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি নাম প্রাচীন পারসিক ব্যবহারে নতুন রূপ লাভ করে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ভাষায় এই নামের নানা রূপ দেখা যায়। শব্দটির যাত্রা কোনও একটি মুহূর্তে সম্পন্ন হয়নি; দীর্ঘকাল ধরে ভাষা, ভূগোল, রাজনীতি ও মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে এর অর্থ ও ব্যবহার পরিবর্তিত হয়েছে।
এই পর্যায়ে একটি বিষয় পরিষ্কার—‘সিন্ধু’ ও ‘হিন্দু’ শব্দের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ভাষাগত পরিবর্তনের আলোকে ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু সেই সম্পর্ক থেকেই প্রমাণিত হয় না যে প্রাচীন সিন্ধু অঞ্চলের প্রত্যেক বাসিন্দার ধর্মীয় পরিচয় একই ছিল।
ইসলামের আগেই শব্দটির প্রমাণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ইসলামের আবির্ভাব সপ্তম শতকে। তার বহু শতাব্দী আগে, আকেমেনীয় সাম্রাজ্যের যুগে ‘হিন্দুশ’ নামের ব্যবহার পাওয়া যায়। ফলে ‘মুসলমানরা প্রথম ‘হিন্দু’ শব্দটি তৈরি করেছিল’—এমন দাবি ঐতিহাসিক প্রমাণের সঙ্গে মেলে না।
কিন্তু এখানেই অনুসন্ধান শেষ হয়ে যায় না। বরং এখান থেকেই পরবর্তী প্রশ্নের শুরু।
একটি ভূখণ্ডের নাম কীভাবে সেই ভূখণ্ডের মানুষের পরিচয় বোঝাতে ব্যবহৃত হতে শুরু করে? সেই পরিচয় কীভাবে বিভিন্ন ভাষায় ছড়িয়ে পড়ে? আর কোন ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে ‘হিন্দু’ শব্দটি ক্রমে ধর্মীয় অর্থও অর্জন করে?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে হলে প্রাচীন পারসিক শিলালিপির পাশাপাশি পরবর্তী পারসিক, আরবি, সংস্কৃত, প্রাকৃত এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্য ও দলিল পরীক্ষা করতে হবে।
ইতিহাসের একটি শব্দকে বুঝতে গেলে শুধু তার প্রথম ব্যবহার জানলেই চলে না; জানতে হয় তার অর্থের পরিবর্তনও।
ভূগোল থেকে মানুষের পরিচয়
প্রাচীনকালে কোনও অঞ্চলের নাম সেই অঞ্চলের মানুষকে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বহিরাগত শাসক, পর্যটক, বণিক কিংবা লেখকেরা প্রায়ই অন্য ভূখণ্ডের মানুষকে তাঁদের নিজস্ব ভাষায় কোনও ভৌগোলিক নামের সাহায্যে চিহ্নিত করেছেন। এই ধরনের পরিচয় কখনও রাজনৈতিক, কখনও ভৌগোলিক, কখনও সাংস্কৃতিক অর্থ বহন করেছে।
‘হিন্দু’ শব্দের ইতিহাসেও এই পরিবর্তনশীলতা লক্ষ করা যায়। প্রথম দিকের প্রাচীন পারসিক ব্যবহারের সঙ্গে পরবর্তী যুগের ব্যবহারকে এক করে দেখা যাবে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শব্দটি বিভিন্ন অঞ্চলে, বিভিন্ন ভাষায় এবং বিভিন্ন সামাজিক পরিস্থিতিতে নতুন অর্থ অর্জন করেছে।
এখানে মনে রাখা জরুরি, কোনও শব্দের অর্থ কেবল তার উৎপত্তি দিয়ে চিরকালের জন্য নির্ধারিত হয়ে যায় না। শব্দের অর্থ নির্ভর করে কে শব্দটি ব্যবহার করছেন, কাকে বোঝাতে ব্যবহার করছেন এবং কোন ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে ব্যবহার করছেন—তার ওপরও।
তাই ‘হিন্দু’ শব্দের প্রাচীন ভৌগোলিক ব্যবহার এবং পরবর্তী ধর্মীয় ব্যবহারকে একই ইতিহাসের পরস্পর-সংযুক্ত, কিন্তু পৃথক পর্যায় হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
পারসিক ও আরবি ভাষায় শব্দটির বিস্তার
পরবর্তী শতাব্দীগুলিতে পারসিক ও আরবি ভাষার লেখালেখিতে ‘হিন্দ’ এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দরূপের ব্যবহার দেখা যায়। এই শব্দগুলি কখনও ভারতীয় ভূখণ্ড, কখনও সেখানকার মানুষ, কখনও বিশেষ সামাজিক বা সাংস্কৃতিক পরিচয় বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সব লেখক ও সব যুগে শব্দটির অর্থ এক ছিল না।
মধ্যযুগে ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন রাজ্য, শাসনব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিচয়ের ভাষাও পরিবর্তিত হতে থাকে। পারসিক ভাষার প্রশাসনিক ও সাহিত্যিক ব্যবহার, আরবি ভাষায় ভৌগোলিক বিবরণ এবং ভারতীয় ভাষার নিজস্ব সাহিত্য—সব মিলিয়ে শব্দটির ইতিহাস আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এই পর্যায়ে একটি ভুল ধারণা এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। মুসলমান লেখকদের রচনায় ‘হিন্দু’ শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায় বলেই তাঁরা শব্দটির উদ্ভাবক—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। কোনও শব্দের ব্যবহারকারী এবং শব্দটির প্রথম উদ্ভাবক একই ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠী হবেন, এমন কোনও নিয়ম নেই। আকেমেনীয় যুগের প্রমাণই দেখায় যে এই শব্দের ইতিহাস ইসলামের আবির্ভাবের আগেই শুরু হয়েছিল।
ধর্মীয় পরিচয় হয়ে ওঠার দীর্ঘ ইতিহাস
তাহলে ‘হিন্দু’ কখন একটি বৃহত্তর ধর্মীয় পরিচয়ের অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু করল?
এই প্রশ্নের উত্তর একটি নির্দিষ্ট সাল বা একটি মাত্র ঘটনার সাহায্যে দেওয়া কঠিন। কারণ, ধর্মীয় পরিচয় একদিনে তৈরি হয় না। মানুষের বিশ্বাস, আচার, সামাজিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে পরিচয়ের অর্থ ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।
ইতিহাসবিদ অড্রে ট্রুশকের গবেষণায় ‘হিন্দু’ শব্দের প্রায় আড়াই হাজার বছরের পরিবর্তনশীল ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। তিনি প্রাচীন পারসিক, পরবর্তী পারসিক, সংস্কৃত, প্রাকৃত, হিন্দি, মারাঠি ও বাংলা-সহ একাধিক ভাষার উৎসের তুলনামূলক পাঠের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শব্দটির ইতিহাসকে শুধু ঔপনিবেশিক যুগ থেকে শুরু করলে তার দীর্ঘ প্রাক্-আধুনিক ইতিহাসের বহু স্তর অদেখা থেকে যায়।
এই বহুভাষিক পদ্ধতি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। কোনও পরিচয়ের ইতিহাস বুঝতে হলে কেবল একটি ভাষার গ্রন্থ বা একটি যুগের দলিলের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। একই শব্দ বিভিন্ন ভাষায় ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে। আবার একই ভাষার মধ্যেও সময়ের সঙ্গে তার অর্থ বদলে যেতে পারে।
সংস্কৃত সাহিত্যে ‘হিন্দু’ শব্দের ব্যবহার, পারসিক ও আরবি রচনায় শব্দটির ব্যবহার এবং আঞ্চলিক ভাষায় তার ক্রমবিকাশ—প্রতিটি ক্ষেত্রকে নিজস্ব ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তাহলেই বোঝা সম্ভব হবে, কীভাবে একটি ভৌগোলিক নাম বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে বৃহত্তর সামাজিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
তাহলে প্রচলিত ধারণাটির বিচার কী?
এখন মূল প্রশ্নে ফিরে আসা যাক—“মুসলমানরা ভারতীয়দের হিন্দু নাম দিয়েছিল”—এটি কি সম্পূর্ণ সত্য?
ঐতিহাসিক প্রমাণের ভিত্তিতে উত্তর হলো, না, কথাটি সম্পূর্ণ সত্য নয়।
প্রাচীন পারসিক শিলালিপিতে ‘হিন্দুশ’ নামের ব্যবহার ইসলামের আবির্ভাবের বহু শতাব্দী আগের। ফলে মুসলমানরাই প্রথম এই শব্দ সৃষ্টি করেছিলেন—এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে এর বিপরীত দিকে গিয়ে আরেকটি ভুল করাও উচিত নয়। প্রাচীন শিলালিপিতে ‘হিন্দুশ’ নামের উপস্থিতি প্রমাণ করে না যে সেই যুগেই আজকের অর্থে একটি সর্বজনীন ধর্মীয় পরিচয় হিসেবে ‘হিন্দু’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রাচীন প্রমাণটি মূলত ভূখণ্ডের নামের ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের তথ্য দেয়। পরবর্তী ধর্মীয় পরিচয়ের বিকাশ বুঝতে হলে আরও বহু যুগের ভাষা, সাহিত্য ও সামাজিক ইতিহাস পরীক্ষা করতে হয়।
অর্থাৎ, এখানে দুটি প্রশ্নকে আলাদা করে দেখতে হবে—‘হিন্দু’ শব্দটি কত প্রাচীন এবং শব্দটি কখন কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথম প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আকেমেনীয় যুগের শিলালিপি গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন দীর্ঘকালব্যাপী, বহুভাষিক ও তুলনামূলক গবেষণা।
এই পার্থক্যটি মনে রাখলে ইতিহাসের একটি জটিল বিষয়কে অতিসরল করে ফেলার বিপদ এড়ানো যায়।
এই অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য কোনও ধর্মীয় বিশ্বাসকে ছোট করা নয়। বরং বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই শব্দের ইতিহাস, পরিচয়ের পরিবর্তন এবং প্রাচীন উৎসের তাৎপর্য বোঝা। একটি নামের উৎপত্তি এবং সেই নামের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ধর্মীয় পরিচয়ের ইতিহাস পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হলেও তারা এক বিষয় নয়।
‘হিন্দু’ শব্দের ইতিহাস তাই শুধু একটি শব্দের ইতিহাস নয়। এটি ভূখণ্ড, ভাষা, মানুষ, সমাজ এবং পরিচয়ের দীর্ঘ পরিবর্তনের ইতিহাস।
সূত্র
-
প্রথম দারিয়ুসের আকেমেনীয় যুগের শিলালিপি—‘হিন্দুশ’ নামের প্রাচীন পারসিক ব্যবহার।
-
অড্রে ট্রুশকে, হিন্দু: একটি ইতিহাস—২০২৩ সালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র; প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় দক্ষিণ এশিয়ায় ‘হিন্দু’ শব্দের পরিবর্তনশীল অর্থ নিয়ে আলোচনা।
Cambridge Core
-
অড্রে ট্রুশকে, ইতিহাসের ভাষা: মুসলিম শাসন সম্পর্কে সংস্কৃত আখ্যান—মধ্যযুগীয় ভারতীয় ইতিহাসে সংস্কৃত ও পারসিক ভাষার উৎস বিশ্লেষণ।
Columbia University Press
-
আকেমেনীয় সাম্রাজ্য, প্রাচীন পারসিক ভাষা এবং সিন্ধু অঞ্চলের ইতিহাসবিষয়ক শিলালিপি ও ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণা।
পরবর্তী পর্ব
পর্ব ১৪ — মধ্যযুগে ‘হিন্দু’ কীভাবে ধর্মীয় পরিচয়ে পরিণত হল?
ভূগোল → মানুষ → সামাজিক পরিচয় → ধর্মীয় পরিচয়।
পারসিক, আরবি, সংস্কৃত, প্রাকৃত ও আঞ্চলিক ভাষার উৎস পাশাপাশি রেখে অনুসন্ধান করা হবে—কীভাবে ‘হিন্দু’ শব্দের অর্থ বিভিন্ন ঐতিহাসিক পর্যায়ে বদলেছে এবং কীভাবে তা ক্রমে ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ইতিহাসবিদ অড্রে ট্রুশকের গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই পরিবর্তন বুঝতে একাধিক ভাষার উৎসকে পাশাপাশি বিচার করা প্রয়োজন।
— লিখছেন অনিরুদ্ধ পাল
“বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা, ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা।”
Published on: অক্টো ১৯, ২০২৬ at ১১:০০




