ক্যাম্পাস বার্ড কাউন্টে জীবন্ত পাঠশালা অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটি

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: ফেব্রু ১৮, ২০২৬ at ১২:৫৩

এসপিটি নিউজ, বারাসাত, ১৮ ফেব্রুয়ারি: বিশ্বজুড়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ঐতিহ্যবাহী শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে শিক্ষার নতুন পথ খুঁজছে, ঠিক তখনই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটি । নিজেদের ক্যাম্পাসকেই জীবন্ত পরিবেশগত শ্রেণিকক্ষে রূপান্তর করে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারা সফলভাবে আয়োজন করল ক্যাম্পাস বার্ড কাউন্ট ২০২৬।

এই কর্মসূচি ছিল বিশ্বব্যাপী পালিত Great Backyard Bird Count (GBBC)-এর অংশ, যা চলতি বছর ১৩ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৮ সালে Cornell Lab of Ornithology এবং National Audubon Society, Birds Canada-এর সহযোগিতায় এই উদ্যোগের সূচনা হয়। লক্ষ্য—সাধারণ মানুষকে পাখি পর্যবেক্ষণ, গণনা ও তথ্য সংরক্ষণে যুক্ত করে বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অংশীদার করে তোলা।

অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ে এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেয় পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকো ক্লাব নেচার নার্চারার্স। পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রোগ্রাম সমন্বয়ক ড. ইন্দ্রাণী ঘোষের নেতৃত্বে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হয় নির্দেশিত বার্ড ওয়াক। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাম্পাস এলাকায় ২৬ জন শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষক পদ্ধতিগতভাবে পাখি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য নথিভুক্ত করেন। সমস্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে eBird-এর বৈশ্বিক ডেটাবেসে আপলোড করা হয়, ফলে স্থানীয় পর্যবেক্ষণ সরাসরি আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ বিজ্ঞানে অবদান রাখে।

এই গণনায় মোট ২৮টি পাখি প্রজাতি এবং ৯৪টি পৃথক পর্যবেক্ষণ নথিভুক্ত হয়। উল্লেখযোগ্য প্রজাতির মধ্যে ছিল ইয়েলো-ফুটেড গ্রিন পিজন, ব্ল্যাক-রাম্পড ফ্লেমব্যাক উডপেকার, হোয়াইট-থ্রোটেড কিংফিশার, পার্পল ও পার্পল-রাম্পড সানবার্ড, ব্লু-থ্রোটেড বারবেট, রুফাস ট্রিপাই এবং কমন হক কুকু। কীটভোজী, ফলভোজী, মাংসাশী ও সর্বভুক পাখির উপস্থিতি স্পষ্ট করে যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি একটি পরিবেশগতভাবে সমৃদ্ধ অর্ধ-নগর আবাসস্থল।

পরিসংখ্যানের বাইরেও এই আয়োজনের শিক্ষামূল্য ছিল গভীর। পাখি পরিবেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল জৈব-সূচক—যারা আবাসস্থলের গুণমান, দূষণ ও পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তন, সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নের বাস্তব ধারণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs) ৪, ১৩ ও ১৫-এর চেতনাকে আরও শক্তিশালী করে।

আয়োজকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য অধ্যাপক সমিত রায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিই ক্যাম্পাসকে একটি সুস্থ পরিবেশগত ব্যবস্থায় রূপান্তরের পথ দেখাচ্ছে—যেখানে বৌদ্ধিক বিকাশ ও প্রকৃতির সহাবস্থান সমানতালে এগিয়ে চলে।

এই আয়োজন নীরবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়—সবচেয়ে গভীর ও স্থায়ী শিক্ষাগুলো অনেক সময় শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালের বাইরে, উন্মুক্ত আকাশের নিচে, হাতে দূরবীন আর মনে কৌতূহল নিয়েই অর্জিত হয়।

Published on: ফেব্রু ১৮, ২০২৬ at ১২:৫৩

 


শেয়ার করুন