
অসমে বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ একশৃঙ্গ গণ্ডার, কাজিরাঙার সাফল্যের প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর
Published on: সেপ্টে ২২, ২০২৬ at ২০:২৫
এসপিটি নিউজ, নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর: বিশ্ব গণ্ডার দিবসে ভারতের একশৃঙ্গ গণ্ডার সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব গণ্ডার দিবস উপলক্ষে এক বার্তায় তিনি একশৃঙ্গ গণ্ডার সংরক্ষণে যুক্ত বনকর্মী, সংরক্ষণকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, দেশের গণ্ডার সংরক্ষণকে আরও শক্তিশালী করতে ‘প্রজেক্ট রাইনো’ শুরু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণ্ডার-অধ্যুষিত রাজ্যগুলিকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গণ্ডার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে অসম। বর্তমানে বিশ্বের একশৃঙ্গ গণ্ডার জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশই অসমে রয়েছে। বিশেষ করে কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান গণ্ডার শিকার বন্ধ করা এবং তাদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। এই সাফল্য সংরক্ষণ মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
কাজিরাঙা থেকে জাতীয় সংরক্ষণ মডেল
ভারতের বৃহত্তর একশৃঙ্গ গণ্ডার সংরক্ষণের ইতিহাসে কাজিরাঙার ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অসমে গণ্ডারের সংখ্যা ১৯৬০-এর দশকে প্রায় ৬০০ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে চার হাজারেরও বেশি হয়েছে। ২০২৪ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অসমে প্রায় ৪,০১৪টি গণ্ডার ছিল এবং বৃহত্তর কাজিরাঙা অঞ্চলে বিশ্বের একশৃঙ্গ গণ্ডার জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের অবস্থান ছিল।
কাজিরাঙার সংরক্ষণ ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল নিয়মিত নজরদারি, চোরাশিকার প্রতিরোধ, আবাসস্থল ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ। সরকারি নথিতে ‘কাজিরাঙা সংরক্ষণ মডেল’-কে বনরক্ষীদের উপর বিনিয়োগ, বৈজ্ঞানিকভাবে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল পরিচালনা, চোরাশিকারবিরোধী ব্যবস্থা এবং পুনর্বনায়নের সমন্বিত প্রয়াস হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
শুধু অসম নয়, ছড়িয়ে পড়ছে সংরক্ষণের পরিসর
ভারতে একশৃঙ্গ গণ্ডারের বর্তমান বন্য বিস্তার মূলত অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশে। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, একসময় ভারতীয় উপমহাদেশের বিস্তীর্ণ অংশে এই প্রজাতির বিচরণ থাকলেও বর্তমানে তাদের বন্য জনসংখ্যা এই তিন রাজ্যে সীমাবদ্ধ। গণ্ডারের আবাসস্থল পুনরুদ্ধার ও জনসংখ্যা বিস্তারের লক্ষ্যে কেন্দ্র ২০১৯ সালে ভারতীয় একশৃঙ্গ গণ্ডারের জাতীয় সংরক্ষণ কৌশল গ্রহণ করে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিশ্ব গণ্ডার দিবসের বার্তায় জানিয়েছেন, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকায় গণ্ডার ফিরে এসেছে অথবা নিরাপদভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের দুধওয়া জাতীয় উদ্যানে গণ্ডার পুনঃপ্রবর্তনের সাফল্যকে তিনি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই বিভিন্ন উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে যে গণ্ডার-অধ্যুষিত রাজ্যগুলিতে মানুষ ও প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের আগের সংরক্ষণ নথিতেও পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের ঐতিহাসিক গণ্ডার-আবাসস্থলে পুনঃপ্রবর্তনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে অসমের মানস জাতীয় উদ্যানে স্থানান্তরের মাধ্যমে গণ্ডারের জনসংখ্যা পুনর্গঠনের সাফল্যের কথাও সরকারি নথিতে উঠে এসেছে।
‘প্রজেক্ট রাইনো’-র লক্ষ্য কী?
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত নতুন উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট রাইনো’-র মূল লক্ষ্য শুধু গণ্ডারের সংখ্যা বাড়ানো নয়। গণ্ডার সংরক্ষণে যুক্ত রাজ্যগুলিকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- গণ্ডারের সুরক্ষা ও চোরাশিকার প্রতিরোধ;
- গণ্ডারের উপযুক্ত আবাসস্থল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা;
- গণ্ডার জনসংখ্যার জিনগত বৈচিত্র্য ও উন্নয়ন;
- গণ্ডারের জনসংখ্যার গতিবিধি ও পরিবর্তন সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক গবেষণা;
- বিভিন্ন গণ্ডার-অধ্যুষিত অঞ্চলের মধ্যে সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করা।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণ্ডার সংরক্ষণকে আরও বৈজ্ঞানিক ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জাতীয় ক্যাম্পা–র নতুন পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ
গণ্ডার সংরক্ষণে কেন্দ্রীয় উদ্যোগের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে। জাতীয় ক্যাম্পা-র পরিচালন পর্ষদের সপ্তম বৈঠকে ভারতীয় গণ্ডারের সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়। একই বৈঠকে নদী ডলফিন, তুষারচিতাবাঘ এবং বন্য মহিষের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী নিয়েও পৃথক সংরক্ষণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়।
এর ফলে গণ্ডার সংরক্ষণে শুধু নির্দিষ্ট অভয়ারণ্য বা জাতীয় উদ্যানভিত্তিক কাজ নয়, বরং বৃহত্তর জাতীয় পরিকল্পনার আওতায় আবাসস্থল, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, পর্যবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব বাড়ছে।
সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জও
গণ্ডারের সংখ্যা বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কিন্তু জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত আবাসস্থল নিশ্চিত করা, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব মোকাবিলা, মানুষের সঙ্গে সংঘাত কমানো এবং বিচ্ছিন্ন গণ্ডার জনসংখ্যার মধ্যে জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখার মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
২০২৪ সালের সরকারি বিশ্লেষণে অসমে গণ্ডারের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি আবাসস্থল সম্প্রসারণ, নতুন সংরক্ষিত এলাকা এবং চোরাশিকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। কাজিরাঙা ও অন্যান্য এলাকায় আবাসস্থল ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণকেও সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভারতের গণ্ডার সংরক্ষণে নতুন অধ্যায়
ভারতে বৃহত্তর একশৃঙ্গ গণ্ডার একসময় বিলুপ্তির অত্যন্ত কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক দশকের কঠোর সুরক্ষা, আবাসস্থল সংরক্ষণ, চোরাশিকার নিয়ন্ত্রণ এবং বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার ফলে পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশক থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতের গণ্ডার সংখ্যা প্রায় ১,৫০০ থেকে বেড়ে চার হাজারেরও বেশি হয়েছে।
বিশ্ব গণ্ডার দিবসে তাই প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় উঠে এসেছে শুধু একটি প্রজাতিকে রক্ষা করার কথা নয়, বরং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি মানুষের অংশগ্রহণ, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং রাজ্যগুলির সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা।
অসমের কাজিরাঙা থেকে পশ্চিমবঙ্গের গণ্ডার-আবাসস্থল, উত্তরপ্রদেশের দুধওয়া থেকে দেশের অন্যান্য ঐতিহাসিক গণ্ডার বিচরণক্ষেত্র—ভারতের সংরক্ষণ প্রচেষ্টার পরবর্তী লক্ষ্য এখন শুধু গণ্ডারের সংখ্যা ধরে রাখা নয়, বরং তাদের জন্য আরও নিরাপদ, বিস্তৃত এবং টেকসই আবাসস্থল তৈরি করা।
‘প্রজেক্ট রাইনো’ সেই বৃহত্তর সংরক্ষণ প্রচেষ্টাকে নতুন গতি দিতে পারে—যেখানে গণ্ডারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু বন ও অভয়ারণ্যের সুরক্ষার উপর নয়, বরং বিজ্ঞান, প্রশাসন, বনকর্মী এবং স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ববোধের উপরও।
— সংবাদ প্রভাকর টাইমস
Published on: সেপ্টে ২২, ২০২৬ at ২০:২৫
India launches ‘Project Rhino’ on World Rhino Day as Modi highlights conservation gains
SPT NEWS, NEW DELHI, Sept. 22: India has launched Project Rhino to provide financial and technical support to states for protecting the country’s greater one-horned rhinoceros, Prime Minister Narendra Modi said Tuesday, as India marked World Rhino Day.
In a message marking the annual observance, Modi praised wildlife officials, conservationists and communities involved in protecting the species and highlighted conservation gains across several Indian states.
“Project Rhino has been initiated for financial and technical support to the range states for protection, habitat management, genetic improvement and understanding population dynamics,” Modi said in his post.
India is home to the world’s largest population of the greater one-horned rhinoceros, a species once pushed close to extinction across much of its historical range.
Assam accounts for nearly 80% of the world’s rhino population, according to the prime minister. The state’s Kaziranga National Park has become one of the world’s best-known examples of large-scale rhino conservation, with sustained anti-poaching operations and habitat management helping the population recover.
Government data showed that Assam had more than 4,000 rhinos in 2024, with Kaziranga and surrounding protected areas accounting for the majority of the state’s population.
Modi also pointed to conservation efforts beyond Assam.
Rhinos have either returned or remain protected in parts of Bihar and West Bengal, while efforts to reintroduce rhinos in Dudhwa National Park in Uttar Pradesh have produced significant results, he said.
India’s wild greater one-horned rhinos are now concentrated primarily in Assam, West Bengal and Uttar Pradesh. Conservation programmes have increasingly focused not only on preventing poaching but also on maintaining viable habitats and managing populations scientifically.
The new Project Rhino is intended to strengthen those efforts by supporting states in four broad areas: protection, habitat management, genetic improvement and research into population dynamics.
The initiative comes as India expands species-specific conservation planning. In July 2026, the National Compensatory Afforestation Fund Management and Planning Authority approved a dedicated conservation action plan for the Indian rhinoceros, alongside plans for several other wildlife species.
The greater one-horned rhinoceros has recovered significantly in India over recent decades. Government figures indicate that the country’s rhino population increased from around 1,500 in the 1980s to more than 4,000 by 2024.
The recovery has been driven by stronger protection, habitat management, anti-poaching measures and coordinated conservation programmes, particularly in Assam.
But the growth of rhino populations also presents new challenges, including the need for adequate habitat, maintaining genetic diversity, managing human-wildlife interactions and protecting animals from floods and other environmental pressures.
For India, the next phase of rhino conservation will therefore extend beyond simply increasing numbers. It will involve ensuring that growing populations have secure and sustainable habitats and that conservation programmes remain supported by science, technology and local participation.
On World Rhino Day, Modi said the progress made across the rhino range states demonstrated the continued commitment of people and authorities to wildlife protection and active wildlife management.
The launch of Project Rhino marks a further attempt to consolidate those efforts at the national level.




