

Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২৭ জুন: পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির সাংগঠনিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় যার হাত ধরে শুরু হয়েছিল, সেই স্বর্গীয় প্রফেসর হরিপদ ভারতীর ১০৬তম জন্মজয়ন্তী আগামীকাল রাজ্যজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হতে চলেছে। দলের প্রথম প্রজন্মের এই সংগঠকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন জেলায় স্মরণসভা, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা এবং সাংগঠনিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
১৯৮০ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিমবঙ্গে দলের প্রথম রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পান প্রফেসর হরিপদ ভারতী। সে সময় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে বিজেপির অস্তিত্ব ছিল অত্যন্ত সীমিত। হাতে গোনা কয়েকজন কর্মী, সীমিত সাংগঠনিক পরিকাঠামো এবং প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও তিনি নিরলসভাবে জেলা থেকে জেলায় ঘুরে সংগঠনের ভিত গড়ে তোলেন। তাঁর সেই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রাথমিক সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি হয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রায় ৪৬ বছর আগে যে সাংগঠনিক চারা তিনি রোপণ করেছিলেন, আজ তা এক শক্তিশালী মহীরুহে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপি বর্তমানে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সেই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে হরিপদ ভারতীর অবদান নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
শিক্ষাবিদ হিসেবে সুপরিচিত হরিপদ ভারতী নরসিংহ দত্ত কলেজের অধ্যাপক এবং পরবর্তীকালে অধ্যক্ষ ছিলেন। তাঁর জ্ঞান, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও আদর্শনিষ্ঠ জীবনযাপনের জন্য তিনি সকলের কাছে ‘মাস্টারমশাই’ নামে পরিচিত ছিলেন। ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে জোড়াবাগান বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি রাজনৈতিক জীবনে আদর্শ ও সংগঠনকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
এবারের জন্মজয়ন্তী উদযাপনের অন্যতম উদ্যোক্তা তাঁর ভাগ্নী শিপ্রা বন্দ্যোপাধ্যায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হরিপদ ভারতীর আদর্শ, কর্মজীবন ও সাংগঠনিক অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনও রাজনৈতিক দলের বর্তমান শক্তির মূল্যায়ন করতে গেলে তার প্রাথমিক সংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী মানুষদের স্মরণ করা জরুরি। সেই অর্থে হরিপদ ভারতীর ১০৬তম জন্মজয়ন্তী শুধুমাত্র একটি স্মরণ-অনুষ্ঠান নয়; এটি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক ইতিহাসের শিকড়কে নতুন করে স্মরণ করারও এক তাৎপর্যপূর্ণ উপলক্ষ।
দলের প্রবীণ কর্মীদের ভাষায়, “আজকের সংগঠনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে প্রফেসর হরিপদ ভারতীর নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত হবে। তাঁর আদর্শ, সততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নিষ্ঠা আগামী প্রজন্মের কাছেও প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
১০৬তম জন্মজয়ন্তীর এই আয়োজন তাই কেবল একজন প্রয়াত নেতাকে স্মরণ করার অনুষ্ঠান নয়; বরং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির দীর্ঘ সাংগঠনিক যাত্রাপথ, সংগ্রাম ও বিকাশের ইতিহাসকে নতুন করে মূল্যায়নেরও এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।



