

Published on: মে ১৫, ২০২৬ at ২০:৩৩
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৫ মে: প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের ভিতরে দাগী অপরাধী ও জেল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশের অভিযোগে বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ার পরই প্রেসিডেন্সি কারেকশনাল হোমের সুপারিন্টেন্ডেন্ট এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘোড়াইকে সাসপেন্ড করার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রেসিডেন্সি জেলের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপকভাবে মোবাইল ফোন, বিশেষ করে স্মার্টফোন ব্যবহার চলছিল। এই ঘটনায় জেল কর্তৃপক্ষ ও দাগী অপরাধীদের মধ্যে গভীর আঁতাতের প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “জেলের ভিতর থেকেই অপরাধীরা তাদের অপরাধচক্র ও নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছিল। এটা এক দিনের ঘটনা নয়, বছরের পর বছর ধরে নিচু স্তর থেকে উপরের স্তর পর্যন্ত দুর্নীতি ও বেআইনি চলেছে।”
রাজ্য সরকারের নির্দেশে ডিজি কারেকশনাল হোম এন রমেশ বাবুর নেতৃত্বে কলকাতা পুলিশ ও জেল পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে মোট ২৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। অভিযানে কলকাতা পুলিশের ডিসি সাউথও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার পর শুধু প্রেসিডেন্সি নয়, গোটা রাজ্যের সংশোধনাগারগুলিতে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। দমদম, বহরমপুর–সহ একাধিক জেল নিয়ে আগেও অভিযোগ উঠেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, “আজ দুপুর ২টো থেকে পশ্চিমবঙ্গে এই প্র্যাকটিস বন্ধ। এবার থেকে কোনও রকম আপস নয়।”
জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ব্যবহারকারী বন্দিদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাদের আলাদা সেলে পাঠানো থেকে শুরু করে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সন্দেশখালির কুখ্যাত অপরাধী শাহজাহান–সহ জেলের ভিতরে বসে যারা এখনও অপরাধচক্র চালাচ্ছে বলে অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন তিলজলার বেআইনি বিল্ডিং ও বেআইনি ওয়ার্কশপ কাণ্ডের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, “তিলজলা ফায়ার কাণ্ডে যেমন ওসি ফায়ারকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল, তেমনই এবার প্রেসিডেন্সি জেলের ঘটনায়ও দায়িত্বে গাফিলতির জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হল।”
ঘটনার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “সিম কোথা থেকে আসত, কারা ফোন সরবরাহ করত, কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল, কারা ফোন করত—সব কিছু তদন্তে উঠে আসা প্রয়োজন।”
রাজ্যের সমস্ত জেল কর্তৃপক্ষ ও আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, দায়িত্বে অবহেলা করলে এবার থেকে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Published on: মে ১৫, ২০২৬ at ২০:৩৩



