আর জি কর কাণ্ডে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ, সাসপেন্ড ৩ আইপিএস অফিসার

Main দেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: মে ১৫, ২০২৬ at ১৭:০২

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৫ মে: আর জি কর কাণ্ডে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি আরও বিস্ফোরক ইঙ্গিত দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, বিভাগীয় তদন্তে শুধু পুলিশি মিস হ্যান্ডেলিং নয়, সেই সময় কোনও তৎকালীন মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের কোনও যোগসূত্র ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হতে পারে। তদন্তে কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটসহ সমস্ত পারিপার্শ্বিক তথ্য যাচাই করা হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

এই ঘটনার জেরে তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তকে সাসপেন্ড করেছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে বিনীত গোয়েল ডিডিজি আইবি পদে কর্মরত ছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হিসাবে মুখ্য সচিব স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিলেন যে আর জি কর কাণ্ডে কলকাতা পুলিশ কীভাবে পরিস্থিতি সামলেছিল। গত কয়েকদিন ধরে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংয়ের কাজ চলে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার সিবিআই তদন্তের মূল অংশে হস্তক্ষেপ করছে না, কারণ মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং সিবিআই তদন্ত করছে। তবে রাজ্য সরকারের আওতায় থাকা পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা, বিশেষ করে প্রাথমিক তদন্ত পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে। অভিযোগ ওঠে, দুই পুলিশ আধিকারিক রাজ্য সরকারের হয়ে অর্থ প্রস্তাব দিতে গিয়েছিলেন। এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই অভিযুক্ত আধিকারিকদের সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, “সাসপেনশনে না রাখলে কখনও স্বচ্ছ তদন্ত সম্ভব নয়।

তিনি আরও জানান, বিভাগীয় তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্ট সমস্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হবে। কার সঙ্গে কার যোগাযোগ হয়েছিল, কে কাকে নির্দেশ দিয়েছিল, এমনকি কোনও রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কিনা, তাও তদন্তের আওতায় আসবে।

এছাড়াও এক ডিসি সাংবাদিক বৈঠকের ধরন ভাষা প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সরকার। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ওই আধিকারিক কলকাতা পুলিশের বা স্বরাষ্ট্র দফতরের অনুমোদিত মুখপাত্র ছিলেন না। তাঁকে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখার জন্য লিখিতভাবে কোনও দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। মৌখিক নির্দেশ থাকলে তা কল রেকর্ডে উঠে আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অভয়ার ঘটনা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশ বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এতে পশ্চিমবঙ্গের মানমর্যাদা ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্য সচিবের তত্ত্বাবধানে স্বরাষ্ট্র দফতরের নিয়ম মেনে পূর্ণাঙ্গ বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

Published on: মে ১৫, ২০২৬ at ১৭:০২


শেয়ার করুন