

Published on: মে ৪, ২০২৬ at ২৩:৫৭
এসপিটি নিউজ,কলকাতা, ৪ মে: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এক ঐতিহাসিক ফলাফল সামনে এসেছে। গেরুয়া ঝড়ে কার্যত উড়ে গিয়েছে দীর্ঘদিনের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ—প্রায় সর্বত্রই প্রভাব বিস্তার করে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গড়ার পথে। এবারের ভোটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল আঞ্চলিক ভিত্তিতে বিজেপির সুসংগঠিত অগ্রগতি এবং তৃণমূলের ভাঙন।
উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনে বিজেপির দাপট সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। এই অঞ্চলে বিজেপি প্রায় ৪১টি আসনে জয় পেয়েছে বলে নির্বাচন পরিসংখ্যান জানাচ্ছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও উত্তর দিনাজপুর—প্রায় সব জেলাতেই বিজেপি এগিয়ে থেকেছে। পাহাড় থেকে সমতল—সব জায়গাতেই তৃণমূলের সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল এখানে মাত্র ৮-১০টি আসনে সীমাবদ্ধ থেকেছে। বাম ও কংগ্রেসের উপস্থিতি প্রায় অপ্রাসঙ্গিক।
দক্ষিণবঙ্গের ২৪০টি আসনেও একই চিত্রের প্রতিফলন। তবে এখানে লড়াই কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও শেষ হাসি হাসে বিজেপিই। এই অঞ্চলে বিজেপি প্রায় ১৬৫টি আসনে জয়লাভ করেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা, বীরভূম, নদিয়া—প্রায় সব জেলাতেই বিজেপির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। তৃণমূল কংগ্রেস দক্ষিণবঙ্গে তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো ফল করলেও তা ৮১টি আসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, যা সরকার গঠনের জন্য একেবারেই যথেষ্ট নয়।
এই নির্বাচনে বিজেপির মোট আসনসংখ্যা ২০০-র গণ্ডি পার করেছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস ১০০-র নিচে নেমে এসেছে। বাম-কংগ্রেস জোট মিলে এক অঙ্কের ঘরেই সীমাবদ্ধ। ভোটের হার ছিল প্রায় ৯৩%, যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সাংগঠনিক ভিত শক্ত ছিল, যা এবারে আরও মজবুত হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূলের একাধিক দুর্নীতি ইস্যু, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর বিজেপির পক্ষে বড় সুযোগ তৈরি করে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ধারাবাহিক প্রচার, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন এবং বুথ স্তরের সংগঠন বিজেপিকে এই বিশাল সাফল্য এনে দিয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের এই ভরাডুবি রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের শাসনের পর সংগঠনের ভাঙন, নেতৃত্বের ওপর চাপ এবং জনসংযোগে ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই ফলাফলে।
সব মিলিয়ে, উত্তরবঙ্গের প্রায় একতরফা জয় এবং দক্ষিণবঙ্গের শক্তিশালী দখল—এই দুইয়ের সমন্বয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই ঐতিহাসিক উত্থান সম্ভব হয়েছে। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ফলাফল একটি মোড় ঘোরানো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এখন নজর নতুন সরকারের গঠন এবং আগামী দিনের প্রশাসনিক রূপরেখার দিকে।
Published on: মে ৪, ২০২৬ at ২৩:৫৭



