রংপোর পাশে কাশ্যেনের ‘ট্রাভেলাইটস হিল স্টে’-র গুরুত্ব কেন বেড়ে গেল জানেন

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য রেল
শেয়ার করুন

Published on: এপ্রি ২৪, ২০২৬ at ১১:৪৯
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কালিম্পং ও কলকাতা, ২৪ এপ্রিল: ভ্রমণপ্রেমী বাঙালি সময় পেলেই লাগেজ গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়ে ঘুরতে। তা সে কাছে-দূরে , দেশে কিংবা বিদেশে। বিশেষ করে তাদের মধ্যে আবার এক শ্রেণি আছে যারা সব সময় শান্ত, নিরিবিলি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা জায়গা খোঁজে। যেখানে গেলে শুধুই প্রকৃতির মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখা যায়। পাখির কলতান, রং-বেরঙের ফুলের বাহার, শুদ্ধ অক্সিজেনের অনুভূতি মেঘের মধ্য মিশে থাকা এমন সব কিছুই স্পর্শ করে থাকে সারাক্ষণ। আর এমনই জায়গা- কাশ্যেন। আর সেই অচেনা গ্রামের মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ‘ট্রাভেলাইটস হিল স্টে’। কিন্তু হোম স্টে তো অনেক আছে । তাহলে এখানে কেন আসবেন? কেনি বা এর গুরুত্ব এত বেড়ে গেল, কিংবা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আজ আপনাদের সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিতে চলেছি। মন দিয়ে শুনুন।

প্রথমে আপনাকে জানতে হবে- এই কাশ্যেন জায়গাটি কোথায়? রংপোই বা কোথায়। আর রংপোর সাথে এর কি সম্পর্ক? হ্যাঁ, রংপোর সাথে কাশ্যেনের দারুন সম্পর্ক। কাশ্যেন একটি গ্রাম। পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং জেলার অন্তর্গত পেডং ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের মধ্যে কাশ্যেন একটি গ্রাম পঞ্চায়েত। আয়তন মাত্র ২১.৫৩ বর্গ কিলোমিটার। কালিম্পং জেলা সদর থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার ভিতরে অবস্থিত এই গ্রামটি। পশ্চিমবঙ্গ-সিকিম সীমান্তে রংপোর কাছে কাশ্যেন হল বাংলার শেষ গ্রাম। সেই দিক থেকে পর্যটকদের কাছে গ্রামটির গুরুত্ব অনেকখানি।

এই গ্রামের ভিতর রয়েছে পাহাড়ি ঝর্না, পাহাড়ি জঙ্গল, ফুল আর অর্কিডের বাহার, সারা দিন ধরে চলতে থাকা মেঘের অপরূপ খেলা। এমনই সুন্দর জায়গায় সুন্দর জায়গায় আপনাকে স্বাগত জানাতে আপনার ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে তৈরি হয়ে আছে ‘ট্রাভেলাইটস হিল স্টে’। এই হোমস্টে-কে কেন্দ্র করে আপনি একদিকে যেমন, লাভা-লোলেগাও-রিশপ অনায়াসে ঘুরে নিতে পারবেন, ঠিক তেমনই এখান থেকে দিনের দিন ঘুরে আসতে পারবেন সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক। চাইলে সেখানে একটা রাত কাটিয়ে নাথুলা,ছাঙ্গু লেক ঘুরে আসা সময়ের অপেক্ষা। পারবেন সিল্ক রুট ঘুরে আসতে। এসবের জন্য ট্রাভেলাইটস হিল স্ট-র গুরুত্ব যত দিন যাচ্ছে বেড়েই চলেছে। তবে এসবের থেকেও এবার এর গুরুত্ব কয়েশো গুন বাড়তে চলেছে ভারতীয় রেলের সৌজন্যে।

আমি প্রথমেই বলেছিলাম- কাশ্যেন বাংলার সীকিম সীমান্তের শেষ গ্রাম। এখান থেকে রংপো মাত্র আধ ঘণ্টার পথ। বর্তমানে  ৪৪.৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেবক-রংপো রেললাইনের নির্মাণকাজ বর্তমানে পুরোদমে চলছে এবং ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে; এর মাধ্যমেই সিকিম তার প্রথম রেল সংযোগ পেতে চলেছে। আর এই রেল সংযোগ স্থাপন হয়ে গেলেই কাশ্যেনের গ্রামের সাথেই ট্রাভেলাইটস হিল স্টে-র গুরুত্ব অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন কর্ণধার অর্পিতা রায়চৌধুরী ভট্টাচার্য । তিনি জানান, “আমাদের এই হিলস্টে ইতমধ্যেই ভ্রমণপ্রেমীদের মনে স্থান করে নিয়েছে। সবসময়ই পর্যটকদের আসা-যাওপ্যা লেগেই আছে। এখানে আপাতত ১২ জনের থাকার সুবন্দোবস্ত আছে। এবার আমরা এটিকে আরও বাড়ানোর কথা ভেবেছি। আর রেল পরিষেবা চালু হয়ে গেলে তো আমাদের এই হিল স্টে-র গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যাবে। পর্যটকরা সবসময় প্রকৃতি ঘেরা শান্ত-নিরিবিলি স্থান পছন্দ করে থাকেন। সেদিক থেকে দেখলে তো আমাদের ট্রাভেলাইটস হিল সেটে একেবারে আদর্শ স্থান।“

অর্পিতারই সহকর্মী সায়ন্তনী সেনগুপ্ত রায় একি কথা শোনালেন। তিনি জানালেন- “আসলে পর্যটন কেন্দ্রের জনপ্রিয়তা বাড়ে তার যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর। তার ভৌগলিক অবস্থানের উপর। তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের উপর। এসবই আছে আমাদের এই ট্রাভেলাইটস হিল স্টে-তে। বিশেষ সেবক-রংপো রেল সংযোগ স্থাপন হয়ে গেলে আমরা নিশ্চিত যে তখন এই কাশ্যেনে গ্রামের সাথে ট্রাভেলাইটস হিল স্টে –তে থাকার জন্য পর্যটকদের মধ্যে আগ্রহ অনেক বেড়ে যাবে। “

সম্প্রতি এক প্রেস বিবৃতিতে সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের উপদেষ্টা মহিন্দর সিং জানিয়েছেন- “৪৪.৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেবক-রংপো রেললাইনের নির্মাণকাজ চলছে এবং ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে, যা সিকিমকে তার প্রথম রেল সংযোগ প্রদান করবে। প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ভারতের প্রথম ‘টানেল স্টেশন’ বা সুড়ঙ্গ-স্টেশন—’তিস্তা বাজার’-এর নির্মাণকাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে; এছাড়া প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত মোট ৫টি স্টেশনই বর্তমানে নির্মাণের বিভিন্ন ধাপে অবস্থান করছে। এই প্রকল্পের দীর্ঘতম সুড়ঙ্গটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৩০০ মিটার এবং ক্ষুদ্রতম সুড়ঙ্গটির দৈর্ঘ্য ৫৪২ মিটার। ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল; রংপোতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ভারতের উপরাষ্ট্রপতি এবং সেবকে স্থাপন করেন রেলমন্ত্রী।“

Published on: এপ্রি ২৪, ২০২৬ at ১১:৪৯


শেয়ার করুন