হরমুজ প্রণালীতে থাই জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ভারতের তীব্র নিন্দা

দেশ বিদেশ
শেয়ার করুন

কান্দলাগামী জাহাজে আঘাত, ২০ ক্রু উদ্ধার; তিনজন এখনও নিখোঁজ—দায় স্বীকার ইরানের আইআরজিসির

Published on: মার্চ ১১, ২০২৬ at ২১:৪৪

এসপিটি ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে হরমুজ প্রণালীর কাছে থাই পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। ভারতের গুজরাটের কান্দলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রারত ওই জাহাজে হামলার ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিদেশ মন্ত্রক জানায়, হরমুজ প্রণালীতে থাই পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার “মায়ুরি নারি”–র উপর হামলার খবর তারা পেয়েছে। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের খলিফা বন্দর থেকে ভারতের কান্দলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নিরীহ বেসামরিক ক্রুদের বিপদের মুখে ফেলা কিংবা আন্তর্জাতিক নৌচলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রয়্যাল থাই নেভির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পরই জাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে। থাইল্যান্ডের সময় সকাল প্রায় ১১টা ১০ মিনিটে দুটি প্রজেক্টাইল জাহাজের জলরেখার উপরের অংশে আঘাত হানে। এর ফলে জাহাজের স্টার্ন ও ইঞ্জিন রুমে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এই হামলায় জাহাজের ইঞ্জিন রুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিন রুমেই তিনজন ক্রু সদস্য আটকে পড়ে আছেন। জাহাজে মোট ২৩ জন ক্রু ছিলেন, যাঁরা সবাই থাই নাগরিক। এর মধ্যে ২০ জন লাইফর্যাফ্টে করে জাহাজ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। ওমানের রয়্যাল নেভি তাঁদের উদ্ধার করে ওমানের খাসাব উপকূলে নিরাপদে নিয়ে যায়। বাকি তিনজনকে উদ্ধারের জন্য ওমানি নৌ ইউনিট এখনও অভিযান চালাচ্ছে।

জাহাজটি পরিচালনা করে থাইল্যান্ডের তালিকাভুক্ত সংস্থা প্রেশিয়স শিপিং পিএলসি। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহাজটি যুদ্ধঝুঁকি বীমার আওতায় থাকায় এই ঘটনার সরাসরি বড় আর্থিক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে না। এছাড়া জাহাজটি ব্যালাস্টে চলছিল বলে তাতে কোনও পণ্যসম্ভার ছিল না।

এদিকে, হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-র প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ইজরায়েলি মালিকানাধীন “এক্সপ্রেস রোম” নামের একটি জাহাজের পাশাপাশি মায়ুরি নারি জাহাজটিও তাদের প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে চাইলে জাহাজগুলিকে ইরানের অনুমতি নিতে হবে।

বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত তীব্র হওয়ার পর অন্তত ১৪টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

থাই নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা বাহরিনে অবস্থিত সম্মিলিত সমুদ্র বাহিনীর সদর দফতর, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এবং বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে থাকা থাই দূতাবাসগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

ভারতও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং বেসামরিক জাহাজকে সংঘাতের বাইরে রাখার জন্য সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

Published on: মার্চ ১১, ২০২৬ at ২১:৪৪

 


শেয়ার করুন