

Published on: মার্চ ৫, ২০২৬ at ১৮:২১
এসপিটি ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ই্জরায়েলের সংঘর্ষের প্রভাব এবার সরাসরি পড়ল আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইরানের সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় সমন্বিত বিমান হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, প্রক্সি আক্রমণ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ব্যাপক বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
এর জেরে ভারতের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক রুট দিল্লি–লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। আকাশসীমার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ করিডোর বন্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিমান সংস্থাগুলিকে রুট পরিবর্তন, ফ্লাইট বাতিল কিংবা সাময়িকভাবে পরিষেবা স্থগিত করতে বাধ্য হতে হয়েছে।
বুকিং প্ল্যাটফর্ম এবং এয়ারলাইন ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে, অন্তত ৮ মার্চ পর্যন্ত দিল্লি থেকে লন্ডনের নিয়মিত নন-স্টপ ফ্লাইট কার্যত নেই। এয়ার ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইটে ৯ মার্চ থেকে কিছু নন-স্টপ বিকল্প দেখা গেলেও একমুখী ভাড়া প্রায় ৬ লক্ষ টাকা বা তার বেশি।
অন্যদিকে ভার্জিন আটলান্টিক ১০ মার্চ পর্যন্ত দিল্লি–লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে না বলে জানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই রুটে টিকিটের দাম বেড়ে ৭ লক্ষ ৫৯ হাজার ৬৯৫ টাকা (প্রায় ৭,০৭৮ ইউরো) পর্যন্ত পৌঁছেছে।
ভারতের ফেডারেশন অফ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি ইন ইন্ডিয়ার (FAII) এভিয়েশন কার্গো চেয়ারপারসন ড. বন্দনা সিং জানান, “রুট দীর্ঘ হলে জ্বালানি খরচ, ক্রু ডিউটি সময় এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়ে যায়। এর ফলে টিকিটের দামও বাড়তে বাধ্য।”
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন খরচ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যাত্রীদের জন্য এখন বিকল্প হিসেবে একাধিক স্টপেজযুক্ত রুটই ভরসা। কিছু ক্ষেত্রে ৩টি বিরতি সহ ৩১ ঘণ্টা পর্যন্ত ভ্রমণ সময় লাগছে। যে যাত্রা আগে মাত্র ৯-১০ ঘণ্টায় শেষ হত, এখন তা প্রায় দেড় দিনের ম্যারাথনে পরিণত হয়েছে।
এক-স্টপ বিকল্প হিসেবে কাতার এয়ারওয়েজ নয়াদিল্লি–দোহা হয়ে লন্ডন রুটে প্রতি যাত্রীর ভাড়া প্রায় ১,৪০,৮৫৯ টাকা নিচ্ছে। তবে এই ফ্লাইটটি লন্ডনের হিথ্রোর বদলে গ্যাটউইক বিমানবন্দরে অবতরণ করে, যা হিথ্রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে।
মুম্বাই থেকে লন্ডনের সরাসরি ফ্লাইটও অন্তত ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুপলব্ধ। এমিরেটসের দুবাই হয়ে এক-স্টপ ফ্লাইটে ভাড়া শুরু হচ্ছে প্রায় ২৮,২৬৬ টাকা থেকে, তবে যাত্রা সময় লাগছে প্রায় ২৬ ঘণ্টা। কিছু ক্ষেত্রে এই সময় ৩০ ঘণ্টারও বেশি হয়ে যাচ্ছে।
৫০ হাজার টাকার কম এক-স্টপ টিকিট এবং ৯ লক্ষ টাকার বেশি সরাসরি ফ্লাইট ভাড়ার এই বিশাল ব্যবধান বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী এবং জরুরি কাজে বিদেশগামী অনেক ভারতীয়কেই এখন ভ্রমণ স্থগিত করা বা অস্বাভাবিক উচ্চ ভাড়া দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে তা নির্ভর করছে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আঞ্চলিক আকাশসীমা কবে নিরাপদভাবে পুনরায় চালু হয় তার উপর। আপাতত বিমান সংস্থাগুলি প্রতিদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ফ্লাইটের পথ পুনর্গণনা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ভ্রমণে অতিরিক্ত সময়, বেশি খরচ এবং কম বিকল্প—এই তিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে যাত্রীদের।
Published on: মার্চ ৫, ২০২৬ at ১৮:২১



