
স্মরণ করিয়ে দেয় শ্যামাচরণ লাহিড়ীর জীবনে মহাবতার বাবাজীর কাছ থেকে ক্রিয়াযোগের দীক্ষা লাভের মাধ্যমে মূর্ত হয়ে ওঠার মুহূর্তটি
Published on: জুলা ১৩, ২০২৫ at ১৮:১১
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ , রামনগর (পূর্ব মেদিনীপুর), ১৩ জুলাই : যোগীরাজ শ্রী শ্যামাচরণ লাহিড়ীর প্রদর্শিত পথ ধরেই এগিয়ে চলেছেন আচার্য দেবানন্দ শাস্ত্রী। নিজের ভক্ত-শিষ্যদের কাছে যিনি গুরুজি নামেই সর্বাধিক পরিচিত। পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর এলাকায় অখণ্ড শ্রী ক্রিয়াযোগ সাধন মন্দির আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা। গুরুপূর্ণিমায় ভক্ত-শিষ্যরা আসনে বসিয়ে ফুলের মালা পরিয়ে আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমের তাদের প্রিয় গুরুজিকে বন্দনা করেন। এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই উদযাপিত হয় গুরু পূর্ণিমা।
দূরভাসে সংবাদ প্রভাকর টাইমস-কে আচার্য দেবানন্দ শাস্ত্রী বলেন- ভক্ত-শিষ্যরাই গুরু পূর্ণিমায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। তারাই গুরুবন্দনা করে শ্রদ্ধা অর্পণ করে।
আচার্য্য দেবানন্দ শাস্ত্রী যিনি সকলের কাছে গুরুজী নামেই বেশি পরিচিত। যোগীরাজ মানবপ্রেমিক শ্যামাচরণ লাহিড়ীর আধ্যাত্মিক এবং যোগের আদর্শে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে রেখেছেন। এই সম্পর্কে তিনি লিখেছেন- “এমন এক পৃথিবীতে যেখানে মহাবিশ্বের রহস্য আমাদের কল্পনাকে মোহিত করে এবং গভীর বোধগম্যতার দিকে আমাদের আহ্বান করে, সেখানে একজন ক্রিয়া যোগী এবং একজন জ্যোতিষীও আছেন যার জ্ঞান সীমানা ছাড়িয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিস্তৃত।“
“প্রাচীন জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অটল নিবেদন এবং একটি রহস্যময় আধ্যাত্মিক অনুশীলন, ক্রিয়া যোগের উপর গভীর দক্ষতার সাথে, আমাদের বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক মঞ্চে অন্তর্দৃষ্টি এবং জ্ঞানার্জনের আলোকবর্তিকা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন।“
গুরু পূর্ণিমায় রামনগরের সাধন মন্দির আশ্রম হয়ে উঠেছিল এক পবিত্র দিব্যস্থান। সেখানে আচার্য দেবানন্দ শাস্ত্রীকে গুরুর আসনে বসিয়ে ভক্তরা নিজেদের ভক্তি দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। মালা পরিয়ে, ফল-মিস্টি দিয়ে প্রনাম করে স্কলে তাঁর আশীর্ব্বাদ নেন। আশ্রমে ভক্ত-শিষ্যদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
গুরুপূর্ণিমা দিনটি কেন বিশেষ দিন হয়ে উঠল
আসলে এই গুরু পূর্ণিমা, যা ব্যাস পূর্ণিমা নামেও পরিচিত, এটি মহর্ষি বেদব্যাস এর জন্মদিন হিসাবে পালিত হয়। তিনি ছিলেন হিন্দুধর্মের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, যিনি বেদকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেছিলেন এবং মহাভারত রচনা করেছিলেন। গুরু পূর্ণিমা সাধারণত আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয়। এই দিনে শিষ্যরা তাদের গুরুদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা নিবেদন করে এবং তাদের কাছ থেকে আশীর্বাদ প্রার্থনা করে। এটি একটি আধ্যাত্মিক উৎসব যা শিক্ষক এবং গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য পালন করা হয়।
গুরু পূর্ণিমা ও শ্যামাচরণ লাহিড়ী
এবার ফিরে যাওয়া যাক সেই সময়, যখন শ্যামাচরণ লাহিড়ী নিজের জীবনে মহাবতার বাবাজীর কাছ থেকে ক্রিয়াযোগের দীক্ষা লাভের মাধ্যমে মূর্ত হয়ে উঠেছিলেন।
যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ীর জীবনে গুরু পূর্ণিমার একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো মহাবতার বাবাজীর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ এবং ক্রিয়াযোগের দীক্ষা লাভ। যদিও এই নির্দিষ্ট ঘটনাটি গুরু পূর্ণিমার দিনেই ঘটেছিল কিনা তা সরাসরি উল্লেখ করা অনেক তথ্যসূত্রে পাওয়া যায় না, তবে এটি তাঁর আধ্যাত্মিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল এবং এর গুরুত্ব গুরু পূর্ণিমার তাৎপর্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গুরু পূর্ণিমা হলো গুরুকে শ্রদ্ধা জানানোর এবং তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান লাভের গুরুত্বকে স্মরণ করার দিন।
১৮৬১ সালে, শ্যামাচরণ লাহিড়ী যখন ব্রিটিশ সরকারের অধীনে রাণীক্ষেতে (হিমালয়ের পাদদেশে) কাজ করতেন, তখন এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাঁর গুরু মহাবতার বাবাজীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। পাহাড়ে হাঁটার সময় তিনি একটি ঐশ্বরিক কণ্ঠস্বর শুনতে পান, যেখানে তাঁকে তাঁর নাম ধরে ডাকছিল। আরও উপরে ওঠার পর, তিনি মহাবতার বাবাজীর দেখা পান, যিনি তাঁকে ক্রিয়াযোগের কৌশল শেখান এবং তাঁকে দীক্ষা দেন।
এই দীক্ষা লাভের ঘটনাটি শ্যামাচরণ লাহিড়ীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর ফলেই তিনি একজন সাধারণ গৃহস্থ মানুষ থেকে “যোগীরাজ” শ্যামাচরণ লাহিড়ীতে রূপান্তরিত হন। মহাবতার বাবাজী তাঁকে নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন গৃহস্থ জীবন যাপন করেই ক্রিয়াযোগের প্রসার ঘটান। এটিই ছিল ভারতীয় আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, কারণ এর আগে এমন গভীর যোগবিদ্যা সাধারণত সন্ন্যাসী ও গুহাহিত যোগীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
তাই, গুরু পূর্ণিমার দিনে গুরু-শিষ্যের যে পবিত্র সম্পর্ক এবং গুরুর কাছ থেকে জ্ঞান লাভের যে গুরুত্ব, তা শ্যামাচরণ লাহিড়ীর জীবনে মহাবতার বাবাজীর কাছ থেকে ক্রিয়াযোগের দীক্ষা লাভের মাধ্যমে মূর্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনাটি তাঁর জীবনে গুরু-তত্ত্বের সর্বোচ্চ প্রকাশ ছিল এবং পরবর্তীকালে তিনি নিজেও অসংখ্য শিষ্যকে ক্রিয়াযোগে দীক্ষা দিয়ে তাদের জীবনে আলোর দিশা দেখিয়েছেন।



Published on: জুলা ১৩, ২০২৫ at ১৮:১১



