ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ডে উদযাপনে TAAB, স্কুলছাত্রীদের নিয়ে করল কলকাতায় হেরিটেজ ওয়াক ট্যুর

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: এপ্রি ১৮, ২০২৫ at ২২:৫৭
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৮ এপ্রিল : সময় পেলেই বাঙালি ঘুরতে বেরিয়ে পড়ে। তা সে ঘরের কাছে কিংবা দূরে। ভ্রমণপ্রেমী বাঙালির কাছে ঘোরাঘুরি যেন রোজকার রুটিন হয়ে পড়েছে। আজ ১৮ এপ্রিল ছিল ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ডে। সারা বিশ্বজুড়েই দিনটি উদযাপন হয়েছে। এমন একটি দিনে বাঙালি কি ঘরে বসে থাকতে পারে। যেখানে ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন  অব বেঙ্গল-এর মতো অ্যাসোসিয়েশন আছে। বছরের এমন কয়েকটি দিন আছে যার সঙ্গে ভ্রমণের কোনও না কোনওভাবে সংযোগ আছে , তাই সেই দিনটি তারা উদযাপন করবেই নিজেদের মতো করে এবং তা হবে খুবই আকর্ষণীয়। যেমনটা আজ হল। কলকাতার বুকে একমাত্র তারাই এদিন হেরিটেজ ওয়াক ট্যুর করল স্কুলছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে।যা তাদের নিজস্ব থিম ‘দেখো আমার বাংলা’ কে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে দিল নিঃসন্দেহে বলা যেতেই পারে।

দমদম এয়ারপোর্টের কাছে কমলা বালিকা বিদ্যাপীঠ ২৫ জন ছাত্রীকে নিয়ে কলকাতায় হেরিটেজ বিল্ডিংগুলি ঘুরে দেখাল ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল বা ট্যাব-এর সদস্যরা। ছিলেন ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রকের স্বীকৃত ন্যাশনাল গাইড শমিক রায় এবং আর একজন ট্যুরিস্ট গাইড সৌরিশ চক্রবর্তী। ডালহৌসিতে সমবেত হয়ে এদিন সকালে হেরিটেজ ওয়াক ট্যুর শুরু হয় লালদিঘি হয়ে রাইটার্স বিল্ডিং থেকে শুরু করে একে একে স্থানীয় বেশ কিছু হেরিটেজ বিল্ডিং দর্শন। যার মধ্যে ছিল জিপিও, সেন্ট জন্স চার্চ,  রাজভবন, ঘোড়ার আস্তাবল, একেবারে শেষে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।

ট্যার-এর সভাপতি প্রশান্ত মাঝি এদিন সংবাদ প্রভাকর টাইমস-কে বলেন- “আজকের দিনটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ডে। এই দিনটতে আমরা অর্থাৎ ট্যাব একটি স্কুল কমলা বালিকা বিদ্যাপীঠ কে আমন্ত্রণ জানিয়েছি হেরিটেজ ওয়াক ট্যুরে। তারা আমাদের এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সমবেত হয়েছে। কলকাতার হেরিটেজ জায়গাগুলিকে তুলে ধরা হচ্ছে এবং তাদের ইতিহাস ছাত্রীদের বলা হচ্ছে। কলকাতার যে হেরিটেজ স্থান বিল্ডিং যদি ছাত্রীরা দেখে তার ইতিহাস যেভাবে গাইডরা বর্ণনা করছে তাতে মনে হয়ে আগামিদিনে এইসব ছাত্রীদের অনেকবেশি উপকার হবে। একই সাথে এই হেরিটেজ সম্পর্কে অনেক বেশি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারবে। “

“আমরা নিয়মিত ডালহৌসি চত্বর এলাকায় প্রতিদিন হাঁটাচলা করি। কিন্তু তার প্রতিটি ইটে কিন্তু এক একটা ইতিহাস আছে। প্রতিটি লোহার স্তম্ভ রয়েছে তার ইতিহাস একটা বিল্ডিং-এর যে কড়িগুলি রয়েছে বা মেমেন্টো যেগুলি আছে তার ইতিহাস আছে সেগুলি আমিও আজ জানছি। বলা যেতে পারে এক্ষেত্রে আমিও একজন শিক্ষার্থী।“ যোগ করেন প্রশান্ত মাঝি।

ইনক্রিডেবল ইন্ডিয়ার ট্যুরিস্ট ফেসিলিটেটর সৌরিশ চক্রবর্তী জানান, “আজ ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ডে-তে স্কলকে শুভেচ্ছা জানাই। এদিনের এই হেরিটেজ ওয়াক ট্যুরটি পর্যটন মন্ত্রকের উদ্যোগে ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের ব্যবস্থায় আয়োজন করা হয়েছে। মূলতঃ আমাদের প্রাচীন বাংলায় যে বাস্তব ঐতিহ্যগুলি ছি;ল সেইগুলি নিয়ে আমরা আজ দেখিয়েছি। আমরা আজ অধরা ঐতিহ্যের দিকে যায়নি। বাস্তব ঐতিহ্যগুলি দেখিয়েছি। জিপিও, লালদিঘি, সেন্ট জন্স চার্চের ইতিহাস স্কুলের ছাত্রীরা শিখছে। এদের আজ মূলত কলকাতার প্রাচীন হেরিটেজগুলি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে। আমাদের হেরিটেজের যে নিজস্ব ঐতিহ্য আছে সেগুলি সম্পর্কে এদের একটু জানানো।“

ট্যুরিস্ট ন্যাশনাল গাইড শমিক রায় এই হেরিটেজ ওয়াক ট্যুর সম্পর্কে বলেন- “শুধুমাত্র হেরিটেজ এলাকা এই ডালহৌসিতেই নেই এটা ছড়িয়ে আছে সারা বাংলার আনাচা-কানাচে। উত্তর কলকাতা আর এই এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে এমন অনেক কিছু রয়েছে। যেখানে পর্তুগীজ, ইহুদি, ফরাসী যারা ছিলেন তাদের প্রত্যেকেরই একটা ঐতিহ্য ছড়িয়ে আছে এইসব এলাকাগুলিতে। কলকাতা এমন একটা শহর যেখাবে বিভিন্ন ধরনের মানুষজন এসেছেন তারা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু দিয়ে গিয়েছেন আমাদের এই কলকাতার জন্য। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলা যায় –দেবে আর নেবে মেলাবে মেলাবে যাবে না ফিরে। যাবে না ফিরে এটা পুরোপুরি নয়। বলব আর্মেনিয়রা এখনও আছে কলকাতায়।  বহু পর্তুগীজরা বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয়ে এখানে রয়ে গিয়েছেন। ইংরেজরা রয়েছেন। তবে এর মধ্যে এমন কয়েকটি জায়গা আছে যেখানে প্রবেশ করতে হলে এন্ট্রি ফি দিতে হবে। যেমন-সেন্ট জন্স-এ দিতে হবে, সেন্ট পলসে দিতে হবে। ভিক্টোরিয়ায় দিতে হবে। “

এদিনের হেরিটেজ ওয়াক ট্যুর নিয়ে উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণকারী একমাত্র কমলা বালিকা বিদ্যাপীঠের শিক্ষিকা। তিনি বলেন- “আমাদের ছাত্রীদের নিয়ে এখানে এসেছি। আমাদের এখানে নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের নিয়ে এসেছি। আমাদের অভিজ্ঞতা খুবই ভাল। এখানে খুব যত্ন সহকারে দেখালেন। সমস্ত আতিথেয়তা আমরা উপভোগ করলাম। সব থেকে বড় কথা কলকাতার আদি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলটায় আমাদের মেয়েরা যে ঘুরতে পারল এর জন্য আমাদের তরফ থেকে ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।“

এদিনের হেরিটেজ ওয়াক ট্যুর নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানায় দমদমের কমলা বালিকা বিদ্যাপীঠের ছাত্রীরা। স্কুলের ছাত্রী অনামিকা সাহা জানাল, “খুব ভালো লাগল। নতুন নতুন জিনিস দেখতে পারলাম। আমরা সবাই হেঁটে দেখলাম কলকাতা। “

সুস্মিতা দাস জানাল, “খুব ভাল লাগল। এতদিন আমরা বইয়ে অনেক কিছু পড়েছি। কিন্তু সব কিছু তো দেখা সম্ভব হয় না। এখানে এসে অনেক কিছু জানতে পারলাম। নতুন নতুন জিনিস। অভিজ্ঞতা দারুন।“

সোহানা নাসরিন জনালা- “খুব ভাল লাগছে। আমরা যেগুলো জানতাম না, সেগুলো জানলাম। খুবই ভাল লেগেছে।“

কবিতা ঋষি জানাল-“ খুবই ভাল লাগছে। এখানে কখনোই আসা হয়নি। এই প্রথমবার এসে খুবই ভাল লাগছে। “

সুচন্দ্রা ঘোষ জানাল- “এখানে স্যার, ম্যামরা গাইড করেছে।“

সবশেষে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এ এসে এদিনের হেরিটেজ ওয়াক ট্যুর শেষ হয়। শেষে ট্যাব-এর পক্ষ থেকে সভাপতি প্রশান্ত মাঝি এদিনের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ডে উপলক্ষে কমলা বালিকা বিদ্যাপীঠের শিক্ষার হাতে একটি স্মারক তুলে দেন।

Published on: এপ্রি ১৮, ২০২৫ at ২২:৫৭


শেয়ার করুন