স্মৃতি থেকে স্বপ্নের পথে: হরিপদ ভারতীর ১০৬তম জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা, ভাবনা ও নতুন উদ্যোগ

Main দেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: জুন ২৮, ২০২৬ at ২২:০০

Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২৮ জুন:রবিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট যেন সাক্ষী থাকল এক অনন্য আবেগঘন মুহূর্তের। স্মৃতি, শ্রদ্ধা এবং আগামী দিনের স্বপ্নকে একসূত্রে বেঁধে প্রয়াত শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট সমাজমনস্ক ব্যক্তিত্ব শ্রী হরিপদ ভারতী সকলের মাস্টার মশাই-এর ১০৬তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত হল এক বিশেষ স্মরণসভা। আর্টেমিস ফাউন্টেইন ফাউন্ডেশন -এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, সংগঠক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

হরিপদ ভারতীর নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক সমৃদ্ধ শিক্ষাচর্চা, মানবিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক নিরলস প্রয়াস। শিক্ষকতার গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। তাঁর চিন্তাভাবনা, বক্তৃতা ও কর্মদর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক—এমনটাই মত অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তাদের।

স্মরণসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে নীলাদ্রি ব্যানার্জীচন্দন শঙ্কর দাস আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সমাজের এমন কৃতী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিত্বদের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয় না। তাঁদের মতে, আগামী দিনের সমাজ নির্মাণে এই ধরনের মানুষদের আদর্শ আরও বেশি করে প্রচার করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, নীতিন প্যাটেল তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণার মাধ্যমে হরিপদ ভারতীর মানবিক গুণাবলি তুলে ধরেন এবং এই স্মরণসভার উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানান।  বিকাশ শাস্ত্রী তাঁর পিতার সময়কার স্মৃতি উজ্জীবিত করে ভারতীর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তাঁর সেই আবেগঘন বক্তব্য উপস্থিত সকলকে আপ্লুত করে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন . অরিজিৎ ব্যানার্জি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে হরিপদ ভারতীর জীবনের নানা অজানা অধ্যায়, কর্মদর্শন এবং সমাজভাবনার গভীর তাৎপর্য। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পঁচিশে বৈশাখ উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-কে উৎসর্গ করে ভারতীর কণ্ঠে সংরক্ষিত এক বিরল আবৃত্তির অংশ পরিবেশন। পাশাপাশি প্রদর্শিত হয় শমীক ভট্টাচার্য-র একটি স্মারক বক্তৃতার নির্বাচিত অংশ, যা অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

তবে দিনটি শুধু স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। উপস্থিত অতিথিদের অনেকেই মত প্রকাশ করেন যে, নতুন পশ্চিমবঙ্গ গঠনের লক্ষ্যে হরিপদ ভারতীর চিন্তা, মূল্যবোধ ও সমাজদর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের উপস্থিতিতে স্মরণসভা পরিণত হয় এক ইতিবাচক চিন্তা-বিনিময়ের মঞ্চে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত ছিল আর্টেমিস ফাউন্টেইন ফাউন্ডেশন –এর পক্ষ থেকে একটি নতুন সামাজিক উদ্যোগের ঘোষণা। শিপ্রা ব্যানার্জি-র নেতৃত্বে এবং ড. অরিজিৎ ও অর্পিতা ব্যানার্জি-র তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছতা হি সেবা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলকাতা পুরসভার ৮৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পাইলট প্রকল্প শুরুর ঘোষণা করা হয়। উদ্যোক্তাদের মতে, এই উদ্যোগ  হরিপদ ভারতীর সমাজমুখী আদর্শকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি শেষ হয় কোনও আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির মধ্য দিয়ে নয়, বরং এক নীরব অঙ্গীকারের মাধ্যমে—শ্রী হরিপদ ভারতীর জীবন, চিন্তা ও মূল্যবোধকে শুধু স্মৃতির পাতায় নয়, আগামী প্রজন্মের কর্ম ও চেতনার মধ্যেও জীবন্ত করে রাখার প্রত্যয়ে।

Published on: জুন ২৮, ২০২৬ at ২২:০০


শেয়ার করুন