

Published on: জুন ১৩, ২০২৬ at ২৩:৩৮
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা ও ভোপাল, ১৩ জুন: ভারতের পাঁচটি পবিত্র নদীর অন্যতম নর্মদা শুধু একটি নদী নয়, কোটি কোটি হিন্দু ভক্তের কাছে তিনি ‘মা নর্মদা’ নামে পূজিত। ভারতের পঞ্চম দীর্ঘতম এবং দেশের দীর্ঘতম পশ্চিমমুখী নদী নর্মদার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে সামনে রেখে মধ্যপ্রদেশ পর্যটন দফতর বিশেষ ‘নর্মদা পরিক্রমা যাত্রা’ বা নর্মদা যাত্রা-র আয়োজন করেছে।
মধ্যপ্রদেশের অমরকণ্টকে মাইকাল পর্বতমালার কোলে জন্ম নেওয়া নর্মদা নদী প্রায় ১,৩১২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে গুজরাটের ভরুচের কাছে আরব সাগরে মিলিত হয়েছে। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, এই পবিত্র নদীর উৎপত্তি স্বয়ং ভগবান শিবের আশীর্বাদে। মৎস্য পুরাণ সহ একাধিক প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে নর্মদার মাহাত্ম্যের উল্লেখ রয়েছে।
নর্মদার দুই তীর জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য তীর্থস্থান, মন্দির এবং সাধনক্ষেত্র। এই নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক অনন্য ধর্মীয় ঐতিহ্য—নর্মদা পরিক্রমা। বিশ্বাস করা হয়, ভারতের মধ্যে একমাত্র নর্মদা নদীকেই উৎস থেকে সাগর পর্যন্ত এবং সেখান থেকে পুনরায় উৎসস্থলে ফিরে এসে সম্পূর্ণ প্রদক্ষিণ করার বিশেষ প্রথা প্রচলিত রয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ পর্যটন দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই যাত্রার জন্য দুটি পৃথক পরিক্রমা রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি যাত্রা শুরু হয় জবলপুর থেকে এবং অন্যটি ইন্দোর বা ভোপাল থেকে।
জবলপুর থেকে শুরু হওয়া যাত্রায় প্রথম গন্তব্য অমরকণ্টক, যেখানে অবস্থিত নর্মদেশ্বর মন্দির এবং নর্মদার উৎসস্থল। এরপর যাত্রীরা পৌঁছান প্রাচীন তীর্থনগরী উজ্জয়িনীতে, যা মহাভারত এবং কুম্ভমেলার জন্য বিশ্ববিখ্যাত। যাত্রাপথে রয়েছে জ্যোতির্লিঙ্গক্ষেত্র ওমকারেশ্বর এবং প্রায় আড়াই হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী শহর মহেশ্বর, যেখানে শিবভক্তদের জন্য রয়েছে অসংখ্য মন্দির ও ধর্মীয় নিদর্শন।
অন্যদিকে ইন্দোর-ভোপাল রুটের যাত্রা ওমকারেশ্বর থেকে শুরু হয়ে বারওয়ানি, রাজপিপলা, ভামলেশ্বর, মিঠি তালাই, ঝাবুয়া, মান্ডু, মহেশ্বর, উজ্জয়িনী, সালকানপুর, জবলপুর, অমরকণ্টক, মান্ডলা, কারেলি এবং হোশঙ্গাবাদসহ একাধিক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানের মধ্য দিয়ে পুনরায় ওমকারেশ্বরে ফিরে আসে। পুরো যাত্রা সম্পন্ন করতে সময় লাগে ১৪ দিন ১৫ রাত।
পর্যটন দফতরের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নর্মদা তীরবর্তী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং রাজ্যের ধর্মীয় পর্যটনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
পথ চলতে চলতে নর্মদা কখনও পাহাড়, কখনও অরণ্য, কখনও জনপদ ছুঁয়ে এগিয়ে যায়। তার দুই তীরে গড়ে উঠেছে সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিকতার এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। শেষ পর্যন্ত গুজরাটের ভরুচের কাছে আরব সাগরে মিশে যাওয়ার আগে এই নদী আশীর্বাদ, সমৃদ্ধি এবং জীবনের বার্তা বয়ে নিয়ে যায় লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, ভগবান শিব নর্মদাকে চিরকুমারী ও চিরপবিত্র থাকার বর দিয়েছিলেন। সেই কারণেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে নর্মদা শুধু একটি নদী নয়, তিনি এক জীবন্ত দেবী—যাঁর দর্শন ও পরিক্রমা জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক সাধনা বলে মনে করা হয়।
Published on: জুন ১৩, ২০২৬ at ২৩:৩৮



