কাশীতে একটাই সরকার, যাদের হাতে ডমরু তাদের সরকার-বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

দেশ ধর্ম ভ্রমণ
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Published on: ডিসে ১৪, ২০২১ @ ০০:১০

এসপিটি নিউজ, কাশী, ১৩ ডিসেম্বর: বাবা বিশ্বনাথের দরবার কাশীধামের পুনর্নিমাণের শুভ উদ্ঘাটন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মহাসমারোহে এই অনুষ্ঠানের আয়োজিত হয়। উপস্থিত ছিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি তুলে ধরেন কাশীধামের মহান ঐতিহ্য ও তার সংস্কৃতির কথা। তুলে ধরেন এই বিশ্বখ্যাত তীর্থস্থানের সঙ্গে যুক্ত থাকা মহান সেইসব মানুষদের কথাও।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন- “এই মুহূর্তে, বাবার সাথে, আমিও শহর কোতয়াল কালভৈরব জিকে দেখে দেশবাসীর জন্য তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে আসছি।কাশীতে বিশেষ কিছু, নতুন কিছু, তাদের জিজ্ঞাসা করা আবশ্যক।আমিও কাশীর কোতোয়ালের পায়ে প্রণাম করি। আমাদের পুরাণে বলা আছে কাশীতে প্রবেশ করলেই সমস্ত বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যায়। ভগবান বিশ্বেশ্বরের আশীর্বাদ, আমরা এখানে আসার সাথে সাথে একটি অতিপ্রাকৃত শক্তি আমাদের অভ্যন্তরীণ আত্মাকে জাগ্রত করে।”

এখানে এলে শুধু বিশ্বাস দেখতে পাবেন না,আপনি এখানে আপনার অতীতের গৌরবও অনুভব করবেন।কিভাবে প্রাচীনতা এবং অভিনবত্ব একসাথে জীবিত হয়, প্রাচীনের অনুপ্রেরণা কীভাবে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে,আমরা বিশ্বনাথ ধাম কমপ্লেক্সে এর সরাসরি দর্শন করছি, বলেন মোদি।

“বিশ্বনাথ ধামের এই সম্পূর্ণ নতুন কমপ্লেক্সটি কেবল একটি বিশাল ভবন নয়, এটা আমাদের ভারতের সনাতন সংস্কৃতির প্রতীক,এটা আমাদের আধ্যাত্মিক আত্মার প্রতীক!এ যেন ভারতের প্রাচীনত্ব, ঐতিহ্যের প্রতীক! ভারতের শক্তি, গতিশীলতা।”

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন- “আগে এখানে মন্দিরের আয়তন যা ছিল মাত্র তিন হাজার বর্গফুট, এখন তা প্রায় ৫ লাখ বর্গফুটে হয়েছে। এখন মন্দির ও মন্দির চত্বরে ৫০ থেকে ৭৫ হাজার ভক্ত আসতে পারেন। অর্থাৎ প্রথমে মা গঙ্গার দর্শন-স্নান, সেখান থেকে সরাসরি বিশ্বনাথ ধাম। কাশী তো কাশী! কাশী অবিনশ্বর। কাশীতে একটাই সরকার, যাদের হাতে ডমরু তাদের সরকার। কাশী যেখানে গঙ্গা তার স্রোত পরিবর্তন করে প্রবাহিত হয় তাকে কে থামাতে পারে? ”

“আজ আমি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই প্রত্যেক শ্রমজীবী ​​ভাই ও বোনের প্রতি যাদের ঘাম ঝরিয়েছে এই বিশাল কমপ্লেক্স নির্মাণে। এমনকি করোনার মতো সময়েও এখানে কাজ থামতে দেননি। আমি এই শ্রম সহকর্মীদের সাথে দেখা করার এবং তাদের আশীর্বাদ নেওয়ার সৌভাগ্য পেয়েছি। আমি আমাদের সমস্ত কারিগরদের, আমাদের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের, প্রশাসনের লোকজনকে, সেই পরিবারগুলিকে অভিনন্দন জানাই যাদের এখানে তাদের বাড়ি ছিল। এই সবের পাশাপাশি, আমি ইউপি সরকারকে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জিকেও অভিনন্দন জানাই, যারা কাশী বিশ্বনাথ ধাম প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করতে দিনরাত এক করেছেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদি বলেন- আওরঙ্গজেব এখানে এলে শিবাজীও উঠে দাঁড়ায়! এমনকি ব্রিটিশ আমলেও কাশীর মানুষ জানত হেস্টিংসের কী হয়েছিল।হানাদাররা এই শহর আক্রমণ করেছে, ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে!আওরঙ্গজেবের নৃশংসতার ইতিহাস, তার সন্ত্রাস সাক্ষী। কে তরবারির আঘাতে সভ্যতা বদলানোর চেষ্টা করেছে, কে ধর্মান্ধতায় সংস্কৃতিকে পিষে ফেলতে চেয়েছে! তবে এদেশের মাটি পৃথিবীর অন্যান্য দেশের থেকে আলাদা।

“কাশী শব্দের বিষয় নয়, অনুভূতির সৃষ্টি। কাশী সেই-যেখানে জাগরণই জীবন! কাশী যেখানে মৃত্যুও মঙ্গলজনক! কাশী যেখানে সত্য সেখানে সংস্কৃতি! কাশী যেখানে ভালবাসা ঐতিহ্য।”

এখানেই সারনাথে ভগবান বুদ্ধের উপলব্ধি জগতের সামনে আবির্ভূত হয়েছিল। যদি সমাজকে সংযুক্ত করার প্রয়োজন হত, তবে এই কাশী হয়ে উঠত সন্ত রাইদাস জির ভক্তির শক্তির কেন্দ্র।

বেনারস সেই শহর যেখান থেকে জগদ্গুরু শঙ্করাচার্য শ্রীদোম রাজার পবিত্রতা থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন, তিনি দেশকে ঐক্যের সুতোয় বেঁধে রাখার সংকল্প করেছিলেন। এই সেই জায়গা যেখানে গোস্বামী তুলসীদাস জি ভগবান শঙ্করের অনুপ্রেরণায় রামচরিত মানসের মতো একটি অতিপ্রাকৃত সৃষ্টি করেছিলেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

“এখানে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের পা পড়ে ছিল।রানীলক্ষ্মী বাই থেকে চন্দ্রশেখর আজাদ পর্যন্ত কাশী বহু যোদ্ধার জন্মভূমি। ভারতেন্দু হরিশচন্দ্র, জয়শঙ্কর প্রসাদ, মুন্সি প্রেমচাঁদ, পণ্ডিত রবিশঙ্কর এবং বিসমিল্লাহ খানের মতো প্রতিভা, এই স্মরণকে কতদূর নিয়ে যাওয়া উচিত। কাশী চার জৈন তীর্থঙ্করের দেশ, অহিংসা ও তপস্যার প্রতীক। রাজা হরিশচন্দ্রের সততা থেকে বল্লভাচার্য, রামানন্দ জির জ্ঞান পর্যন্ত, চৈতন্য মহাপ্রভু, সমর্থগুরু রামদাস থেকে শুরু করে স্বামী বিবেকানন্দ, মদনমোহন মালবিয়, অনেক ঋষি, আচার্য কাশীর পবিত্র ভূমির সাথে সম্পর্কিত।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন- প্রত্যেক ভারতীয়র বাহুতে সেই শক্তি আছে, যা কল্পনাতীতকে সত্য করে তোলে।আমরা তপস্যা জানি, আমরা তপস্যা জানি, আমরা জানি কীভাবে দেশের জন্য দিনরাত্রি ব্যয় করতে হয়। চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক না কেন, আমরা ভারতীয়রা একে একে পরাজিত করতে পারি।”

“আজকের ভারত তার হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করছে। এখানে কাশীতে, মা অন্নপূর্ণা স্বয়ং বাস করেন। আমি খুশি যে কাশী থেকে চুরি হওয়া মা অন্নপূর্ণার মূর্তিটি এক শতাব্দী অপেক্ষার পর এখন কাশীতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

আমার কাছে জনার্দন ভগবানের রূপ, প্রত্যেক ভারতীয় ভগবানের অংশ, তাই আমি কিছু চাইতে চাই, বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

Published on: ডিসে ১৪, ২০২১ @ ০০:১০


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •