

Published on: মার্চ ১৮, ২০২৬ at ২০:২১
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৮ মার্চ: ভারতের প্রিমিয়াম সেডান বাজারে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে টয়েটো ক্যামরি হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (Toyota Camry Hybrid Electric Vehicle)। পঞ্চম প্রজন্মের হাইব্রিড প্রযুক্তিতে তৈরি এই বিলাসবহুল গাড়িকে আরও বেশি মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলতে কলকাতায় টপসেল টয়োটোর ভবনে আয়োজিত হল এক বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলন। সংস্থার অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুতে লঞ্চ হওয়ার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই গাড়ি কলকাতার বাজারে আসে। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা দামের এই গাড়ি গত এক বছরে শহরে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৭৫টি, অর্থাৎ মাসে গড়ে ৬টিরও বেশি—যা এই সেগমেন্টে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিন টপসেল টয়োটোর গেস্ট এক্সপেরিয়েন্স ম্যানেজার (কর্পোরেট সেলস) নীলাদ্রি গুপ্ত এবং গ্রুপ হেড ট্রেইনার বি ভেঙ্কট কৃষ্ণা ক্যামরির দীর্ঘ যাত্রাপথ ও প্রযুক্তিগত বিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, ২০০২ সালে ক্যামরি প্রথম বাজারে আসে শুধুমাত্র পেট্রল গাড়ি হিসেবে। ২০১৩ সালে হাইব্রিড সংস্করণ এলেও সেটিতে আলাদা করে চার্জ দিতে হত। এরপর ২০১৯ সালে পেট্রল-হাইব্রিড মডেল আসে এবং ২০২৪ সালে শুরু হয় একেবারে নতুন পঞ্চম প্রজন্মের হাইব্রিড প্রযুক্তির উৎপাদন, যা বর্তমানে HEV বা হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল নামে পরিচিত। কলকাতায় এই মডেল আসে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আগের মডেলে যেখানে মাইলেজ ছিল ২৩.৬৭ কিমি প্রতি লিটার, সেখানে নতুন মডেলে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫.৪৯ কিমি প্রতি লিটার।
গাড়িটির হাইব্রিড প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে, তা অত্যন্ত সহজভাবে ব্যাখ্যা করেন নীলাদ্রি গুপ্ত। তিনি বলেন, গাড়ি স্টার্ট হওয়ার সময় প্রথমেই ব্যাটারি থেকে শক্তি আসে। এই ব্যাটারি আবার দুইভাবে চার্জ হয়—এক, ব্রেক করার সময় যে এনার্জি তৈরি হয় তা থেকে, এবং দুই, পেট্রল ইঞ্জিনের মাধ্যমে। অর্থাৎ, আপনি যখন গাড়ি চালানোর সময় ব্রেক করছেন, তখন সাধারণত যে শক্তি অপচয় হয়, সেটিই এখানে ব্যাটারিকে চার্জ করে। আবার আপনি যখন স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন এবং অ্যাক্সিলেশন ধরে রাখছেন, তখন ইলেকট্রিক মোটর থেকে শক্তি আসে—ফলে পেট্রলের ব্যবহার কম হয়। কিন্তু যখন আপনি উঁচু রাস্তায় উঠছেন বা বেশি শক্তির প্রয়োজন হচ্ছে, তখন পেট্রল ও ব্যাটারি একসঙ্গে কাজ করে, যাতে গাড়ির পারফরম্যান্সে কোনও ঘাটতি না থাকে। অন্যদিকে, যখন আপনি ঢালু পথে নামছেন বা ট্র্যাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে আছেন, তখন পেট্রল ইঞ্জিনের জ্বালানি অপচয় না হয়ে ব্যাটারি থেকেই শক্তি সরবরাহ হয়। এইভাবে একটি ১০০ কিলোমিটার ড্রাইভের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাটারি সাপোর্ট পাওয়া সম্ভব, যা জ্বালানি সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা নেয়। বিশেষ করে ব্যাটারিতে চলার সময় গাড়িটি প্রায় নিঃশব্দে চলে, যা এই মডেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এই গাড়িতে রয়েছে উন্নত ২.৫ লিটার ডাইনামিক ফোর্স ইঞ্জিন, যা শক্তি ও মসৃণতার সেরা সমন্বয় ঘটায়। e-CVT ট্রান্সমিশনের সঙ্গে যুক্ত এই ইঞ্জিন ইকো, নরমাল ও স্পোর্ট—এই তিন ধরনের ড্রাইভিং মোডে চালানো যায়। সর্বোচ্চ ১৬৯ কিলোওয়াট শক্তি এবং ২২১ নিউটন মিটার টর্ক উৎপাদনক্ষম এই গাড়ি পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অসাধারণ জ্বালানি দক্ষতাও বজায় রাখে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এই মডেল এক ধাপ এগিয়ে। এতে রয়েছে Toyota Safety Sense 3.0 (TSS 3.0), যার মধ্যে আছে ১) প্রাক-সংঘর্ষ ব্যবস্থা (Pre-Collision System) অর্থাৎ গাড়ি চালানোর সময় যদি সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি আসে তখন আপনাকে আগে থেকে স্তর্ক করে দেব। ২) লেন ট্র্যাকিং সহায়তা( Lane Tracing Assist) অর্থাৎ গাড়ি চালানোর সময় কখনও যদি কোনও অবস্থায় গাড়ি লেন বদলে ফেলে তখনই আপনাকে সতর্ক করে দেব। ৩) ডাইনামিক রাডার ক্রুজ কন্ট্রোল( Dynamic Radar Cruise Control) অর্থাৎ গাড়ি চালানর সময় কখনও যদি ঝিমুনি ভাব চলে আসে তখনই আপনাকে ভাইব্রেট মুডে সতর্ক করে দেব। এমনই সব অত্যাধুনিক ফিচার রয়েছে। পাশাপাশি ৩৬০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ মনিটর, যানবাহন আগমন সতর্কীকরণ ব্যবস্থা (Vehicle Approach Notice System )এবং মোট ৯টি SRS এয়ারব্যাগ যাত্রীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
গাড়িটির অভ্যন্তরীণ ডিজাইনেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। ১২.৩ ইঞ্চির মাল্টিমিডিয়া ডিসপ্লে ও ডিজিটাল ইনফরমেশন ক্লাস্টার, হেডস-আপ ডিসপ্লে, JBL-এর ৯ স্পিকারের প্রিমিয়াম অডিও সিস্টেম, থ্রি-জোন ক্লাইমেট কন্ট্রোল এবং ওয়্যারলেস চার্জিং—সব মিলিয়ে এটি এক আধুনিক ও বিলাসবহুল অভিজ্ঞতা দেয়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, পিছনের যাত্রীরাও নিজেদের মতো করে অডিও ও এসি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এছাড়াও অনলাইন ও অফলাইন—দুই ধরনের নেভিগেশন ব্যবস্থাই এতে রয়েছে।
গাড়িটির ডিজাইনও সমানভাবে আকর্ষণীয়। “Energetic Beauty” ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই মডেলে নতুন ফ্রন্ট বাম্পার, বড় লোয়ার গ্রিল এবং অ্যারোডাইনামিক বডি এটিকে আরও স্টাইলিশ ও প্রিমিয়াম লুক দিয়েছে। পাশাপাশি এতে রয়েছে Toyota T-Connect টেলিম্যাটিক্স, ডেটা কমিউনিকেশন মডিউল, nanoe™ X এয়ার পিউরিফিকেশন এবং মুনরুফের মতো আধুনিক সুবিধা।
অনুষ্ঠানের শেষে নীলাদ্রি গুপ্ত সাংবাদিকদের নিয়ে একটি টেস্ট ড্রাইভ করান, যেখানে উপস্থিত সকলেই গাড়িটির মসৃণতা, নিঃশব্দ চলন এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা সরাসরি অনুভব করেন। প্রিমিয়াম সেডান সেগমেন্টে এই নতুন ক্যামরি এখন Mercedes-Benz C-Class-এর মতো প্রতিষ্ঠিত মডেলের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তুলনামূলকভাবে কম জ্বালানি খরচ, উন্নত প্রযুক্তি এবং বিলাসবহুল অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এই গাড়ি যে ভবিষ্যতের পরিবহণের এক শক্তিশালী ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই যায়।






Published on: মার্চ ১৮, ২০২৬ at ২০:২১



