সাঁতরাগাছি–জয়পুর নতুন এক্সপ্রেস চালু, বাড়ল পাঁচ রাজ্যের রেল যোগাযোগ

Main দেশ রাজ্য রেল
শেয়ার করুন

Published on: অক্টো ২৬, ২০২৬ at ২৩:০৬

এসপিটি নিউজ,কলকাতা, ২৬ অক্টোবর: পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে রাজস্থান-সহ দেশের একাধিক রাজ্যের রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করতে চালু হলো নতুন সাঁতরাগাছি–খাতিপুরা (জয়পুর) এক্সপ্রেস। সোমবার সাঁতরাগাছি স্টেশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন ট্রেনটির উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য ও রেলের একাধিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধি। রেলমন্ত্রী ভিডিও-যোগাযোগের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। একই সঙ্গে টাটানগর স্টেশনেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নতুন এই রেল পরিষেবার ফলে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের মধ্যে যাতায়াত আরও সুবিধাজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মসূত্রে রাজস্থানে বসবাসকারী মানুষ, ব্যবসায়ী, পড়ুয়া এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য এই ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কলকাতা ও জামশেদপুরের সঙ্গে জয়পুরের রেল যোগাযোগ উন্নত হওয়ায় পর্যটন ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনটির নিয়মিত পরিষেবা শুরু হবে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে। সাঁতরাগাছি থেকে প্রতি বুধবার ট্রেনটি ছাড়বে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে। পরের দিন বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় সেটি রাজস্থানের খাতিপুরা স্টেশনে পৌঁছবে। অন্যদিকে, ফিরতি পথে খাতিপুরা থেকে প্রতি শুক্রবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি ছাড়বে এবং পরের দিন শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে সাঁতরাগাছিতে পৌঁছবে।

ট্রেনটির যাত্রাপথে পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুর, ঝাড়খণ্ডের টাটানগর, চান্ডিল, পুরুলিয়া, মুড়ি, রাঁচি, লোহারদাগা, টোরি, লাতেহার, বরওয়াডিহ, ডালটনগঞ্জ ও গড়ওয়া রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রয়েছে। এ ছাড়া জপলা, দেহরি অন সোন, সাসারাম, ভাভুয়া রোড, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন, মির্জাপুর, প্রয়াগরাজ, ফতেপুর, কানপুর সেন্ট্রাল, টুন্ডলা, আগ্রা ইদগাহ, খেরলি, মান্ডাওয়ার মহওয়া রোড, বান্দিকুই এবং দৌসা স্টেশনেও ট্রেনটির যাত্রাবিরতি থাকবে।

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন এই পরিষেবা বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষের যাতায়াতে সুবিধা দেবে। রেল যোগাযোগের প্রসার ঘটলে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি পর্যটকরাও উপকৃত হবেন।

পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই ট্রেনের গুরুত্ব রয়েছে। জয়পুর রাজস্থানের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। অন্যদিকে, কলকাতা, পুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলেও পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো বহু স্থান রয়েছে। সরাসরি রেল যোগাযোগের উন্নতি হলে পর্যটন সংস্থাগুলি পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও রাজস্থানকে যুক্ত করে নতুন ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করার সুযোগ পেতে পারে। তবে পর্যটকদের যাত্রার আগে ট্রেনের সময়সূচি, আসন সংরক্ষণ এবং ভাড়ার তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।

নতুন এই এক্সপ্রেস চালুর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলছে। রেলমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে ৫৭টি স্টেশনের উন্নয়নের কাজ চলছে। পশ্চিমবঙ্গের সাঁতরাগাছি-সহ একাধিক স্টেশনকেও আধুনিক করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাওড়া, খড়গপুর, চাকুলিয়া ও টাটানগরের মধ্যে রেলপথের ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।

সব মিলিয়ে, সাঁতরাগাছি–খাতিপুরা এক্সপ্রেসের সূচনা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নিয়মিত পরিষেবা শুরু হলে যাত্রীদের যাতায়াতের নতুন বিকল্প তৈরি হবে। একই সঙ্গে পর্যটন, ব্যবসা ও আন্তঃরাজ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই রেল পরিষেবা কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

Published on: অক্টো ২৬, ২০২৬ at ২৩:০৬


শেয়ার করুন