

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৭ মার্চ: দলীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। কালিঘাটে সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কণ্ঠে ছিল চ্যালেঞ্জের সুর—“যতই চেষ্টা করুন, কিছুই হবে না। ২০২৬-এ ২২৬টির বেশি আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসবে তৃণমূল।”
মমতা সরাসরি বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এত ভয় পাচ্ছেন কেন? শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করুন। বাইরে থেকে লোক এনে, এজেন্সি ব্যবহার করে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করবেন না।” একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন ঘোষণার আগেই প্রশাসনের শীর্ষস্তরে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কমিশন নিরপেক্ষ না থেকে বিজেপির ইশারায় কাজ করছে। “নোটিফিকেশন এখনও হয়নি, তার আগেই একের পর এক অফিসার বদলি করা হচ্ছে। এভাবে মেঘের আড়াল থেকে খেলা কেন? সরাসরি ময়দানে নেমে পড়ুন,”—কটাক্ষ তাঁর।
মমতার আরও অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে ফেলা হচ্ছে। তিনি বলেন, “মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, ভোট দেয় মানুষই। মানুষের শক্তিকেই আমরা ভরসা করি।”
বাংলার ‘অস্মিতা’ ও ‘অস্তিত্ব’ রক্ষার লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “বাংলাকে যত টার্গেট করবেন, বাংলার মানুষ ততই প্রত্যাঘাত করবে। মা-মাটি-মানুষই শেষ কথা বলবে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কেও পরোক্ষে নিশানা করে মমতা প্রশ্ন তোলেন, “গণতন্ত্রে আস্থা থাকলে বাংলাকে এভাবে টার্গেট করছেন কেন?”
সবশেষে আত্মবিশ্বাসী সুরে তাঁর ঘোষণা, “বিজেপির কোনও সম্ভাবনা নেই। আগের থেকেও খারাপ ফল হবে। আমরা ২০২৬-এ ২২৬-এর বেশি আসন নিয়ে জিতব—এটাই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।”
রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই যে এই লড়াই আরও তীব্র হয়েছে, তা স্পষ্ট।



