

Published on: মার্চ ২২, ২০২৬ at ২১:১৮
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২২ মার্চ: ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা—এই দুই পদ রাজনৈতিক ভারসাম্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বিধানসভা নির্বাচনে কি কখনও এই দুই শীর্ষ নেতা একই কেন্দ্র থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়েছেন?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন ঘটনা ভারতের ইতিহাসে প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ, বিরোধী দলনেতা পদটি সাধারণত নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত হয়। ফলে নির্বাচনের সময় ‘সিটিং’ মুখ্যমন্ত্রী ও ‘সিটিং’ বিরোধী দলনেতার সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় না।
তবে ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এই বিতর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি লড়াইয়ে নামেন তাঁর প্রাক্তন সহযোগী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী–র বিরুদ্ধে। এই লড়াই রাজনৈতিক মহলে ‘প্রেস্টিজ ব্যাটল’ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, অল্প ব্যবধানে জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে তিনি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে এই ঘটনাকে অনেকেই ‘মুখ্যমন্ত্রী বনাম ভবিষ্যৎ বিরোধী দলনেতা’-র লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে ২০১৩ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত–এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সেই নির্বাচনে কেজরিওয়ালের জয় দিল্লির রাজনৈতিক পালাবদলের সূচনা করে। তবে সেই সময় কেজরিওয়াল বিরোধী দলনেতা পদে ছিলেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীরা সাধারণত নিরাপদ আসন বেছে নেন, যেখানে জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও কৌশলগত কারণে তাদের শীর্ষ নেতাদের ভিন্ন ভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থী করে। ফলে সরাসরি মুখোমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনা কমে যায়।
সব মিলিয়ে, ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে ‘সিটিং মুখ্যমন্ত্রী বনাম সিটিং বিরোধী দলনেতা’—একই কেন্দ্রে এমন সরাসরি লড়াই কার্যত বিরল। তবে নন্দীগ্রাম ২০২১–এর মতো কিছু ঘটনা এই ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। (ফাইল ছবি)
Published on: মার্চ ২২, ২০২৬ at ২১:১৮



