
Published on: মে ১৩, ২০২৫ at ১৭:৫৮
Reporter” Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৩ মে: গতকাল কলকাতায় মহাবোধি সোসাইটিতে মহাসমারোহে উদযাপিত হল বুদ্ধ পূর্ণিমা। সেখানে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ভগবান বুদ্ধের অস্থি প্রদর্শন। যা কিনা সত্যিই এক বিরল দর্শন বলে মনে করছেন উপস্থিত সকলেই। এই দিন মহাবোধি সোসাইটিতে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপনে সামিল হয়েছিল অ্যাসোসিয়েশন অব বুদ্ধিস্ট ট্যুর অপারেটর্স বা এবিটিও। বুদ্ধের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছে রয়্যাল থাই কনস্যুলেট।
এবিটিও-র পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান বিদ্যুৎ মিত্র জানান, “আমরা অ্যাসোসিয়েশন অব বুদ্ধিস্ট ট্যুর অপারেটর্স বা এবিটিও-র পক্ষ থেকে এদিন কলকাতায় মহাবোধি সোসাইটিতে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়। এখানে এদিন ভগবান বুদ্ধের অস্থি প্রদর্শিত হয়। সারা বছরে শুধু মাত্র এই দিনটিতেই এই অস্থি দেখার সৌভাগ্য মেলে সাধারন মানুষের। আমাদেরও সেই সৌভাগ্য হল। খুব সুন্দর এক পরিবেশের মধ্য দিয়ে আমরা এদিন বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন করলাম।“

মহা বোধি সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার অফিস-অন-স্পেশাল ডিউটি ( প্রশাসনিক) রণধীশ চৌধুরি এদিন সংবাদ প্রভাকর টাইমস-কে বলেন- “আজ (১২ মে, ২০২৫) ভগবান বুদ্ধের ২৫৬৯তম জন্মদিন। বুদ্ধের এই বৈশাখ মাসের পূর্ণিমায় জন্ম হয়েছিল। আবার এই বৈশাখ মাসের পূর্ণিমায় উনি বুদ্ধত্ব লাভ করেছিলেন, আবার এই বৈশাখ মাসের পূর্ণিমাতেই ওনার মহানির্বাণ প্রাপ্তি হয়েছিল। সেই দিক থেকে দেখলে এই দিনটির তাৎপর্য সারা পৃথিবীর বুদ্ধ ভক্ত ও তার ফলোয়ারদের কাছে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সারা বিশ্বজুড়েও এইদিনটি উদযাপিত হচ্ছে মহাসমারোহে। রাষ্ট্র সঙ্ঘ এই দিনটিকে বুদ্ধের জন্যে এক বিশেষ দিন ঘোষণা করেছে। ভারত সরকারও এদিন্টিকে জাতীয় ছুটির দিন বলে ঘোষণা করেছে। সারা পৃথিবীতে বুদ্ধকে নিয়ে যে এত কিছু চলছে তার প্রধান কারণ হল বুদ্ধের বাণী। বুদ্ধ কখনও বিশেষ ধর্ম, আচ্রণ, এসব কিছু বলেননি। উনি কতগুলি পথের কথা বলেছেন। তাও বলেছেন যে যদি কারও সঠিক বলে মনে হয় তবেই তা পালন করবে। তিনি আটটি পথের কথা বলেছেন। সেই পথগুলি যদি আমরা অনুস্রণ করি তাহলে যে ঘতনাগুলি মানুষের জীবনে হবেই, যেমন- জরা-ব্যাধি-বার্ধক্য-মৃত্যু এসব কেউ রুখতে পারবে না। কণও কিছুতেই এগুলি রোখা যায় না। এজন্য বুদ্ধের বাণী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। “
“এখানে আমরা বুদ্ধের একটা অস্থি পেয়েছি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার থেকে ১৯২০ সালে। এটা আজকেই দেখানো হচ্ছে অন্যদিন দেখানো হয় না। এটা তৎকালীন বড় লাট বলেছিলেন যদি এমন কোনও জায়গা পবিত্র মন্দির বানাতে পারো তবেই আমি দেব। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা অনাগরিক ধর্ম্পাল এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তক্লহন আমাদের এখানে প্রথম ভারতীয় প্রেসিডেন্ট ছিলেন স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। তার পরেই এখানে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তিনি ১১ বছর এখানে প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ওনারা কেউ বুদ্ধিস্ট ছিলেন না, ওনারা ছিলেন ফলোয়ার, যেমন রবীন্দ্রনাথ উনি তো বুদ্ধিস্ট নন উনি তো ব্রাহ্ম ছিলেন। কিন্তু তিনি ভীষণভাবে বুদ্ধের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। এবং স্বামী বিবেকানন্দ রতো বলেই গিয়েছেন একটাই মানুষ যদি সর্বশ্রেষ্ঠ হন তিনি হলেন বুদ্ধ। তিনি হিংসাকে এতটুকু সমর্থন করেননি। প্রতিটি প্রাণী ওনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।“ যোগ করেন রণধীশবাবু।

কলকাতায় মহাবোধি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ নেতা অনাগরিক ধর্মপাল। কলকাতায় এই সোসাইটি বৌদ্ধ ধর্মের পুনরুজ্জীবন এবং ভারতে বৌদ্ধ তীর্থস্থানগুলির পুনরুদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এখানে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান আছে যা বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রতি আগ্রহীদের আকৃষ্ট করে। এখানে মূল মন্দিরটিকে বলা হয়ে থাকে শ্রী ধর্মরাজিকা চৈত্য বিহার। এর দেয়ালে বুদ্ধের জীবনের বিভিন্ন দৃশ্য অঙ্কিত রয়েছে যা অজন্তা গুহার শিল্পকলার কথা মনে করিয়ে দেয়। এখানে বিভিন্ন বৌদ্ধ মূর্তি ও পবিত্র relic (ধাতু) সংরক্ষিত আছে। আছে বিভিন্ন রকমের বুদ্ধ মূর্তি। এখানে আছে জাপানের বুদ্ধ মূর্তি। রয়েছে বার্মিজ মূর্তিও। আছে অরবিনন্দ বড়ুয়া লাইব্রেরি। এই গ্রন্থাগারে বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শন সম্পর্কিত প্রচুর বই, জার্নাল, পাণ্ডুলিপি এবং ঐতিহাসিক নথি রয়েছে। এটি গবেষক ও জ্ঞানপিপাসুদের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ।আছে তিব্বতি প্রার্থণা চক্রও।





Published on: মে ১৩, ২০২৫ at ১৭:৫৮



