প্রতীক উরকে নিয়ে সিপিএমকে কড়া বার্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

Main দেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: ফেব্রু ২১, ২০২৬ at ২৩:২৩

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২১ ফেব্রুয়ারি: বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় সংগঠন হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসকেই বেছে নেওয়ার কথা জানালেন সদ্য বহিস্কৃত সিপিএম নেতা প্রতীক উর। তাঁর তৃণমূলে যোগদানের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিপিএমের রাজনীতি ও আদর্শ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ডায়মন্ডহারবারের ১ নম্বর ব্লকের একটি গ্রামের বাসিন্দা প্রতীক উরকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন বলে জানান অভিষেক। বলেন, অতীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হয়েছে, তবু কখনও তৃণমূলকে আক্রমণ করতে দেখা যায়নি তাঁকে। সিপিএমের বর্তমান প্রজন্মের কর্মীদের আন্দোলন-মিছিলেই বেশি দেখা যায়, অথচ টিভি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপ্লবী ভাষণের আড়ালে স্বাধীনতার গণ্ডি লঙ্ঘনের প্রবণতা বাড়ছে—এমন অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক লড়াই হবে গণতান্ত্রিক পরিসরের মধ্যেই।

এসআইআর প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, বাংলা-সহ ১২টি রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে, কিন্তু তার ত্রুটি নিয়ে সবচেয়ে জোরালোভাবে সরব হয়েছে তৃণমূলই। বাংলায় এক নিয়ম, বিহারে আর এক নিয়ম—এই দ্বিচারিতা মানা যায় না। গায়ের জোরে লাইনে দাঁড় করিয়ে জীবিত মানুষের নাম কাটা—এমন অভিযোগে তৃণমূল কোর্টে, মাঠে এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে লড়াই করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে কেরালায় ক্ষমতায় থাকা সিপিএমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক।

বাম আদর্শের ধারাবাহিকতা নিয়েও সিপিএমকে কটাক্ষ করেন তিনি। ২০২১ সালে কেরালায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই আর একই সময়ে বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট—এই দ্বিচারিতার ব্যাখ্যা চান অভিষেক। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পকে ‘ভিক্ষা’ বলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তৃণমূলের আইডিওলজি ওয়েলফেয়ারিজম—প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্য দেউলিয়া করার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অভিষেক স্মরণ করান, ৩৪ বছরের বাম শাসনে ঋণের অঙ্ক ছিল বিপুল, অথচ আজকের মতো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় বা সামাজিক প্রকল্পের বিস্তার দেখা যায়নি। তাঁর প্রশ্ন—কোন আদর্শে কম্পিউটার বন্ধ করা হয়েছিল, কোন আদর্শে উন্নয়ন থামানো হয়েছিল?

প্রতীক উরকে ঘিরে ‘ডিল’-এর অভিযোগও সরাসরি খারিজ করেন অভিষেক। জানান, প্রতীক নিজেই বলেছেন—দল টিকিট দিলেও তিনি বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না, সংগঠনের কাজই করবেন। চাওয়া-পাওয়াহীন রাজনীতি আজ বিরল—এমন মন্তব্য করে অভিষেক বলেন, ভালো কর্মী দয়ার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না।

ধর্ম ও রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূল স্বামী বিবেকানন্দের মানবতাবাদী ধর্মে বিশ্বাস করে, বিভাজনের রাজনীতিতে নয়। চাকরিহীন যুবকদের জন্য ১৫০০ টাকার সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অঙ্কটি কম হলেও তা ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার পথে আত্মসম্মান বাঁচায়—এটাই তৃণমূলের ভাবনা।

শেষে অভিষেক আহ্বান জানান, বিজেপির সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বাংলাকে মুক্ত রাখতে তৃণমূলের পথই দেশকে মডেল দেখিয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে দলে এসে কাজ করার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, নেতৃত্বে সুযোগ তৈরির চেষ্টা তৃণমূল করেছে এবং আগামীতেও করবে।

এই সমগ্র বক্তব্যে স্পষ্ট—বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কেন্দ্রে তৃণমূলকেই তুলে ধরে সিপিএমের রাজনীতি ও আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, আর সেই লড়াইয়ে প্রতীক উরের যোগদানকে দেখালেন নৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তির দৃষ্টান্ত হিসেবে।

Published on: ফেব্রু ২১, ২০২৬ at ২৩:২৩


শেয়ার করুন