
প্রাচীনতম বৈদিক সাহিত্যে ভারতীয় আত্মপরিচয়ের ভাষা কী ছিল?
জনপ্রিয় দাবিগুলির সঙ্গে মূল বৈদিক পাঠের তুলনা হবে
Published on: সেপ্টে ১৭, ২০২৬ at ১৮:৪৫
✍️ লিখছেন অনিরুদ্ধ পাল
এসপিটি বিশেষ প্রতিবেদন: একটি শব্দের ইতিহাস অনুসন্ধান করতে গেলে শুধু শব্দটির আজকের অর্থ দেখলে চলে না। দেখতে হয়—শব্দটি প্রথম কোথায় পাওয়া গেল, কোন ভাষায় পাওয়া গেল, কী অর্থে ব্যবহৃত হল এবং সময়ের সঙ্গে তার অর্থ কীভাবে বদলাল।
‘হিন্দু’ শব্দের ক্ষেত্রেও প্রশ্নটি তাই খুব সরল অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— ঋগ্বেদে কি ‘হিন্দু’ শব্দটি আছে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের সরাসরি ফিরে যেতে হবে প্রাচীনতম বৈদিক সাহিত্যের অন্যতম প্রধান সংকলন ঋগ্বেদে।
এবং এখানে প্রথম যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তা হল— ঋগ্বেদে ‘সিন্ধু’ আছে; কিন্তু ‘হিন্দু’কে সেখানে বর্তমান ধর্মীয় পরিচয়ের অর্থে পাওয়া যায় না। এই পার্থক্যটি বোঝাই এই পর্বের মূল উদ্দেশ্য।
ঋগ্বেদে ‘সিন্ধু’ আছে কি?
অবশ্যই আছে। ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের পঁচাত্তরতম সূক্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি নদীগুলিকে উদ্দেশ করে রচিত একটি স্তোত্র। সেখানে সিন্ধু নদীর শক্তি, প্রবাহ এবং মহিমার প্রশংসা করা হয়েছে। একই সূক্তে গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী, শতদ্রু, পরুষ্ণী, অসিক্নী, বিতস্তা প্রভৃতি নদীরও উল্লেখ রয়েছে।
সূক্তটির প্রথম মন্ত্রেই বলা হয়েছে— “প্র স সপ্তসপ্ত ত্রেধা হি চক্রমুঃ … সিন্ধুরোজসা”
এখানে ‘সিন্ধু’ শব্দটি স্পষ্টভাবে উপস্থিত।
পরবর্তী মন্ত্রে আবার বলা হয়েছে— “প্র তেऽরদদ্ বরুণো … সিন্ধো…”
অর্থাৎ সিন্ধুকে সরাসরি সম্বোধন করা হচ্ছে। এখানে কোনও অস্পষ্টতা নেই। ঋগ্বেদের পাঠে ‘সিন্ধু’ একটি বাস্তব নদী ও নদীপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দ।
কিন্তু ‘সিন্ধু’ কি ‘হিন্দু’?
এখানেই শুরু হয় আসল অনুসন্ধান।
আজকের উচ্চারণে ‘সিন্ধু’ ও ‘হিন্দু’ শব্দ দুটি কাছাকাছি শোনালেও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞানের বিচারে এগুলি একই ভাষায় একই সময়ে ব্যবহৃত একই রূপ নয়।
ঋগ্বেদের ভাষা বৈদিক সংস্কৃত।
অন্যদিকে প্রাচীন ইরানীয় ভাষিক পরিসরে ধ্বনিগত পরিবর্তনের ফলে ‘সিন্ধু’-র সঙ্গে সম্পর্কিত ‘হিন্দু’ বা ‘হিন্দুশ’ ধরনের রূপ দেখা যায়।
আধুনিক গবেষণা অনুযায়ী, আকেমেনীয় পারস্যের শিলালিপিতে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক থেকেই ‘হিন্দুশ’ ধরনের রূপের নিশ্চিত লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। গবেষক অড্রে ট্রুশকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আকেমেনীয়রা এই ভৌগোলিক নামটি ইন্দো-ইরানীয় ‘সিন্ধু’, অর্থাৎ নদী, শব্দের সঙ্গে সম্পর্কিত রূপ থেকে গ্রহণ করেছিল।
অর্থাৎ— ঋগ্বেদের ‘সিন্ধু’ এবং পরবর্তী ইরানীয় ‘হিন্দুশ’ একই ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হলেও তাদের ভাষিক রূপ ও ব্যবহারের ক্ষেত্র এক নয়।
ঋগ্বেদের পাঠে ‘হিন্দু’ খুঁজলে কী পাওয়া যায়?
এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রয়োজন।
কোনও প্রাচীন গ্রন্থে কোনও শব্দ নেই—এ কথা বলার জন্য সম্পূর্ণ পাঠের নির্ভরযোগ্য পাঠভিত্তিক পরীক্ষা প্রয়োজন। তবে ঋগ্বেদের প্রচলিত সংহিতা-পাঠে যে শব্দটি বারবার ও সুস্পষ্টভাবে পাওয়া যায়, তা হল ‘সিন্ধু’।
অন্যদিকে গবেষণায় ‘হিন্দু’-র প্রাচীনতম নিশ্চিত তারিখযুক্ত ব্যবহার হিসেবে আকেমেনীয় শিলালিপির খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের সাক্ষ্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান গবেষণার আলোকে ঋগ্বেদের বৈদিক ‘সিন্ধু’ এবং আকেমেনীয় ‘হিন্দুশ’—এই দুই স্তরকে এক করে ‘ঋগ্বেদেই হিন্দু শব্দ ছিল’ বলা যথাযথ নয়।
এখানে ইতিহাসের একটি সাধারণ ভুলের কথা মনে রাখা দরকার— কোনও শব্দের উৎসের সঙ্গে সেই শব্দের পরবর্তী রূপকে এক করে ফেলা যায় না।
ঋগ্বেদের ‘সিন্ধু’ আসলে কী বোঝায়?
ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের পঁচাত্তরতম সূক্তটি এই প্রশ্নের একটি অসাধারণ উত্তর দেয়।
সেখানে সিন্ধু এক প্রবল নদী। নদীগুলি যেন তার দিকে ছুটে আসছে। সিন্ধুর প্রবাহকে শক্তিশালী, দ্রুতগামী এবং মহিমান্বিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এক জায়গায় কবি সিন্ধুকে যোদ্ধা-রাজার মতো কল্পনা করেছেন—যে তার প্রবাহমান শক্তি নিয়ে অন্য নদীগুলির মধ্যে অগ্রসর হচ্ছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, একই সূক্তে একাধিক নদীর নাম পাশাপাশি উচ্চারিত হয়েছে।
গঙ্গা। যমুনা। সরস্বতী। শতদ্রু। পরুষ্ণী। অসিক্নী। বিতস্তা। এবং সিন্ধু।
এটি দেখায় যে বৈদিক কবির কাছে নদী ও ভূগোল ছিল পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এখানে কোথাও আধুনিক অর্থে একটি একক ধর্মীয় পরিচয়ের নাম হিসেবে ‘হিন্দু’ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না।
‘সপ্তসিন্ধু’—তাহলে কি সেখানেই ‘হিন্দু’?
‘সপ্তসিন্ধু’ নিয়ে বহু জনপ্রিয় ব্যাখ্যা রয়েছে। কিন্তু ‘সপ্তসিন্ধু’-র মধ্যে ‘সিন্ধু’ শব্দটি রয়েছে—‘হিন্দু’ নয়।
ঋগ্বেদে ‘সপ্ত’ এবং ‘সিন্ধু’—এই বৈদিক শব্দসমষ্টি থেকে পরবর্তী ইরানীয় ভাষিক পরিসরে পরিবর্তিত রূপের সঙ্গে তুলনা করা যায়। কিন্তু সেই তুলনাকে সরাসরি ঋগ্বেদে ‘হিন্দু’ শব্দের উপস্থিতির প্রমাণ বলা যায় না। ভাষার ইতিহাসে একটি শব্দের পূর্বসূরি এবং তার পরবর্তী ভাষার রূপকে আলাদা করে দেখা জরুরি।
সিন্ধু থেকে হিন্দু—একটি ঐতিহাসিক ভাষিক যাত্রা হতে পারে। কিন্তু ‘সিন্ধু’ আছে, তাই ঋগ্বেদে ‘হিন্দু’ আছে—এই সিদ্ধান্ত ভাষাতাত্ত্বিকভাবে সরলীকৃত।
আর্য—তাহলে কি বৈদিক আত্মপরিচয়ের একটি শব্দ?
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। ঋগ্বেদে ‘আর্য’ শব্দের ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু আজকের সামাজিক বা রাজনৈতিক অর্থে ‘আর্য’ শব্দটিকে সরাসরি একটি আধুনিক জাতিগত পরিচয়ের সমার্থক করা ঠিক নয়।
বৈদিক সাহিত্যে শব্দটির ব্যবহার বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে হয়েছে এবং এর অর্থ বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্র, ভাষা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট দেখতে হয়।
অর্থাৎ প্রাচীন বৈদিক মানুষের আত্মপরিচয় বোঝার জন্য আমাদের আধুনিক পরিচয়ের শব্দগুলোকে অতীতে বসিয়ে দেওয়া উচিত নয়। প্রাচীন মানুষের নিজের ভাষাই আগে দেখতে হবে। আর সেই ভাষায় আমরা পাই— নদী, জন,ভূমি, দেবতা, ঋত, সত্য, যজ্ঞ, ধর্ম, আর্য, বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সামাজিক সম্পর্কের নানা শব্দ। কিন্তু বর্তমান অর্থে একটি একক ধর্মের নাম হিসেবে ‘হিন্দু’কে ঋগ্বেদের পরিচয় হিসেবে বসানো যায় না।
‘হিন্দু’ শব্দটি তাহলে কোথা থেকে এল?
এখানে আগের পর্বের সঙ্গে এই পর্বের যোগসূত্রটি স্পষ্ট হয়।
প্রথম পর্বে আমরা দেখেছি ‘হিন্দু’ শব্দের প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে সিন্ধু নদীর সম্পর্ক। দ্বিতীয় পর্বে আমরা দেখেছি—ঋগ্বেদের ‘সিন্ধু’ কীভাবে নদী ও ভূগোলের সঙ্গে যুক্ত।
এবার তৃতীয় পর্বে এসে দেখা যাচ্ছে— ঋগ্বেদের বৈদিক পাঠে ‘সিন্ধু’ আছে, কিন্তু ‘হিন্দু’কে আধুনিক ধর্মীয় পরিচয়ের অর্থে সেখানে পাওয়া যায় না। আধুনিক গবেষক অড্রে ট্রুশকের আলোচনায়ও বলা হয়েছে, ‘সিন্ধু’ ঋগ্বেদের মতো প্রাচীন ভারতীয় পাঠে উপস্থিত, আর ‘হিন্দু’-র প্রথম তারিখযুক্ত ব্যবহার পাওয়া যায় অনেক পরে আকেমেনীয় শিলালিপিতে। সুতরাং সময়ের ধারাটি গুরুত্বপূর্ণ।
ঋগ্বেদ → সিন্ধু
তার বহু পরে
আকেমেনীয় পারস্য → হিন্দুশ
আর তারও পরে
হিন্দু → বৃহত্তর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়
এই পরিবর্তন কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসের অংশ।
একটি জনপ্রিয় দাবির পরীক্ষা
কখনও বলা হয়— “হিন্দু শব্দটি বেদেই আছে।”
আবার কখনও বলা হয়— “হিন্দু শব্দটি সম্পূর্ণ বিদেশিদের তৈরি।” দুটি দাবিই অতিরিক্ত সরল।
প্রথম দাবির সমস্যা হল—ঋগ্বেদের মূল পাঠে যে শব্দটি স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়, তা ‘সিন্ধু’। ‘হিন্দু’কে সেই একই বৈদিক শব্দ হিসেবে দেখানোর সরাসরি প্রমাণ নেই।
দ্বিতীয় দাবির সমস্যা হল—‘হিন্দু’কে যদি সম্পূর্ণ অর্থে ‘বিদেশিদের বানানো’ বলা হয়, তাহলেও শব্দটির দীর্ঘ পরবর্তী ইতিহাস ব্যাখ্যা করা যায় না। শব্দটি ভারতীয় উপমহাদেশের নানা ভাষা ও সমাজে প্রবেশ করেছে এবং সময়ের সঙ্গে নতুন অর্থ অর্জন করেছে। ট্রুশকের গবেষণায় ‘হিন্দু’ শব্দের আড়াই হাজার বছরের বহুস্তরীয় ইতিহাসের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অতএব ইতিহাসের কাছাকাছি উত্তরটি হল— শব্দটির প্রাচীনতম রূপের শিকড় ‘সিন্ধু’-তে; ‘হিন্দু’ রূপের প্রাচীন লিখিত সাক্ষ্য ইরানীয় রাজনৈতিক-ভাষিক পরিসরে; আর ধর্মীয় পরিচয় হিসেবে ‘হিন্দু’-র অর্থ অনেক পরে বিকশিত হয়েছে।
ঋগ্বেদ আমাদের কী শেখায়?
এই পর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়তো এখানেই। প্রাচীন ভারতীয় আত্মপরিচয়কে বোঝার জন্য শুধু আজকের পরিচয়ের নামকে অতীতে খুঁজলে চলবে না।
আমাদের দেখতে হবে— প্রাচীন মানুষ নিজেদের জগৎকে কী নামে চিনত? কোন নদী তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল? কোন ভূমিকে তারা চিনত? কোন জনগোষ্ঠীর কথা বলত? কোন দেবতাকে আহ্বান করত? কোন নৈতিক ও বিশ্বব্যবস্থার ধারণা ব্যবহার করত?
ঋগ্বেদের পাঠ আমাদের এমন একটি জগতের সামনে দাঁড় করায় যেখানে ‘সিন্ধু’ একটি জীবন্ত ভূগোল, নদী এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ। কিন্তু সেই পাঠকে সরাসরি আধুনিক ‘হিন্দু ধর্ম’-এর নাম হিসেবে পড়া ইতিহাসের স্তরগুলিকে এক করে ফেলা হবে।
‘হিন্দু’ না ‘সিন্ধু’—প্রশ্নটি আসলে আরও গভীর
তাহলে কি ‘হিন্দু’ শব্দের সঙ্গে বৈদিক ভারতের কোনও সম্পর্ক নেই?
অবশ্যই আছে। বরং সম্পর্কটি অত্যন্ত গভীর। কারণ ‘হিন্দু’-র ভাষিক ইতিহাসের কেন্দ্রে যে ‘সিন্ধু’, সেই শব্দটি ঋগ্বেদে বহু প্রাচীন স্তরেই উপস্থিত। কিন্তু সম্পর্ক থাকা এবং একই শব্দ হওয়া এক কথা নয়। ‘সিন্ধু’ হল প্রাচীন বৈদিক শব্দ। ‘হিন্দু’ হল পরবর্তী ভাষিক রূপ ও পরিচয়ের দীর্ঘ ইতিহাসের ফল। আর ‘হিন্দুধর্ম’ আরও পরবর্তী একটি বৃহৎ ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস। এই তিনটি স্তরকে আলাদা করে দেখলেই ইতিহাস অনেক বেশি পরিষ্কার হয়।
তাহলে প্রাচীন বৈদিক মানুষ নিজেদের কী বলতেন?
এই প্রশ্নটির উত্তর ‘হিন্দু’ একটি শব্দ দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। ঋগ্বেদে মানুষের পরিচয় একমাত্র কোনও একটি ধর্মীয় নামের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। বরং বিভিন্ন মন্ত্রে ব্যক্তি, জনসমষ্টি, গোষ্ঠী, ভূমি, নদী, দেবতা, যজ্ঞ, সামাজিক সম্পর্ক এবং নৈতিক-জাগতিক ধারণার নানা শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এই কারণেই ‘ঋগ্বেদে হিন্দু শব্দ আছে কি?’—প্রশ্নটি আসলে আরও বড় একটি প্রশ্নের দরজা খুলে দেয়।
প্রাচীন ভারতীয় সমাজে ‘ধর্ম’ বলতে কী বোঝানো হত?
‘ধর্ম’ কি তখন আজকের অর্থে কেবল একটি ধর্মবিশ্বাসের নাম ছিল?
নাকি এর অর্থ ছিল— ধারণ, কর্তব্য, নিয়ম, নৈতিকতা, সত্য এবং বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও বিস্তৃত একটি ধারণা?
ঋগ্বেদের কিছু মন্ত্রে ‘ধর্ম’ এবং ‘সনাতন’ শব্দের প্রাচীন ব্যবহারও এই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। সেখান থেকেই আমাদের পরবর্তী অনুসন্ধানের শুরু।
এই পর্বের সূত্রসমূহ
১. ঋগ্বেদ, দশম মণ্ডল, পঁচাত্তরতম সূক্ত
নদী-স্তোত্রে ‘সিন্ধু’ এবং অন্যান্য নদীর উল্লেখের মূল বৈদিক পাঠ।
২. ঋগ্বেদ, তৃতীয় মণ্ডল, তৃতীয় সূক্ত, প্রথম মন্ত্র
এই মন্ত্রে ‘ধর্মাণি সনতা’ শব্দবন্ধের প্রাচীন ব্যবহার পাওয়া যায়। এর অর্থ ও প্রেক্ষাপট পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত আলোচিত হবে।
৩. অড্রে ট্রুশকে — ‘হিন্দু: একটি ইতিহাস’
‘হিন্দু’ শব্দের আড়াই হাজার বছরের পরিবর্তনশীল ইতিহাস, ঋগ্বেদের ‘সিন্ধু’ এবং আকেমেনীয় যুগের ‘হিন্দুশ’-এর সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা।
৪. ভারত সরকারের বৈদিক ঐতিহ্য বিষয়ক পোর্টাল
ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের পঁচাত্তরতম সূক্তের সংহিতা-পাঠ।
৫. বৈদিক পাঠের সংরক্ষিত সংস্করণ
ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের পঁচাত্তরতম সূক্তের সংস্কৃত সংহিতা-পাঠ ও পদপাঠের তুলনামূলক উপাদান।
পরবর্তী পর্ব
পর্ব ৪ | বেদে ‘ধর্ম’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ধর্ম কি আদিতে ‘Religion’ ছিল, নাকি তার অর্থ ছিল আরও বিস্তৃত?
পরবর্তী পর্বে অনুসন্ধান হবে ‘ধর্ম’, ‘ঋত’, ‘সত্য’, কর্তব্য ও বিশ্বব্যবস্থার ধারণার।
ঋগ্বেদের ‘ধর্মাণি সনতা’—এই বহুল আলোচিত শব্দবন্ধ আসলে কী বোঝায়?
‘ধর্ম’ কি আদিতেই একটি নির্দিষ্ট ধর্মবিশ্বাসের নাম ছিল?
নাকি বৈদিক চিন্তায় ‘ধর্ম’-এর অর্থ ছিল মানুষের কর্তব্য, নৈতিক বিধান এবং বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত?
মূল বৈদিক পাঠের আলোকে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে পরবর্তী পর্বে।
বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা, ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা।
— লিখছেন অনিরুদ্ধ পাল
Published on: সেপ্টে ১৭, ২০২৬ at ১৮:৪৫




