
বৌদ্ধ পর্যটন, শান্তি, প্রকৃতি ও মানবকল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার নতুন দায়িত্ব
Published on: সেপ্টে ১৬, ২০২৬ at ২০:৫৭
✍️ বিশেষ প্রতিবেদন | লিখছেন অনিরুদ্ধ পাল
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর: ভারতের পর্যটন মানচিত্রে বৌদ্ধ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পর্যটনের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক উদ্যোগে ড. আনশু জামসেনপাকে বৌদ্ধ পর্যটন পরিচালনাকারী সংগঠনের সম্মানসূচক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হল। আগামী ২৬ জুলাই ২০২৬ থেকে ৯ ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে থাকবেন।
পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত, গিনেস বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী এবং এভারেস্টজয়ী ড. আনশু জামসেনপার দীর্ঘদিনের পর্বতারোহণ, পর্যটন ও প্রকৃতি-সম্পর্কিত অভিজ্ঞতাকেই এই দায়িত্বের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৌদ্ধ তীর্থপর্যটন, আধ্যাত্মিক পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনের প্রসারে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
পর্যটন থেকে মানবিকতার সেতুবন্ধন
বৌদ্ধ পর্যটন পরিচালনাকারী সংগঠনটি পর্যটনকে শুধুমাত্র ভ্রমণ বা অবকাশযাপনের মাধ্যম হিসেবে দেখে না। তাদের ঘোষিত ভাবনায় পর্যটন হল বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সংগঠনের মূল বার্তা—“সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া ও সেবা”—এই দর্শনেরই প্রতিফলন। শান্তি, মানবিকতা, প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে পর্যটনকে যুক্ত করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি বৃহত্তর যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
ড. আনশু জামসেনপার নতুন দায়িত্ব সেই ভাবনাকেই আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
কে এই ড. আনশু জামসেনপা?
অরুণাচল প্রদেশের বোমডিলার ড. আনশু জামসেনপা ভারতীয় পর্বতারোহণ জগতের একটি পরিচিত নাম। এভারেস্টে একাধিকবার আরোহণের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিভিন্ন সম্মান।
তিনি এভারেস্টে পাঁচবার আরোহণকারী হিসেবে পরিচিত এবং গিনেস বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী। তাঁর পর্যটন ও পর্বতারোহণ-অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রকৃতি, পাহাড়ি অঞ্চল এবং অভিযাত্রাভিত্তিক পর্যটন সম্পর্কে দীর্ঘদিনের প্রত্যক্ষ জ্ঞান রয়েছে।
এই অভিজ্ঞতাকেই বৌদ্ধ তীর্থপথ ও আধ্যাত্মিক পর্যটনের বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজে লাগাতে চাইছে সংগঠনটি।
২০১৫ সালে নালন্দা থেকে পথচলা
বৌদ্ধ পর্যটন পরিচালনাকারী সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা ১০ ডিসেম্বর ২০১৫, বিহারের নালন্দায়। বুদ্ধের জ্ঞান ও ধর্মচর্চার ঐতিহ্যবাহী এই ভূমি থেকেই সংগঠনটি বৌদ্ধ তীর্থপর্যটন ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের জন্য একটি অভিন্ন মঞ্চ তৈরির উদ্যোগ নেয়।
পর্যটন পরিষেবা প্রদানকারী, ভ্রমণ পরিচালনাকারী, গবেষক, ভিক্ষু এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিকে একত্রিত করে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধ পর্যটনক্ষেত্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভুটান, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মায়ানমার-সহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সংগঠনটির যোগাযোগ রয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সংগঠনের ঘোষিত মূলমন্ত্র—“এক পৃথিবী! এক পর্যটন!! এক মঞ্চ—এবিটিও!”
বৌদ্ধ পর্যটনের আন্তর্জাতিক পরিসর
সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, বিশ্বের পঁচিশটিরও বেশি দেশে তাদের সদস্য ও সহযোগী নেটওয়ার্ক রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যটন সংগঠন, বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থার সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে।
বৌদ্ধ পর্যটনের পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপত্য, প্রত্নসম্পদ, প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটনকে সামনে আনার ক্ষেত্রেও সংগঠনটি কাজ করে থাকে।
আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বৌদ্ধ পর্যটন মেলা, বৌদ্ধ পর্যটনপথ নিয়ে আলোচনা, শান্তি পুরস্কার এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তারা এই ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে।
এবিটিও–র নেতৃত্বে কারা?
২০২৪–২০২৬ মেয়াদের সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন সভাপতি মল্লেপল্লি লক্ষ্মাইয়া, যিনি বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতি বিষয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত এবং নাগার্জুনসাগরের বুদ্ধবনম প্রকল্পের প্রাক্তন বিশেষ আধিকারিক।
সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা ড. কৌলেশ কুমার সংগঠনটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান মুখ। কোষাধ্যক্ষ উমরাও প্রসাদ নির্মল-ও সংগঠনের আর্থিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।
সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন প্রাক্তন পর্যটনসচিব বিনোদ জুটশি। সম্মানীয় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার কে. বীরেন্দ্র সিংহ এবং পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন পদ্মশ্রী বুলু ইমাম।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন নালন্দার নবনালন্দা মহাবিহারের প্রাক্তন উপাচার্য ড. রবীন্দ্র পন্থ। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন ভারতের প্রাক্তন কনসাল জেনারেল রাজেশ কুমার রায়না।
রাজ্যগুলিতেও বিস্তৃত সংগঠন
দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠনটির পৃথক দায়িত্বশীল কাঠামো রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশে প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রয়েছেন ত্সেরিং ওয়াংগে। পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন বিদ্যুৎ মিত্র।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে নারী উদ্যোগের দায়িত্বে রয়েছেন শুভ্রা দে, আর উত্তরবঙ্গের দায়িত্বে রয়েছেন দীপঙ্কর কুণ্ডু। বিহারে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন মনিশ মিশ্র, সম্পাদক অমিত পাণ্ডে এবং জনসংযোগের দায়িত্বে কুন্দন কুমার ভট্ট।
উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা, সিকিম, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, ঝাড়খণ্ড, গোয়া, দিল্লি, পাঞ্জাব-হরিয়ানা-সহ বিভিন্ন রাজ্যেও সংগঠনের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
নতুন দায়িত্বে নতুন সম্ভাবনা
ড. আনশু জামসেনপার নিয়োগের তাৎপর্য তাই শুধুমাত্র একটি সাংগঠনিক পদে সীমাবদ্ধ নয়। বৌদ্ধ তীর্থপর্যটনকে পাহাড়, প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে হিমালয় অঞ্চলের পর্যটন, পর্বতারোহণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের অভিজ্ঞতা বৌদ্ধ পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত হলে ভারত ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটনপথকে নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নালন্দা, বোধগয়া, সারনাথ, কুশীনগর থেকে শুরু করে নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন বৌদ্ধ ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল—এই বিস্তৃত পরিসরের মধ্যে পর্যটন-যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই ড. আনশু জামসেনপার নতুন দায়িত্বকে দেখছে এবিটিও।
পর্যটনের সঙ্গে শান্তি, মানবিকতা, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার যে ভাবনা নিয়ে সংগঠনটির পথচলা, ড. আনশু জামসেনপার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সেই ভাবনাকে কতটা বিস্তৃত করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে পর্যটন মহলের।
নতুন দায়িত্ব, নতুন প্রত্যাশা—বৌদ্ধ পর্যটনের আন্তর্জাতিক পরিসরে ড. আনশু জামসেনপার ভূমিকা আগামী দিনে কোন নতুন পথ খুলে দেয়, সেটিই এখন দেখার।
Published on: সেপ্টে ১৬, ২০২৬ at ২০:৫৭
Dr. Anshu Jamsenpa Appointed ABTO Goodwill Ambassador to Promote Buddhist Tourism
✍️ By Aniruddha Pal। Sangbad Prabhakar Times
SPT NEWS, KOLKATA, India — Indian mountaineer and Padma Shri awardee Dr. Anshu Jamsenpa has been appointed Goodwill Ambassador (Honorary) of the Association of Buddhist Tour Operators (ABTO), in a move aimed at strengthening the promotion of Buddhist pilgrimage, spiritual and cultural tourism across India and the Asia-Pacific region.
Jamsenpa will hold the honorary position from July 26, 2026, to Dec. 9, 2028, according to the appointment communication issued by ABTO.
The organisation said her experience in mountaineering, tourism and the Himalayan region would contribute to its efforts to promote tourism linked to Buddhist heritage, nature, culture, peace and humanitarian values.
Jamsenpa, from Bomdila in Arunachal Pradesh, is a five-time Mount Everest summiter and a Guinness World Record holder. She is also a recipient of the Padma Shri, one of India’s highest civilian honours.
Her appointment places a prominent figure from India’s adventure and Himalayan tourism sector in an honorary role within an organisation focused on Buddhist tourism.
Focus on Buddhist pilgrimage
ABTO, headquartered in Nalanda, Bihar, was established in 2015 as a platform connecting tourism operators, service providers, scholars, monks and other stakeholders involved in Buddhist and spiritual tourism.
The organisation works to promote Buddhist pilgrimage circuits and cultural tourism in India and other Asian countries, including Nepal, Sri Lanka, Bangladesh, Bhutan, Thailand, Indonesia, Vietnam and Myanmar.
ABTO has also organised international conventions, Buddhist travel marts, conferences on Buddhist circuits and programmes focused on heritage and peace.
The organisation describes its approach to tourism through the message of sharing and service, linking travel with cultural understanding, nature conservation, peace and humanitarian engagement.
Leadership and regional network
The organisation’s 2024-26 leadership includes President Mallepalli Laxmaiah, Secretary General and founder Dr. Kaulesh Kumar, and Treasurer Umrao Prasad Nirmal.
Former Tourism Secretary Vinod Zutshi serves as Chief Patron, while former CRPF training centre principal Brigadier K. Birendra Singh is the Chief Honorary Patron. Padma Shri awardee Bulu Imam is among the organisation’s patrons.
Former Vice Chancellor of Nava Nalanda Mahavihara Dr. Ravindra Panth serves as Chief Adviser, while former Indian Consul General Rajesh Kumar Raina heads the organisation’s Asia-Pacific activities.
ABTO has a network of state and regional representatives across India. In Arunachal Pradesh, Tsering Wange serves in a senior advisory and founding role. In West Bengal, Bidhyut Mitra heads the state organisation, with Subhra Dey responsible for its women’s wing and Dipankar Kundu overseeing North Bengal activities.
Tourism as a bridge
The appointment comes as Buddhist tourism gains increasing attention as a link between religious heritage, cultural exchange and destination development across Asia.
ABTO said Jamsenpa’s experience and international profile could help strengthen cooperation around Buddhist pilgrimage and tourism while promoting the wider principles of peace, humanity, nature and culture.
For the organisation, her tenure is expected to provide another platform for connecting India’s Buddhist heritage and Himalayan tourism experience with the wider Asian tourism network.




