
তিন দিনে হাজারো দর্শক, শতাধিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ, নতুন পর্যটন ভাবনার দিশা— সফল BTF 2026

Published on: জুন ২২, ২০২৬ at ১৯:৪২
Reporter: Aniruddha Pal
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২১ জুন: পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রশংসা, ভ্রমণপিপাসুদের বিপুল উৎসাহ, নতুন গন্তব্যের সন্ধান এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধির সুযোগ— সব মিলিয়ে সাফল্যের ছাপ রেখে পর্দা নামল বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট (BTF) ২০২৬–এর। ১৯ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা পর্যটন শিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়।
মেলার উদ্বোধন করেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ। পর্যটন দফতরের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম বড় ট্রাভেল মার্টে অংশগ্রহণ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বাংলার পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্যে পাঁচটি কৌশলগত ভিশনের কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অংশীদারকে নিয়ে বৃহৎ ডেটাবেস গঠন, মোবাইল অ্যাপ চালু, নিবন্ধীকরণ প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের পরিকল্পনার কথাও জানান।
মন্ত্রী বিশেষভাবে দীঘাকে কেন্দ্র করে মেরিন ট্যুরিজম এবং সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেমকে ভিত্তি করে ‘ব্লু কার্বন ইকোনমি’ গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই বাংলার পর্যটন শিল্পে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে।
মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরাও BTF-র ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিহার পর্যটন, বোরোল্যান্ড ট্যুরিজম, ঝাড়খণ্ড পর্যটন–সহ একাধিক সংস্থা এই মেলাকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে।
আয়োজক সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার্স অব বেঙ্গল (ATSPB)-এর সভাপতি সাগর গুহ এবং চেয়ারম্যান সমর ঘোষ জানান, ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল ব্যবসায়ী, পরিবহণ সংস্থা এবং হোমস্টে মালিকদের জন্য কার্যকর ব্যবসায়িক মঞ্চ গড়ে তোলাই ছিল এই মেলার মূল লক্ষ্য। অংশগ্রহণকারীদের নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও সম্ভাবনা তৈরির ক্ষেত্রেও মেলা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে।
তিন দিন জুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটন সংস্থার স্টলে দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, কেরল, অমৃতসর, চণ্ডীগড়, আগ্রা, বৃন্দাবন, ভিতরকণিকা, জলদাপাড়া এবং দারিংবাড়ির পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে সাজানো স্টলগুলি বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে জলদাপাড়া ও ভিতরকণিকা কেন্দ্রিক পর্যটন প্যাকেজ। জলদাপাড়া ওয়াইল্ড হাট, জলদাপাড়া গোল্ডেন রিসর্ট এবং ভিতরকণিকা ইকো রিসর্টের স্টলে দর্শকদের আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি সুন্দরবন ও জলদাপাড়ার আসন্ন ইলিশ উৎসব নিয়েও পর্যটকদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
মেলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন পরিবহণ সংস্থার অংশগ্রহণ। দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে যাতায়াত পরিষেবা নিয়ে একাধিক ট্রান্সপোর্ট অপারেটর দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিহার ট্যুরিজম, বোরোল্যান্ড ট্যুরিজম, ক্র্যাবি ট্যুরিজম এবং ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ঝাড়খণ্ড (TAAJ)-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে আগামী বছরের জানুয়ারিতে আরও বৃহৎ পরিসরে ১২তম বেঙ্গল ট্যুরিজম ফেস্ট আয়োজনের বার্তাও দেন আয়োজকরা।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও তিন দিন জুড়ে দর্শক ও ব্যবসায়িক অংশগ্রহণকারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বাংলার পর্যটন শিল্প নতুন সম্ভাবনার পথে এগোচ্ছে। ব্যবসায়িক সংযোগ, পর্যটন প্রচার, নতুন গন্তব্যের পরিচিতি এবং ভ্রমণপ্রেমীদের সরাসরি তথ্য পাওয়ার সুযোগ— সব মিলিয়ে BTF 2026 পর্যটন শিল্পকে এক নতুন উদ্দীপনা দিয়ে গেল। আগামী বছরের আরও বড় আয়োজনের প্রত্যাশা রেখে সফল সমাপ্তি ঘটল এই আন্তর্জাতিক পর্যটন উৎসবের।
ছবিতে তিনদিনের হাইলাইটস-














Published on: জুন ২২, ২০২৬ at ১৯:৪২



