পালাবদলের পর পর্যটনে নতুন প্রত্যাশা: কোন পথে এগোবে পশ্চিমবঙ্গ?

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: মে ৫, ২০২৬ at ২১:৪২

Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৫ মে: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে নতুন সরকার গঠনের আগেই পর্যটন শিল্পকে ঘিরে প্রত্যাশা তুঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল—প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ এই রাজ্যে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তার পূর্ণ বিকাশ ঘটেনি। এবার ভারতীয় জনতা পার্টি-র নেতৃত্বে সরকার গঠিত হতে চলায় অনেকেই মনে করছেন, এই খাতে নতুন দিশা দেখা যেতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে পর্যটনের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্প থেকে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক কার্যকলাপ তৈরি হয়। রাজ্যের জিডিপিতেও এর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। দেশি পর্যটকের সংখ্যা প্রতি বছরই বিপুল, কিন্তু বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম—ফলে রাজস্ব বৃদ্ধির বড় একটি সুযোগ এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।

রাজ্যের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যই পর্যটনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সুন্দরবন-এর অনন্য ম্যানগ্রোভ অরণ্য, দার্জিলিং-এর পাহাড়ি সৌন্দর্য, কিংবা সমুদ্রতটে দিঘা—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে এক অনন্য গন্তব্য হতে পারে। একইভাবে ধর্মীয় পর্যটনের ক্ষেত্রেও রাজ্যের সম্ভাবনা বিশাল। তারাপীঠ, দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির কিংবা মায়াপুর ইসকন—এই সব স্থানকে ঘিরে একটি শক্তিশালী পিলগ্রিম সার্কিট গড়ে তোলা গেলে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকের সংখ্যা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।

সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নিরিখেও কলকাতা আন্তর্জাতিক পর্যটনের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হতে পারে। ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, ঐতিহ্যবাহী উৎসব এবং শিল্প-সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে এই শহর বিশ্ব মানচিত্রে আরও বড় জায়গা করে নিতে পারে।

এক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় একটি বড় ভূমিকা নিতে পারে। ভারত সরকার-এর বিভিন্ন পর্যটন প্রকল্প—যেমন PRASHAD বা Swadesh Darshan—যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রচারে গতি আসতে পারে।

বিদেশি পর্যটক টানার ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাবনা কম নয়। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণ, দার্জিলিংয়ের চা-বাগান ও পাহাড়ি জীবন, আর কলকাতার ঐতিহ্য—এই তিনের সমন্বয় আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে তার জন্য প্রয়োজন উন্নত পরিকাঠামো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং বিশ্বমানের প্রচার কৌশল।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পরিকাঠামোর ঘাটতি, পর্যাপ্ত পরিষেবা ও নিরাপত্তার অভাব, এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারের সীমাবদ্ধতা এখনও বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোও জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্প এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। নতুন সরকার যদি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়, বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ায় এবং আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগায়, তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই রাজ্য দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। এখন দেখার, প্রত্যাশার এই চাপকে বাস্তবে কতটা রূপ দিতে পারে নতুন প্রশাসন।

Published on: মে ৫, ২০২৬ at ২১:৪২


শেয়ার করুন