
Published on: আগ ১৫, ২০২৫ at ২০:৫১
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৫ আগস্ট : আজ আমাদের ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস। সারা দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে দিনটি। গুগল ডুডল দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না আমাদের পাশের বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার প্রায় পুরো পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল ঘাতকরা এই দিনেই । সালটা ছিল ১৯৭৫। এবছর সেই হত্যার ৫০ বছর । হিসাব অনুযায়ী আজ বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের ৫০তম শাহাদতবার্ষিকী। কিন্তু দুর্ভাগ্য , বাংলাদেশ আজ একপ্রকার ভুলেই গিয়েছে তাদের জাতির পিতাকে। গত বছর জুলাই অভ্যুথানের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার নামে বঙ্গবন্ধুর ধানমান্ডির বাড়িটিকেও ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নাম করাও একপ্রকার ‘অপরাধ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে আজকের দিনটি আজকের বাংলাদেশে আর কোনও গুরুত্বই নেই। জাতীয় শোক দিবস হিসাবেও তাই আর এবার পালন করা হয়নি দিনটি। যে গুটি কয়েক মানুষ এসেছিলেন শ্রদ্ধা জানাতে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হল, কাউকে পুলিশ নিয়ে গেল।
আসলে সংবাদ প্রভাকর টাইমস এই প্রতিবেদনটি লিখছে এই কারণে যে বঙ্গবন্ধু শুধুমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গেই নয় অবিভক্ত ভারতের সঙ্গেও ছিল তার যোগাযোগ। কলকাতায় বেকার হস্টেলে থেকে তিনি পড়াশোনা করেছেন। আজও তার সেই ঘর বিশেষভাবে অক্ষত আছে। বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুথানের সময় বেকার হস্টেলের ঘরটিকে কড়া প্রহরায় সুরক্ষিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর যে স্ম্রিতিটুকু অবশিষ্ট ছিল অর্থাৎ তার ধানমান্ডির বাসভবন সেটিকে একপ্রকার ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আমি ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছিলাম। সেইসিময় আমার ধানমান্ডির বাসভবনটি ঘুরে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। আমার নিজের তোলা সেই ছবিটি আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের তৎকালীন সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্ত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকে সারা বিশ্ব ধিক্কার জানিয়েছিল। নতুন বাংলাদেশের নামে আজ যারা বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্বকে মুছে ফেলতে চাইছে তারা আসলে কারা আর কি তাদের উদ্দেশ্য সেটা বাংলাদেশের মানুষও জেনে গিয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান কেয়ারটেকার সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার চেষ্টা করুক না কেন বাংলাদেশীদের হৃদয়ে আজও যে জ্বলজ্বল করছে স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম তা তো জুলাই অভ্যথানের এক বছর পরও প্রমাণিত। তা না হলে একজন সাধারণ মহিলা ৩২ নম্বর ধানমান্ডি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়ে ফুল নিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে যান। শুধু ওই মহিলাই নয় আরও একজন এসেছিলেন শ্রদ্ধা জানাতে। কিন্তু সেখানকার পুলিশ তাদের আটকে দেয়। আটকে দ্যে কি তাদের মন থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে পারবে?
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানীর নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যেকোন জঘন্য কাজ করতে পারে।
ভারত বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছিলেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।
‘দ্য টাইমস অব লন্ডন’ এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ বলা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই।
একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকান্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’


Published on: আগ ১৫, ২০২৫ at ২০:৫১



