মঞ্চে গান, বার্তা জনস্বাস্থ্যের: অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলায় ভারতে ব্রিটিশ মিউজিক্যাল ‘লাইফলাইন’

Main দেশ বিদেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

সংস্কৃতি বিজ্ঞানের অভিনব মেলবন্ধনে ওষুধপ্রতিরোধী সংক্রমণ সম্পর্কে সচেতনতা; ২০২৭ সালে ভারতে পূর্ণাঙ্গ বহুশহর সফরের পরিকল্পনা

Published on: জুন ২৯, ২০২৬ at ১৫:৩৭

এসপিটি নিউজ, নয়াদিল্লি, ২৯ জুন: অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ ক্রমশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ সংক্রমণও ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এই বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট— অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) —সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে এবার সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের এক অভিনব উদ্যোগ নিল যুক্তরাজ্য।

ব্রিটিশ হাই কমিশনের উদ্যোগে রবিবার নয়াদিল্লির ব্রিটিশ কাউন্সিলে অনুষ্ঠিত হলো স্কটিশ মিউজিক্যাল ‘Lifeline’-এর ভারতীয় প্রিমিয়ার। মাত্র ৬০ মিনিটের এই মঞ্চ প্রযোজনায় ওয়েস্ট এন্ড ও ব্রডওয়ের শিল্পীরা গল্প, সংগীত এবং আবেগঘন অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ভয়াবহতা এবং এর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা। ২০২৭ সালে ভারতের একাধিক শহরে এই পূর্ণাঙ্গ মিউজিক্যাল প্রদর্শনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধি, শিল্পক্ষেত্র, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা জগত এবং সমাজসেবামূলক সংস্থার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিটিশ হাই কমিশনের ক্লাইমেট, ডেভেলপমেন্ট, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের মন্ত্রী-পরামর্শদাতা ও পরিচালক সারা কুপার বলেন, ওষুধ-প্রতিরোধী সংক্রমণ শুধু যুক্তরাজ্য বা ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই ক্রমবর্ধমান হুমকি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা, পরীক্ষাগার উন্নয়ন, নতুন ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ‘Lifeline’ দেখিয়ে দিয়েছে যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু বিজ্ঞানী বা নীতিনির্ধারকদের বিষয় নয়; এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের আলোচনার বিষয়। শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে এই বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

UK–India Vision 2035-এর আওতায় স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন দুই দেশের অন্যতম অগ্রাধিকার ক্ষেত্র। মহামারি মোকাবিলা, টিকা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে ভারত ও যুক্তরাজ্য।

এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে গবেষণা, উদ্ভাবন, রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি, পরীক্ষাগার শক্তিশালীকরণ এবং মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ—এই তিন ক্ষেত্রেই নজরদারি ব্যবস্থায় যৌথ বিনিয়োগ করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের UK Research and Innovation (UKRI) ইতিমধ্যেই একাধিক গবেষণা প্রকল্পে ১ কোটি পাউন্ডেরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি Fleming Fund ভারতের পরীক্ষাগার উন্নয়ন ও নজরদারি ব্যবস্থায় প্রায় ৬ লক্ষ পাউন্ড সহায়তা দিয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাজ্যের Global Innovation Fund এবং বেঙ্গালুরুর Centre for Cellular and Molecular Platforms (C-CAMP)-এর যৌথ ৪.৮ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রকল্প পরিবেশে অ্যান্টিবায়োটিক দূষণ কমানো এবং মাঠপর্যায়ে দ্রুত প্রতিরোধ শনাক্ত করার আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্জ্যজল থেকে অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ অপসারণের নতুন প্রযুক্তি এবং বহনযোগ্য অত্যাধুনিক মনিটরিং ডিভাইসের উন্নয়ন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি যথেষ্ট নয়; সাধারণ মানুষের সচেতনতা, দায়িত্বশীলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও সমানভাবে জরুরি। সেই বার্তাই এবার সংগীত ও নাটকের ভাষায় পৌঁছে দিতে এগিয়ে এসেছে ‘Lifeline’।

Published on: জুন ২৯, ২০২৬ at ১৫:৩৭


শেয়ার করুন