
Published on: অক্টো ৩১, ২০২৬ at ২০:৫৭
এসপিটি নিউজ, নয়াদিল্লি ও কলকাতা, ৩০ অক্টোবর: জাতীয় বিজ্ঞান সেমিনার ২০২৬-এ প্রথম স্থান অধিকার করলেন ওড়িশার সৌম্যশ্রী থানাপতি। ৩০ অক্টোবর নয়াদিল্লির জাতীয় বিজ্ঞান কেন্দ্রে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের ৩৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে। এবারের আলোচনার বিষয় ছিল ‘২০৪৭ সালের ভারতের জ্বালানি সম্ভার: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’।
ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীন জাতীয় বিজ্ঞান সংগ্রহশালা পরিষদের উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ১৯৮২ সাল থেকে প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবোধ এবং নিজেদের বক্তব্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরার দক্ষতা বাড়ানো।
এবারের সেমিনারে দ্বিতীয় স্থানাধিকারীদের তালিকায় রয়েছেন দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউয়ের দিব্যাংশী পারিদা, মহারাষ্ট্রের শার্ভারি শ্রীধর বাইত, বিহারের সমীর কুমার, পশ্চিমবঙ্গের ঋষণ গুপ্ত, ত্রিপুরার শ্রাবস্তী ভট্টাচার্য, চণ্ডীগড়ের নবসিরত কৌর, গুজরাটের স্বরা পারেশ প্যাটেল, অরুণাচল প্রদেশের রুবু ড্যানিয়েল এবং হরিয়ানার অক্ষত কুমার মিশ্র।
প্রথম স্থানাধিকারী সৌম্যশ্রী থানাপতি পেয়েছেন একটি ট্রফি, শংসাপত্র এবং ৪৮ হাজার টাকার বৃত্তি। অন্যদিকে, নয়জন দ্বিতীয় স্থানাধিকারী প্রত্যেকে পেয়েছেন একটি করে ট্রফি, শংসাপত্র এবং ২৪ হাজার টাকার বৃত্তি। সব মিলিয়ে বৃত্তি হিসেবে মোট ২ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. অনিল কুমার জৈন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নীতি আয়োগের জ্বালানি উপদেষ্টা রাজনাথ রাম।
জাতীয় বিজ্ঞান সংগ্রহশালা পরিষদের মহাপরিচালক কে এস মুরলি বলেন, ১৯৮২ সাল থেকে এই সেমিনার দেশের স্কুলপড়ুয়াদের বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং যোগাযোগের দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করে আসছে। এবারের বিষয়টি পড়ুয়াদের দেশের জ্বালানির নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব বুঝতে উৎসাহিত করেছে।
জাতীয় বিজ্ঞান কেন্দ্রের অধিকর্তা বিজয় শঙ্কর শর্মা জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী পড়ুয়াদের এক মঞ্চে নিজেদের চিন্তাভাবনা তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে নবীন প্রজন্মের মধ্যে নতুন প্রযুক্তি, পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি এবং দায়িত্বশীলভাবে শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে আগ্রহ বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
একই দিনে আয়োজিত সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নয়াদিল্লির ইন্টার-ইউনিভার্সিটি অ্যাক্সিলারেটর সেন্টারের অধিকর্তা অধ্যাপক অবিনাশ চন্দ্র পাণ্ডে। বিশেষ অতিথি ছিলেন দ্য এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের বিদ্যুৎ ও পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি বিভাগের বরিষ্ঠ অধিকর্তা অজয় কুমার সাক্সেনা।
জাতীয় বিজ্ঞান সেমিনার ২০২৬-এর মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানির চাহিদা, সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ নিয়ে স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা ও অনুসন্ধিৎসা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
Published on: অক্টো ৩১, ২০২৬ at ২০:৫৭




