পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের প্রসারে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সংস্থা AR-ES, তৈরি করে ফেলল নয়া ভ্রমণপথ

Main দেশ বিদেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Published on: জুন ১৫, ২০২২ @ ২৩:৫২
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৫ জুন: পর্যটনের সমস্ত কিছুই আছে পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু তবু পর্যটন ব্যবসায় পিছিয়ে আছে পশ্চিমবঙ্গ। এ প্রশ্ন বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। কেন পর্যটন ব্যবসায় দেশের মধ্যে এক নম্বর নয়? কেন এরাজ্যের মানুষ প্রতি বছর পুজোর সময় অন্য রাজ্যে ভিড় করে? কেন তাদের পছন্দের বেড়ানোর তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ অগ্রাধিকার পায় না?এসব প্রশ্নের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে রাজ্য সরকার। এবার তা নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করেছে তারা। একেবারে নতুনভাবে শুরু করতে চাইছে বাংলা। পর্যটনে এবার সেরা জায়গা পেতে শুরু হয়েছে প্রচেষ্টা। সেই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তৎপর হয়েছে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সংস্থা এআর- ইএস। তৈরি করে ফেলল নয়া ভ্রমণপথ। ট্রাভেল এজেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া বা টাফি’র চেয়ারম্যান(পূর্বাঞ্চল) ও সংস্থার কর্ণধার অনিল পাঞ্জাবি জানালেন – সারা বিশ্বের পর্যটনের সব রসদ আছে আমাদের বাংলায়। বাংলা যদি মনে করে পর্যটনে এক নম্বর জায়গা অর্জন করা শুধু সময়ের অপেক্ষা।

ইতিমধ্যে সরকারি পর্যায়ে মিটিং হয়েছে

ইতিমধ্যে কয়েকটি মিটিং হয়ে গিয়েছে রাজ্য সরকারের সঙ্গে ট্রাভেল এজেন্ট থেকে শুরু করে হোটেল মালিক, এয়ারলাইন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে। কিভাবে পশ্চিমবঙ্গকে পর্যটন ক্ষেত্রে সামনের দিকে তুলে আনা যায়, তা নিয়ে হয়েছে আলোচনা। রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সৌমিত্র মোহন এ বিষয়ে এক পরিপূর্ণ রূপরেখা তৈরি করেছে। গোটা রাজ্যের পর্যটনের বিষয়ে বেশি করে রোড-শো করার কথা বলা হয়েছে। কলকাতা থেকে আরও বেশি করে আন্তর্জাতিক উড়ান চালানোর কথা বলা হয়েছে। কলকাতা-ইউরোপ সরাসরি উড়ান পরিষেবা নিয়মিত করার বিষয়েও এয়ারলাইন সংস্থাগুলিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও পর্যটকদের কথা ভেবে তৈরি করা হচ্ছে আরও নতুন নতুন রূপরেখা।

বাংলার পর্যটন নিয়ে এআর-ইএস ট্রাভেল কোম্পানির নয়া ভ্রমণপথ

এই মিটিংগুলিতে ছিলেন টাফি’র চেয়ারম্যান (পূর্বাঞ্চল) অনিল পাঞ্জাবি। তিনি ইজেও একটি ট্রাভেল কোম্পানির কর্ণধার। কলকাতায় অবস্থিত এআর-ইএস ট্রাভেল কোম্পানি মূলতঃ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সংস্থা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এবার তারা রাজ্য সরকারের আবেদনে সাড়া দিয়েছে। রাজ্যের পর্যটনের প্রসারে তারাও এগিয়ে এসেছে। তৈরি করে ফেলেছে নয়া ভ্রমণ পথ। প্রাথমিক পর্যায়ে তারা ৬টি জায়গাকে বেছে নিয়েছে- কলকাতা, সুন্দরবন, শান্তিনেকতন, মায়াপুর ইসকন, বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর।প্রতিটি জায়গার কয়েকটি দ্রষ্টব্য স্থানকে বেছে নিয়ে তৈরি করেছে ট্যুর চার্ট।

টাফি’র চেয়ারম্যান অনিল পাঞ্জাবি

টাফি’র চেয়ারম্যান অনিল পাঞ্জাবি বলেন- পশ্চিমবঙ্গ এমনই একটি রাজ্য যেখানে সারা বিশ্বের পর্যটনের সমস্ত বিষয়ই রয়েছে। এখানে হিমালয় পর্বত, পাহাড়ি অঞ্চল, ডুয়ার্স, বক্সা টাইগার রিজার্ভ, চা-বাগান, সমুদ্র, প্রাচীন ঐতিহ্যমন্ডিত ভবন, টেরাকোটার শিল্প, সুন্দরবন, মনীষীদের বাসস্থান, ধর্মীয় ক্ষেত্র আছে। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো দেখাও একটা বাড়তি পাওনা। সব মিলিয়ে ফাড়-জল-জঙ্গল এখানে মিলেমিশে একার হয়ে গিয়েছে। তাই পর্যটনের ভরপুর আনন্দ নিতে হলে বাংলায় আসতেই হবে।

এজন্য এআর-ইএস ট্রাভেল সংস্থা তৈরি করেছে নয়া ভ্রমণপথ। একদিকে তারা রেখেছে কলকাতা ও সুন্দরবন। দু’নম্বরে শান্তিনিকেতন ও মায়াপুর ইসকন, তিন নম্বরে রেখেছে বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর। প্রতিটি ট্রিপ চারদিনের।

কলকাতা ও সুন্দরবন

কলকাতা দর্শন। এখানে আছে জোঁড়াসাকো ঠাকুরবাড়ি, পার্কা স্ট্রিট, মাদার হাউজ, হাওড়া ব্রিজ, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। সুন্দরবনে থাকছে সজনেখাল ওয়াচ টাওয়ার, সজনেখানি পাখিরালয়, কুমীর প্রকল্প, নেতিধোপানি, সাগর দ্বীপ ও কনক দ্বীপ।

শান্তিনিকেতন ও মায়াপুর ইসকন

শান্তিনিকেতনে আছে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস, কঙ্কালিতলা মন্দির, আমার কুটির, খোয়াই বনের হাত, কালিকাপুর রাজবাড়ি। মায়াপুর ইসকনে আছে ইসকন মন্দির,যোগ পীঠ, শ্রীচৈতন্য মঠ, দশাবতারের গোস্বামী মহারাজা মন্দির এবং মায়াপুর মার্কেট।

বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর

বাঁকুড়া জেলার মধ্যেই আছে বিষ্ণুপুর। এই স্থান টেরাকোটার শিল্প ও বালুচরী শাড়ির জন্য বিখ্যাত। এখানে আছে রাধা গোবিন্দ মন্দির, শ্যাম রাই মন্দির, জোরবাঙলা মন্দির, মদনমোহন মন্দির।

আসছে আরও নতুন নতুন ভ্রমণপথ, বেড়ানোর নয়া ঠিকানা

প্রতিটি জায়গাতেই রেল ও সড়ক পথে পৌঁছনো যায়। এসবই অবশ্য বিদেশি পর্যটকদের কথা ভেবে করা হয়েছে। তবে স্থানীয় কেউ চাইলে তাদের সাহায্য নিতেই পারে – জানালেন অনিল পাঞ্জাবি।তিনি আরও জানিয়েছেন- “আমাদের আরও নতুন নতুন ভ্রমণপথ তৈরি হচ্ছে। মুর্শিদাবাদে ঐতিহাসিক স্থানকে বাছা হয়েছে। থাকছে হুগলির প্রাচীন ঔপনিবেশিক জায়গা-চন্দননগর, ব্যান্ডেল। এছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর নিয়েও থাকছে বিশেষ পরিকল্পনা। থাকছে পুরুলিয়া। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি-মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার নিয়েও করা হচ্ছে নয়া ভ্রমণপথ। এক কথায় –বাংলা আর পিছিয়ে থাকছে না পর্যটন মানচিত্রে। জম্মু ও কাশ্মীর, রাজস্থান, উত্তরাখন্ড, হিমাচল প্রদেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাবে আমাদের সোনার বাংলা।

Published on: জুন ১৫, ২০২২ @ ২৩:৫২


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •