

এসপিটি নিউজ , ভোপাল ও কলকাতা, ২৬ ফেব্রুয়ারি: ২০ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬—এই সাত দিন ধরে মধ্যপ্রদেশের ঐতিহ্যনগরী খাজুরাহো যেন রূপ নেয় এক বহুমাত্রিক পর্যটন মহোৎসবে। ৫২তম খাজুরাহো নৃত্য উৎসব শুধুমাত্র ধ্রুপদী নৃত্যের মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সংস্কৃতি, অ্যাডভেঞ্চার এবং নিমগ্ন পর্যটন অভিজ্ঞতার এক অনন্য সমন্বয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে।
ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের পটভূমিতে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনার পাশাপাশি, উৎসবের সঙ্গে যুক্ত করা হয় নানান পর্যটন কার্যক্রম। মধ্যপ্রদেশ পর্যটন বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মকাণ্ডে ভারত ও বিদেশের বিপুল সংখ্যক পর্যটকের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের অংশ হিসেবে ঝিন্না ও মাদলা গ্রামে, পান্না জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করা হয়। প্রকৃতির কোলে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা পর্যটকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে। পাশাপাশি, খাজুরাহো বিমানবন্দর থেকে ১০,০০০ ফুট উচ্চতায় স্কাইডাইভিং কার্যক্রম তরুণ পর্যটকদের জন্য হয়ে ওঠে অন্যতম আকর্ষণ।
২২ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত হেরিটেজ ম্যারাথনে ২১ কিমি, ১০ কিমি ও ৫ কিমি দৌড়ে অংশ নেন অসংখ্য দৌড়বিদ। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই দৌড় খাজুরাহোর ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে।
গ্রামীণ ও আদিবাসী সংস্কৃতির স্বাদ পেতে পর্যটকদের জন্য আয়োজন করা হয় ভিলেজ ট্যুর, ই-সাইক্লিং এবং ‘ওয়াক উইথ পারধি’ অভিজ্ঞতা। কুটনি দ্বীপে জলক্রীড়া কার্যক্রম দিনভর বিনোদনের আবহ বজায় রাখে।
উৎসব প্রাঙ্গণে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর খাদ্য স্টলে বুন্দেলখণ্ডের ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং হস্তশিল্প প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। পোড়ামাটির শিল্প, বুন্দেলি চিত্রকলা ও পুঁতির গয়নার সরাসরি প্রদর্শন স্থানীয় কারুশিল্পকে এনে দেয় আলাদা পরিচিতি।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর খাজুরাহো নৃত্য উৎসব প্রমাণ করে দিল—ঐতিহ্য আর রোমাঞ্চ পাশাপাশি চলতে পারে। সংস্কৃতি ও আধুনিক পর্যটনের এই যুগলবন্দিই খাজুরাহোকে গড়ে তুলছে এক নতুন প্রজন্মের অভিজ্ঞতামূলক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে।



