

Published on: ফেব্রু ২৮, ২০২৬ at ১৭:২২
এসপিটি ডিজিটাল ডেস্ক : মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যান–এ চিতা পুনঃপ্রবর্তনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হল। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬–এ কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বতসোয়ানা থেকে আগত ৯টি চিতাকে কুনোর কোয়ারেন্টাইন এনক্লোজারে স্বাগত জানান। এর ফলে ভারতে চিতার মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৯–এ—যার মধ্যে ২৮টিই ভারতে জন্ম নেওয়া শাবক।
মন্ত্রী ‘X’-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, বতসোয়ানা থেকে আসা এই দলে রয়েছে ৬টি স্ত্রী ও ৩টি পুরুষ চিতা। জলবায়ু অভিযোজন ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের পর ধাপে ধাপে বৃহত্তর ভূদৃশ্যে তাদের মুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী–র পরিবেশ–সচেতন নেতৃত্বে প্রজেক্ট চিতা আজ এক উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দৃষ্টান্ত।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভারত সরকার বতসোয়ানা সরকারের সঙ্গে চিতা সংগ্রহ ও স্থানান্তর নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করে। এই উদ্যোগে বতসোয়ানার পরিবেশ ও পর্যটন মন্ত্রকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক স্থানান্তর মানদণ্ড ও লজিস্টিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতীয় প্রতিনিধিদল বতসোয়ানা সফর করে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে।
বৈজ্ঞানিক যাচাই শেষে বতসোয়ানার ঘাঞ্জি অঞ্চল থেকে চিতাগুলি নির্বাচন করে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে গ্যাবোরোনে পশুচিকিৎসা তত্ত্বাবধানে আনা হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু–র বতসোয়ানা সফরের সময় চিতাগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং মোকোলোডি নেচার রিজার্ভে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।
চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষে ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬–এ চিতাগুলিকে গ্যাবোরোন বিমানবন্দর থেকে ভারতের গোয়ালিয়রে আনা হয় ভারতীয় বিমান বাহিনী–র সহায়তায়। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিরাপদ উড়ান সম্পন্ন করে পরে হেলিকপ্টারে কুনোয় স্থানান্তর করা হয়। এই সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রী বিমান বাহিনীর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জানান।
শক্তিশালী বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ও কড়া বৈজ্ঞানিক তত্ত্বাবধানে প্রজেক্ট চিতা এগিয়ে চলেছে। বতসোয়ানা থেকে চিতাদের সফল আগমন ভারতের টেকসই, মুক্তভাবে বিচরণশীল চিতা জনসংখ্যা গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করল—একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সংরক্ষণ প্রচেষ্টায় ভারতের ভূমিকা আরও জোরালো হল।
Published on: ফেব্রু ২৮, ২০২৬ at ১৭:২২



