বসন্ত উৎসবে বারবার উচ্চারিত এক নাম—এটিএসপিবি’র ‘সমরদা’

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

রাজ্য-রাজান্তরের পর্যটন আধিকারিকদের কণ্ঠে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর আনুগত্যের সুর
Published on: মার্চ ৩, ২০২৬ at ১৯:৫৪
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ৩ মার্চ: কলকাতা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এটিএসপিবি আয়োজিত বসন্ত উৎসব ২০২৬ যেন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—পর্যটনের আবেগ, সম্পর্ক আর মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাসের এক উজ্জ্বল দলিল হয়ে উঠল। সেই মঞ্চে, সেই আবহে বারবারই ঘুরে ফিরে এল একটি নাম—সমর ঘোষ। শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা এই মানুষটিই যেন অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্যুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার্স অফ বেঙ্গল-এর নীরব শক্তি, অদৃশ্য অভিভাবক।

সোমবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত বসন্ত উৎসবে রাজস্থান, ছত্তিশগড় ও মেঘালয় পর্যটনের বর্তমান ও প্রাক্তন আধিকারিকদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠল—এটিএসপিবি’র পথচলার সঙ্গে সমর ঘোষের নাম যেন অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজস্থান সরকারের ইনফর্মেশন ব্যুরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (জনসংযোগ ও তথ্য) হিংলাজ দন রতনু তাঁর চিরাচরিত কাব্যিক ভঙ্গিতে বলেন, “সমরদার ডাকেই আজ আবার এখানে হাজির হয়েছি—প্রতিবারই আসি। ২০১৯ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত জয়শলমীরের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের আমি নিজের পরিবারের সদস্য বলেই মনে করি। সমরদা ও তাঁর পুরো টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ।”

কবিতাকে বিশ্বাস আর দর্শন হিসেবে তুলে ধরে তিনি উচ্চারণ করেন—
‘ম্যায় জাহাঁ ধর দুঁ কদম, রাজপথ হ্যায়,
পাঁও মেরে দেখ কর দুনিয়া চলেগি…’

পর্যটনের এই পুরোধাকে প্রণাম জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ৩২ বছর রাজস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করার পর ২০৩০ সালে অবসর নেবেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলা ভারতের “সিলমোহর রাজ্য”—যেখান থেকে সবচেয়ে বেশি পর্যটক ভ্রমণে বেরোন। কারণ বাংলায় পর্যটনকে উৎসবের মতো করে উদযাপন করা হয়।

এরপর ছত্তিশগড় পর্যটনের কলকাতার পর্যটন আধিকারিক চিন্ময় দাশগুপ্ত বলেন, “এটিএসপিবি’র বসন্ত উৎসবে প্রতি বছরই থাকার চেষ্টা করি। সমরদা, সভাপতি সাগর গুহ, যুগ্ম সম্পাদক তারক সাহা ও স্বরূপ ভট্টাচার্য—সহ গোটা টিম যে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতায় পর্যটনের প্রসারে কাজ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বসন্ত উৎসব এখন বাংলার পর্যটন সংস্কৃতির এক জীবন্ত উদযাপন।”

মেঘালয় পর্যটনের কলকাতার প্রাক্তন পর্যটন আধিকারিক সুরজিৎ বসু বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সম্মান জানিয়ে এটিএসপিবি যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই সম্মান আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করল।” এরপরই তিনি যোগ করেন, “এই উদ্যোগের মূল কান্ডারি সমরদা। আমি চাই, ভবিষ্যতে এটিএসপিবি সামাজিক কাজেও আরও বড় ভূমিকা নিক।”

কলকাতায় পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাধিক সংগঠন থাকলেও এটিএসপিবি আলাদা পরিচিতি পেয়েছে একটাই কারণে—এখানে সমর ঘোষ নীরবে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নির্দেশনা, অভিজ্ঞতা ও মানবিক নেতৃত্বেই এগিয়ে চলেছে গোটা সংগঠন। সদস্যরাও তাঁকে সম্মান ও বিশ্বাসের সঙ্গে অনুসরণ করেন।

শারীরিক অসুস্থতাকে অতিক্রম করেও বসন্ত উৎসব ২০২৬-এ তাঁর উপস্থিতি যেন সেই দায়বদ্ধতারই প্রমাণ। পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করা এই মানুষটিই আজ বিভিন্ন রাজ্যের পর্যটন মহলের কাছে হয়ে উঠেছেন বাংলার পর্যটন কর্মকাণ্ডের অন্যতম পুরোধা—সবার প্রিয় ‘সমরদা’।

Published on: মার্চ ৩, ২০২৬ at ১৯:৫৪


শেয়ার করুন