

Published on: জুন ২২, ২০২৬ at ২১:২২
এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২২ জুন: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আজ নবগঠিত রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বহু প্রত্যাশিত এই বাজেটে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো উন্নয়ন, নারী কল্যাণ এবং সরকারি কর্মীদের আর্থিক সুবিধাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেট পেশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় উঠে আসে আগামী দিনের উন্নয়নের একটি বিস্তৃত রূপরেখা। রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে প্রায় ₹৪০,০০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পের কথা জানানো হয়। সরকারের দাবি, আগামী সময়ে এক লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্যও এসেছে বড় ঘোষণা। মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করে মোট ৩৮ শতাংশ করার প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে, যা আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। পাশাপাশি পেনশনভোগীরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
নারী কল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পের জন্য প্রায় ₹৩৬,০০০ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার আর্থিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
বেকার যুবকদের জন্য ‘ভরসা কর্মসূচি’ চালুর ঘোষণা বাজেটের অন্যতম আকর্ষণ। আগামী অক্টোবর থেকে চালু হতে চলা এই প্রকল্পে যোগ্য স্নাতক বেকার যুবক-যুবতীরা মাসিক ₹৩,০০০ এবং অন্যান্য যোগ্য আবেদনকারীরা ₹২,০০০ করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। একইসঙ্গে সরকারি চাকরির আবেদনে বয়সসীমায় পাঁচ বছরের ছাড় দেওয়ারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ও সরকার-পোষিত কলেজের ছাত্রছাত্রীদের এককালীন ₹৩০,০০০ আর্থিক সহায়তা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মেরিট স্কিম চালুর কথা জানানো হয়েছে। এছাড়া ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ১০০ দিনের কাজের জন্য ₹১৪,০০০ কোটি বরাদ্দ এবং জব কার্ডধারীদের জন্য ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বিভাগে ২০ হাজার নতুন নিয়োগের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে কলকাতার বিমান চলাচলের চাপ কমাতে কল্যাণীতে দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা এবং পর্যটন খাতে নতুন উদ্যোগের কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বাজেটকে ঘিরে বিরোধী শিবিরের সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ঘোষণার সংখ্যা বেশি হলেও বাস্তবায়নের রূপরেখা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে শাসকদলের দাবি, এই বাজেট পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের ভিত্তি তৈরি করবে এবং আগামী দিনে শিল্প, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হওয়ায় এর রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট। উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সরকার আগামী দিনের প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এই বাজেট উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং পরিকাঠামো নির্মাণকে কেন্দ্র করে একটি উচ্চাভিলাষী রূপরেখা তুলে ধরেছে। এখন নজর থাকবে ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের দিকে।
Published on: জুন ২২, ২০২৬ at ২১:২২



