ইউরোপ থেকে মুখ ফিরিয়ে এশিয়ায় ঝুঁকছেন ভারতীয় পর্যটকরা: বদলে যাচ্ছে ভ্রমণের মানচিত্র

Main দেশ বিদেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: মে ৩, ২০২৬ at ২৩:৪৪

Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ: ভারতীয় পর্যটকদের পছন্দে বড়সড় পরিবর্তন স্পষ্ট। একসময় বিদেশ ভ্রমণের মানেই ছিল ইউরোপ ট্যুর—ফ্রান্স, ইতালি, সুইজারল্যান্ড ঘোরা। কিন্তু সাম্প্রতিক ট্রাভেল ট্রেন্ড বলছে, সেই জায়গা এখন দ্রুত দখল করে নিচ্ছে এশিয়ার দেশগুলি, বিশেষ করে Japan ও Thailand। খরচ, ভিসা সুবিধা এবং অভিজ্ঞতার বৈচিত্র—এই তিনটি কারণেই এই পরিবর্তন ঘটছে।

২০২৫–২৬ সালের পর্যটন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে প্রায় ১৫–২০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যটকই এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন। জাপানে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, আর থাইল্যান্ডে প্রতি বছর গড়ে ২০–২৫ লাখ ভারতীয় ভ্রমণ করছেন। তুলনায় ইউরোপে ভ্রমণের খরচ ৩০–৪০ শতাংশ বেশি হওয়ায় অনেকেই এখন বিকল্প হিসেবে এশিয়াকেই বেছে নিচ্ছেন।

খরচের দিক থেকে এশিয়ার দেশগুলি ভারতীয়দের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ইউরোপে যেখানে একটি ট্রিপে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে, সেখানে থাইল্যান্ড বা জাপানে তুলনামূলক কম বাজেটে ভ্রমণ সম্ভব। ফ্লাইট খরচ কম, থাকার খরচ সাশ্রয়ী, খাবারের দামও তুলনামূলকভাবে কম—সব মিলিয়ে এটি মধ্যবিত্ত পর্যটকদের জন্য “value for money” হয়ে উঠেছে।

ভিসা প্রক্রিয়ার সহজতাও এই প্রবণতার অন্যতম কারণ। Thailand, Indonesia, Malaysia—এই দেশগুলো ভারতীয়দের জন্য সহজ ভিসা, ই-ভিসা বা ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা দিচ্ছে। অন্যদিকে ইউরোপের Schengen Area ভিসা পেতে সময় লাগে বেশি, খরচও বেশি, আর নিয়মকানুনও বেশ কঠোর। ফলে অনেকেই ঝামেলা এড়িয়ে সহজ গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন।

অভিজ্ঞতার দিক থেকেও এশিয়ার দেশগুলি এখন অনেক এগিয়ে। Japan-এ আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির এক অনন্য মিশেল পাওয়া যায়—টোকিওর ঝলমলে শহর জীবন থেকে কিয়োটোর ঐতিহাসিক মন্দির, আবার চেরি ব্লসমের সময় প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য। অন্যদিকে Thailand-এ রয়েছে সমুদ্র সৈকত, নাইটলাইফ, শপিং ও সাশ্রয়ী বিলাসিতার অভিজ্ঞতা। কম খরচে বেশি অভিজ্ঞতা পাওয়াই এখন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিও এই পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখছে। ভারত থেকে টোকিও, ব্যাংকক, বালি বা সিঙ্গাপুরে এখন সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা বেড়েছে। মাত্র ৪ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া যায়, ফলে সময় ও ক্লান্তি দুটোই কমে। স্বল্প সময়ের ছুটি বা উইকেন্ড ট্রিপের জন্যও এই গন্তব্যগুলি এখন আদর্শ হয়ে উঠছে।

সোশ্যাল মিডিয়াও এই ট্রেন্ডকে আরও ত্বরান্বিত করছে। ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও ট্রাভেল ভ্লগে জাপানের চেরি ব্লসম, থাইল্যান্ডের বিচ লাইফ বা বালির রিসোর্টগুলো ভাইরাল হচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম সেইসব ছবি ও ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে একই অভিজ্ঞতা নিতে চাইছেন।

অন্যদিকে ইউরোপ এখন ধীরে ধীরে অনেকের কাছে “লাক্সারি” বা জীবনে একবার করার মতো ভ্রমণে পরিণত হচ্ছে। উচ্চ খরচ, কঠিন ভিসা প্রক্রিয়া, দীর্ঘ যাত্রা এবং কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভিড়—এই সব কারণেই ইউরোপের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে এই প্রবণতা আরও বাড়বে। এশিয়ার দেশগুলিতে ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা ২৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। জাপান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বালি—এই গন্তব্যগুলি ভবিষ্যতেও শীর্ষে থাকবে। একই সঙ্গে “experience-based travel”—যেখানে খাবার, সংস্কৃতি, ওয়েলনেস বা লোকাল অভিজ্ঞতা গুরুত্ব পায়—সেটিও আরও জনপ্রিয় হবে।

সব মিলিয়ে, ভারতীয় পর্যটকদের ভ্রমণ মানসিকতায় বড় পরিবর্তন ঘটছে। সহজ, সাশ্রয়ী এবং অভিজ্ঞতাপূর্ণ ভ্রমণের খোঁজে তারা এখন ইউরোপ থেকে সরে এসে এশিয়ার দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। এই পরিবর্তনই আগামী দিনের বৈশ্বিক পর্যটন মানচিত্রকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে।

Published on: মে ৩, ২০২৬ at ২৩:৪৪


শেয়ার করুন