LOCKDOWN: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে রাজ্যে আগামিকাল থেকে টানা পাঁচদিন এই আইন জারি

Main ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

২৩ মার্চ বিকেল পাঁচটা থেকে ২৭ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে।

Published on: মার্চ ২২, ২০২০ @ ২৩:৪৫

Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ২২ মার্চঃ রাজ্যবাসীর সুরক্ষার কথা ভেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগামিকাল থেকে রাজ্যে লকডাউন ঘোষণা করল।আগামিকাল অর্থাৎ ২৩ মার্চ বিকেল পাঁচটা থেকে ২৭ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে। বন্ধ থাকবে সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত অফিস-প্রতিষ্ঠান।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ১৯৮৭ সালের এপিডেমিউক ডিসিজ অ্যাক্টের,  ধারা ২,৩ ও ৪ এর অধীন প্রদত্ত ক্ষমতাগুলি, পশ্চিমবঙ্গের মহামারী রোগ, কোভিড-১৯, প্রবিধান, ২০২০ সালে করোনার ভাইরাসজনিত রোগ প্রতিরোধ ও সংরক্ষণের জন্য গঠন করেছে।

এখন, উপরোক্ত বিধিবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদে পাঠ করা ধারা ৭-এর অধীনে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার “সম্পূর্ণ সুরক্ষা বিধিনিষেধ” জারি করেছে ২৩ মার্চ বিকেল ৫টা থেকে ২৭ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত। এই নির্দেশে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে কোঙ্গুলি চালু থাকবে কোন কোন ক্ষেত্রে বন্ধ থাকবে। দেখে নেওয়া যাক-

যেসব বন্ধ থাকবে অর্থাৎ চালু থাকবে না

  1. গণপরিবহন যার মধ্যে ট্যাক্সি, অটো-ট্যাক্সি রয়েছে। এগুলি চলাচল করবে না। তবে এই নির্দেশের বাইরে রাখা হয়েছে বিমানবন্দর, রেল স্টেশন, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড কিংবা টার্মিনালস এবং পন্য পপরিবহন, খাদ্য কিংবা ওষুধ কিংবা অত্যাবশ্যক পন্য পরিবহনের গাড়িকে।
  2. বন্ধ থাকবে সস্মস্ত দোকান, বাণিজ্যিক পরিষেবা, অফিস, কারখানা, ওয়ার্কশপ, গোডাউন প্রভৃতি।
  3. বিদেশ থেকে আসা মানুষজন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যক্তিকে স্থানীয় হেলথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সময়কালের জন্য কঠোর হোম কোয়ারেন্টাইনের অধীনে থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  4.  মানুষজনকে তাদের বাড়িতেই থাকতে বলা হয়েছে এবং খুব বিশেষ প্রয়োজন না হলে তারা যেন বাইরে না বেরোন। সব সময় দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যে সমস্ত জরুরী পরিষেবা এই নির্দেশের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে

  1. আইন-আদালত এবং সংশোধমূলক পরিষেবা।
  2. স্বাস্থ্য পরিষেবা।
  3. পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী।
  4. বিদ্যুৎ, জল এবং সংরক্ষন পরিষেবা।
  5. দমকল, সিভিল ডিফেন্স এবং এমার্জেন্সি পরিষেবা।
  6. টেলিকম, ইন্টারনেট, আইটি এবং আইটিইএস এবং পোস্টাল।
  7. ব্যাঙ্ক এবং এটিএম।
  8. খাবার যার মধ্যে মুদি, সবজি, ফল, মাছ, মাংস, রুটি এবং দুধ, স্টোরেজ এবং পরিবহন।
  9. অনলাইনে মুদি, খাবার কেনা এবং বাড়িতে খাবার সরবরাহ।
  10. পেট্রল পাম্প, অয়েল এজেন্সি, এলপিজি গ্যাস এবং তাদের গোডাউনে যাওয়া পরিবহন।
  11. ওষুধের দোকান, চোখের চিকিৎসার প্রতিষ্ঠান এবং সেখানে পন্য সরবরাহকারী গাড়ির চলাচল।
  12. উৎপাদন ও উৎপাদিত ইউনিটগুলি্র প্রক্রিয়াটির প্রয়োজনীয়তা জেলাশাসকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পরে চলতে পারে।
  13. প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া।
  14. অত্যাবশ্যকীয় পন্যের উৎপাদন প্রক্রিয়া।

সাতজনের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না।

যেখানে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে

  1. কোচবিহার- জেলা শহর
  2. আলিপুরদুয়ার- জেলা শহর, জয়গাঁ শহর
  3. জলপাইগুড়ি- জেলা শহর
  4. কালিম্পং- জেলা শহর
  5. দার্জিলিন- দার্জিলিং, কার্শিয়াং, শিলিগুড়ি শহর
  6. উত্তর দিনাজপুর- গোটা জেলা
  7. দক্ষিণ দিনাজপুর- জেলা শহর
  8. মালদহ- গোটা জেলা
  9. মুর্শিদাবাদ- গোটা জেলা
  10. নদিয়া- গোটা জেলা
  11. বীরভূম- সমস্ত পুরসভা এলাকা
  12. পশ্চিম বর্ধমান- গোটা জেলা
  13. পূর্ব বর্ধমান- জেলা শহর, কালনা শহর, কাটোয়া শহর
  14. পুরুলিয়া- জেলা শহর
  15. বাঁকুড়া- জেলা শহর, বড়জোরা শহর, বিষ্ণুপুর শহর
  16. পশ্চিম মেদিনীপুর- জেলা শহর, খড়্গপুর শহর, ঘাটাল শহর
  17. ঝাড়গ্রাম- জেলা শহর
  18. পূর্ব মেদিনীপুর- জেলা শহর, হলদিয়া শহর, দীঘা শহর, কোলাঘাট শহর এবং কাঁথি শহর
  19. হাওড়া- গোটা জেলা
  20. হুগলি- জেলা শহর, চন্দননগর, কোন্নগর, আরাম্বাগ, শ্রীরামপুর এবং উত্তরপাড়া শহর
  21. দঃ ২৪পরগনা- ডায়মন্ডহারবার, ক্যানিং, সোনারপুর, বারুইপুর, ভাঙর, বজবজ, মহেশতলা
  22. উঃ ২৪ পরগনা- সমস্ত পুরসভা এলাকা সল্টলেক, নিউ টাউন সমেত
  23. কলকাতা- গোটা কর্পোরেশন এলাকা

Published on: মার্চ ২২, ২০২০ @ ২৩:৪৫

 


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

− 2 = 6