কলকাতায় বসেই রাজস্থান পর্যটনের প্রসারে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন সাহিত্যপ্রেমী হিঙ্গলজ দন রতনু

Main দেশ ভ্রমণ রাজ্য
শেয়ার করুন

Published on: মার্চ ১৯, ২০২১ @ ২১:২৭
Reporter: Aniruddha Pal

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১৬ মার্চ:  কলকাতা ভালোবাসার শহর। কলকাতা বন্ধুত্বের শহর। কলকাতা সৌহার্দ্য-মিলনের শহর। কলকাতা সম্প্রীতির শহর।কলকাতা আমার-আপনার সবার শহর। আর এই শহরেই কর্মসূত্রে যোগাযোগ স্থাপন কত মানুষের।কেউ থেকে যান এই শহরের মানুষের অন্তরে, তাদের মনের মণিকোঠায়।এমনই একজন হলেন রাজস্থান পর্যটন বিকাশ নিগমের কলকাতা অফিসের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক রাজস্থানের মহান পরিবারের সন্তান সাহিত্যপ্রেমী সংস্কৃতি মনস্ক হিঙ্গলাজ দন রতনু। করোনা কালেও যিনি কলকাতায় বসেই রাজস্থান পর্যটনকে আবারও সেরার সেরা করতে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন।

সাহিত্যপ্রেমী-সংস্কৃতিমনস্ক হিঙ্গলাজ দন রতনু

সদা হাস্যময় নম্র বিনয়ী সাহিত্যপ্রেমী-সংস্কৃতিমনস্ক হিঙ্গলাজ দন রতনু। বর্তমানে তিনি কলকাতায় রাজস্থান পর্যটন বিকাশ নিগমের দায়িত্বভার সামলাচ্ছেন। একটি বিমান যেমন তার পাইলটের উপর নির্ভর করে ঠিক তেমনই আরটডিসি-র কলকাতার আধিকারিক হিসেবে ঠিক তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ২০১৯ সালে তিনি কলকাতা অফিসের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তারপর থেকে সমানে চালিয়ে যাচ্ছেন তার কর্মকাণ্ড। প্রথম বছর কলকাতা থেকে তিনি বহু পর্যটককে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেই বছর রাজস্থান পর্যটন কলকাতা অফিস থেকে ভালো রকমের লাভের মুখ দেখেছিল। কিন্তু ২০২০ সালে মার্চ মাসের পর তা একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ে। চলতি বছরে আবারও এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছেন হিঙ্গলাজ দন রতনু। তবে হাল ছাড়ার পাত্র তিনি নন।প্রয়াস তিনি জারি রেখেছেন। আশা করছেন, আগামী জুন মাসের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নতি হবে।

ভারতের পর্যটন ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে এক রোল মডেল হতে পারেন

হিঙ্গলাজ দন রতনু এমন একজন পর্যটন আধিকারিক, যিনি ভারতের পর্যটন ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে এক রোল মডেল হতে পারেন।এই মানুষটিকে দেখে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সকলের অনেক কিছু শেখার আছে। কিভাবে কত সহজভাবে স্থির ভাবে শান্ত মনে প্রাণ খুলে বন্ধুর মতো কাস্টমারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের রাজস্থানের পর্যটন সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলা যায় তা অনুকরণযোগ্য।এমনও হয়েছে, রাজস্থানে বেড়াতে গেছে কলকাতা থেকে পর্যটকের দল। সেখানে গিয়ে বিশেষ প্রয়োজনে গভীর রাতে হিঙ্গলাজজিকে ফোন করে সাড়া পেয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায় না।

সংবাদ প্রভাকর টাইমস রাজস্থান পর্যটন বিকাশ নিগমের এই আধিকারিকের মুখোমুখি হয়েছিল। তাঁর জীবনধারা, পর্যটন নিয়ে তাঁর চিন্তা-ভাবনা, কর্মকান্ড নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। কি জানালেন হিঙ্গলাজ দন রতনু, আসুন তাঁর মুখ থেকেই শুনে নেওয়া যাক।

আরটিডিসি-র সঙ্গে যোগসূত্র

“রাজস্থান পর্যটনে আমার আগামন সেই ১৯৯৩ সালে। স্নাতক হওয়ার পর আমি জয়পুরের আই.এইচ.এম সামনের অফিস থেকে পর্যটনের উপর পি জি ডিপ্লোমা করেছিলান, তারপরেই আমার নিযুক্তি হয়ে গেছিল। আমার প্রথম নিয়োগ হয়েছিল রাজস্থানের বিকানীরে।”

রাজস্থান পর্যটনের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক

“মণি ও কাঞ্চনের মতো ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনের সাথে আমার দুর্দান্ত সম্পর্ক রয়েছে, ভ্রমণে অনেক উত্থান-পতন দেখেছি। এটি প্রতিটি পরিস্থিতিতে কাজ করেছে।আমি মনে করি এই সম্পর্ক একদিনে হয় না, যখনই আপনি সেই কাজের প্রতি নিজেকে মনে-প্রাণে যুক্ত করবেন তখন থেকেই তার প্রতি একাত্ম হয়ে যাবেন। আজ রাজস্থান পর্যটনের সঙ্গে আমার সেই মধুর সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে। এজন্য আমি এই পর্যটন বিকাশ নিগমের প্রতিটি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

পর্যটনের বাইরে যুক্ত রেখেছেন নানা ক্ষেত্রে

“আমি কর্মসূত্রে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত হলেও নিজেকে অন্যান্য ক্ষেত্রেও যুক্ত রেখেছি। তা সে সাহিত্য, শিল্প কিংবা সংস্কৃতি সম্পর্কিত কাজ- সবেতেই আমি নিজেকে যুক্ত রেখেছি। কলকাতায় একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছি। কলকাতা প্রেস ক্লাব, রাজভবন, মারওয়াড়ি সমাজ কিংবা বই প্রকাশের মতো নানা অনুষ্ঠানে নিজে হাজির হয়েছি। আমার উদ্দেশ্য একটাই- মানুষের সঙ্গে থাকা, মানুষের মধ্যে থেকে কাজ করা, মানুষের মধ্যে থেকে যোগাযোগ বাড়িয়ে যাওয়া এবং অবশ্যই আমার রাজস্থানের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা।”

কলকাতায় যতদিন আছেন

“আমি গত দুই বছর ধরে কলকাতায় কাজ করছি। এর আগে, বাইরে কোনও পোস্টিং ছিল না তবে পর্যটন ও খাদ্য উৎসব এবং টিটিএফ কলকাতা, ত্রিবান্দ্রম, হায়দরাবাদ, কোচি ইত্যাদি সহ অনেক রাজ্য ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছি। সেখানে আমি রাজস্থানের পরযটনের বিকাশের কথা তুলে ধরেছি।তবে কলকাতায় আমি এখানকার মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা, সহযোগিতা, আশীর্বাদ পেয়ে আসছি। এটাই আমার সবচেয়ে বড় সম্বল।”

পর্যটন নিয়ে ভাবনা-চিন্তা

“পর্যটন সম্পর্কে আমার ধারণা হ’ল পর্যটন পুরো বিশ্বকে এক সুতোয় এক করে দেয় এবং ভারতের পর্যটন নিজের মধ্যে অনন্য কারণ ভারতে অতিথিরা দেবদেবীদের ঐতিহ্যের দর্শন পান।ভারতবর্ষ সারা বিশ্বের সামনে এক আদর্শ কৃষ্টি-সংস্কৃতির মেলবন্ধন। এখানে মানুষ ঘুরতে এলে একদিকে যেমন শান্তির পরশ পান ঠিক তেমনই মনকে তরতাজা করার রসদ পান। আমাদের ভারতবর্ষ তুলে ধরেছে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য। তাই তো কবি লিখেছেন- ‘বিবিধের মাঝে দেখো মিলনও মহান।’ ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি / ও সে আমার জন্মভূমি।’ এমন আরও কত কী।”

যেসব ক্ষেত্রে যুক্ত রয়েছেন

“আমি একজন সরকারি কর্মচারী। চাকরি করেও আমি সামাজিক কাজকর্মে নিজেকে যুক্ত রেখেছি। আমি মনে করি, সামাজিক দায়বদ্ধতা আমাদের সকলেরই আছে। সমাজের মানুষের প্রতি আমাদের সকলেরই কিছু না কিছু দায়িত্ব থেকে যায়। সেই হিসেবে আমি বেশ কিছু ক্ষেত্রে আমি যুক্ত রয়েছি। যার মধ্যে আছে ইনটেক, রোটারি ক্লাব, লায়ন্স ক্লাব, স্বামী কৃষ্ণানন্দ ফাউন্ডেশন, ক্ষত্রিয় সভা, চারনসভা, মারওয়াড়ি যুব মঞ্চ, অল ইন্ডিয়া মারওয়াড়ি সম্মেলন ইত্যাদি।”

পরিবারের প্রভাব যেভাবে পড়েছে

“আমি জাগিরদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। আমাদের একটি সভ্য-সুসংস্কৃতমনস্ক পরিবার, যেখানে আমার দাদা বিকানীরের মহারাজা শ্রী গঙ্গা সিং সাহেবের এডিসি এবং জয়সলমির এবং যোধপুর রাজ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। আমার ঠাকুরদা গৃহস্থ জীবন ত্যাগ করে সন্ন্যাস নিয়েছিলেন। সেইসময় মরিশাস দেশের স্বাধীনতায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, মরিশাস সরকার তাঁর উপর একটি ডাকটিকিট জারি করেছে। আমার পিতা ভাঙওয়ার পৃথ্বীরাজ জি রতনু একজন মহান পণ্ডিত, তিনি বহু বই লিখেছেন এবং রাজস্থানের বিখ্যাত সমাজসেবক। আমার মামা স্বর্গীয় মনুজ দেপাওয়াত অনেক বড় কবি ছিলেন। পরিবারের এই সমস্ত মহান মানুষদের কারণে আমি আজ এত ভাল জায়গায় আসতে পেরেছি এবং সম্মান পাচ্ছি।”

রাজস্থান পর্যটন নিয়ে দেখছেন আশার আলো

“কোভিড-১৯ মহামারী নিয়ন্ত্রণের পরে, রাজস্থান পর্যটন তার পুরনো গৌরব ফিরে আসবে বলে আমি মনে করি। আমি বিশ্বাস করি, রাজস্থান পর্যটন বিকাশ নিগমের গোটা টিম এবঙ্গা আমাদের রাজস্থান সরকার যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে তাতে খুব শিগগিরি আমরা আবার আমাদের পুরনো গরিমা ফিরে পেতে চলেছি। সেই দিন আর বেশি দূরে নেই। রাজস্থান তার ত্যাগের ইতিহাসের পাশাপাশি সভ্যতা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্পও-সাহিত্য, আচার ইত্যাদির কারণে বিশ্বে তার গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করেছে। তাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস খুব অল্প দিনের মধ্যেই আমাদের প্রিয় রাজস্থান ফিরে পাবে তার পুরনো পর্যটন উন্মাদনা। এখানকার পর্যটন ভবিষ্যত সর্বদা উজ্জ্বল এবং তা সবসময় উজ্জ্বলই থাকবে।”

Published on: মার্চ ১৯, ২০২১ @ ২১:২৭


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

69 − = 68