কলকাতায় পুস্তক মেলায় বঙ্গবন্ধুর আলোকে ‘বাংলাদেশ দিবস’ উদযাপিত

Main দেশ বাংলাদেশ রাজ্য
শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সভাপতি শামসুজ্জামান খান সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন বিশ্ব আজ দুইভাগে বিভক্ত একদিকে শোষক, অন্যদিকে শোষিত; আমি শোষিতের পক্ষে।

ষড়যন্ত্রকারীরা যেটা জানত না তা হলো, বঙ্গবন্ধু কোনো ব্যক্তিমাত্র নন, তিনি হলেন একটি আদর্শ ও স্বপ্নের নাম- যাকে কখনোই হত্যা করা যায় না।

Published on: ফেব্রু ১০, ২০২০ @ ২৩:৪৩

এসপিটি নিউজ, কলকাতা, ১০ ফেব্রুয়ারি: এ বছর বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ। সেই উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে সাজো সাজো রব উঠেছে দুই বাংলায়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৪৪তম আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলা। আর সেখানে প্রতিবারের মতো এবারেও ‘বাংলাদেশ দিবস’ উদযাপিত হল সাড়ম্বরে। তবে এবার তা হলো বঙ্গবন্ধুর আলোকে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সহযোগিতায় বইমেলা প্রাঙ্গণের এস.বি.আই. মিলনায়তনে (সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্ক, কলকাতা) ‘জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধু ও সোনার বাংলার স্বপ্নের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক একটি সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত ছিলেন

এই অনুষ্ঠানে ভারত-বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। যাদের মধ্যে ছিলেন- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, এমপি, সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অগ্নি নির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা এবং বন দপ্তরের মন্ত্রী সুজিত বসু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য অসীম কুমার উকিল, এমপি। সেমিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি’র সভাপতি ফরিদ আহমেদ, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশনা ও বিক্রেতা সমিতি’র সভাপতি আরিফ হোসেন, পাবলিশার্স এন্ড বুকসেলার্স গিল্ড, কলকাতার সভাপতি ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায়।

বক্তব্য জুড়ে বঙ্গবন্ধুর কথা

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সভাপতি শামসুজ্জামান খান সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বাংলা একাডেমী’র মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ গৌতম ভদ্র এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, বাংলাদেশ-এর পরিচালক মিনার মনসুর।বক্তাদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে কিছু কথা উঠে আসে।

শামসুজ্জামান খান যা বললেন

শামসুজ্জামান খান তাঁর প্রবন্ধে বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘বিশ্ব আজ দুইভাগে বিভক্ত একদিকে শোষক, অন্যদিকে শোষিত; আমি শোষিতের পক্ষে।’ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার বহু আগে থেকেই তিনি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের কথা বলে আসছিলেন কিন্তু বাংলার মানুষের অীধকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম এবং সেই লক্ষ্যে নয় মাসব্যাপী ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লক্ষ মানুষের আত্মবলিদান, চার লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে বাংলাদেশকে শ্মশানে পরিণত করার পটভূমিকায় সমাজ বদলের মাধ্যমে নতুন করে রাষ্ট্র সমাজ ও অর্থব্যবস্থায় পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের কতক অন্তসার গ্রহণ করে বাংলাদেশের স্বকীয় বৈশিষ্টমন্ডিত শোষিতের গণতন্ত্র তথা সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের রূপকার তাত্ত্বিক উপস্থাপনায় গঠন করেন নতুন একক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, ‘বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল)’। পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের শোষণমূলক ও মানুষে মানুষে আর্থ-সামাজিক বৈষম্যের তিক্ত ইতিহাসের অভিজ্ঞতার আলোকেই তাঁর এই নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রবর্তন।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী যা বললেন

একই সুর উঠে আসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী কে এম খালিদের গলাতেও। সেমিনারে নিজের বক্তব্য রাখতে উঠে তিনি বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি ও ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল বিশ্বের মানচিত্র থেকে। কিন্তু তারা যেটা জানত না তা হলো, বঙ্গবন্ধু কোনো ব্যক্তিমাত্র নন, তিনি হলেন একটি আদর্শ ও স্বপ্নের নাম- যাকে কখনোই হত্যা করা যায় না। তবে প্রমাণ হলো, দীর্ঘ দু’দশকের অব্যাহত যড়যন্ত্র সত্তে¡ও সেই রক্তসমুদ্রের ভেতর থেকে বঙ্গবন্ধুতনয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শুধু প্রবলভাবে ঘুরেই দাঁড়ায়নি, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সফল বাস্তবায়নের পথে অনেক দূর এগিয়েও গেছে। অনিবার্যভাবে এই পুনরুজ্জীবনের মূল প্রেরণাও বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

যার আদলে বাংলাদেশের প্যাভেলিয়ন নির্মিত হয়

এবারের পুস্তক মেলায় ‘বাংলাদেশ প্যাভেলিয়ন’ নির্মিত হয়েছে শান্তিনিকেতনে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ ভবন’ এর আদলে। পুস্তক মেলায় সরকারি ও বেসরকারি ৪০টি স্টল অংশগ্রহণ করে। সরকারি স্টল সমূহ হলো: বাংলা একাডেমী, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, শিশু একাডেমী, বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র।

সবশেষে বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসের প্রথম সচিব (প্রেস)মোঃ মোফাকখারুল ইকবাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এখবর জানিয়েছেন।

Published on: ফেব্রু ১০, ২০২০ @ ২৩:৪৩

 


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

46 − = 38